সিনিয়র শিক্ষক
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
বিশ্ব কন্যা শিশু দিবস
বিশ্ব কন্যা শিশু দিবস একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দিবস। প্রতি বছর ১১ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালন করা হয়। কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং সমাজে তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দিবসটি পালিত হয়। ২০১১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং ২০১২ সাল থেকে দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন শুরু হয়। একটি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভর করে সে দেশের নারী ও কন্যাশিশুদের অবস্থানের ওপর। তাই কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষা করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়, বরং সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একটি কন্যাশিশু জন্মের পর থেকেই পরিবার ও সমাজের ভালোবাসা, যত্ন, শিক্ষা এবং নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজের অনেক স্থানে এখনো কন্যাশিশুরা বৈষম্য ও অবহেলার শিকার হয়। অনেক পরিবারে ছেলেসন্তানের তুলনায় মেয়েসন্তানকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও কন্যাশিশুর পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়, বাল্যবিবাহের শিকার হতে হয় এবং নানা ধরনের সামাজিক কুসংস্কার ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়। এসব সমস্যা কন্যাশিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে এবং তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে অনিশ্চিত করে তোলে। অথচ যথাযথ সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে কন্যাশিশুরাও শিক্ষা, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, সাহিত্য, খেলাধুলা, রাজনীতি এবং অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে পারে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, নারী চিকিৎসক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, খেলোয়াড় এবং বিভিন্ন পেশায় সফল নারীদের অবদান কন্যাশিশুদের সামনে অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তাই প্রতিটি কন্যাশিশুকে মানসম্মত শিক্ষা, পুষ্টিকর খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পরিবেশ এবং নিজের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে এবং নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পরিবারে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য করা উচিত নয়। বাবা-মাকে কন্যাশিশুর স্বপ্ন ও প্রতিভাকে বিকশিত করার সুযোগ করে দিতে হবে'
৮
৮ মন্তব্য