Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:১৬ অপরাহ্ণ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ২০২৭: আবেদন করার নিয়ম, যোগ্যতা, ফি ও শেষ তারিখ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে যারা বিস্তারিত জানতে চান, তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী স্নাতক, স্নাতকোত্তর, বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্সের গ্র্যাজুয়েট এবং এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত গবেষকেরা এই সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এবং আবেদন করার শেষ সময় ১২ নভেম্বর ২০২৬।

📌📌জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন বিষয়ক সকল তথ্য জেনে নিন(পিডিএফ)


































































































































































































































জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দীর্ঘদিন পড়াশোনা শেষ করে যাঁরা ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তাঁদের অনেকেরই সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন ২০২৭-এর রেজিস্ট্রেশন কীভাবে করতে হবে, কোন সালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন, সমাবর্তনের ফি কত, মূল সনদ আগে সংগ্রহ করা থাকলে আবার সনদ ফি দিতে হবে কি না এবং আবেদন সম্পন্ন করার পর কী করতে হবে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।

এই নির্দেশিকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য, আবেদন করার নিয়ম, যোগ্যতার তালিকা, ফি, পেমেন্ট পদ্ধতি, আবেদনসংক্রান্ত সতর্কতা এবং সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে সমাবর্তনে অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা নিজের যোগ্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ২০২৭-এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেওয়া উচিত। এতে আবেদন শুরুর তারিখ, শেষ সময়, নিবন্ধন ফি এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সম্পর্কে সহজেই ধারণা পাওয়া যাবে।

সমাবর্তনের নাম: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭।

সমাবর্তনের নির্ধারিত তারিখ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৭।

অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরুর তারিখ: ১২ অক্টোবর ২০২৬।

রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ: ১২ নভেম্বর ২০২৬।

রেজিস্ট্রেশন ফি: ৪,০০০ টাকা অথবা ৪০ মার্কিন ডলার।

সনদ ফি: প্রতিটি সনদের জন্য ৮০০ টাকা অথবা ১০ মার্কিন ডলার। তবে আগে মূল সনদ গ্রহণ করা থাকলে সংশ্লিষ্ট সনদের জন্য আবার এই ফি দিতে হবে না।

অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ওয়েবসাইট: https://convocation.nu.ac.bd/

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: https://www.nu.ac.bd/

রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত ই-মেইল: [email protected]

সমাবর্তনের নির্ধারিত সময়, ভেন্যু এবং পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠানসূচি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করলেই অনুষ্ঠানস্থল, প্রবেশপত্র সংগ্রহ বা গাউন বিতরণের সব নির্দেশনা জানা হয়ে যায় না। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন কী?

সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী গ্র্যাজুয়েট ও গবেষকদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করার প্রক্রিয়া। শিক্ষাজীবনের নির্দিষ্ট পর্যায় শেষ করে ডিগ্রি অর্জনের পর বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য সাধারণত আলাদা নিবন্ধন প্রয়োজন হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭-এর ক্ষেত্রেও নির্ধারিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা পাসের বছর বা ডিগ্রি অর্জনের সময়সীমার মধ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করেছেন বলেই সবাই এই সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন, এমন নয়। প্রত্যেক আবেদনকারীকে নিজের কোর্স, পরীক্ষার নাম এবং উত্তীর্ণ হওয়ার বছর অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, স্নাতক সম্মান বা স্নাতক পাসের ক্ষেত্রে যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা এমবিএ, মাস্টার্স ফাইনাল কিংবা অন্য কোনো প্রফেশনাল কোর্সের সময়সীমার সঙ্গে এক নয়। তাই একজন অনার্স গ্র্যাজুয়েটের যোগ্যতা যাচাইয়ের নিয়ম অন্য কোর্সের গ্র্যাজুয়েটের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রয়োগ করা যাবে না।

রেজিস্ট্রেশনের উদ্দেশ্য হলো সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীদের তথ্য সংগ্রহ করা, তাঁদের যোগ্যতা যাচাই করা, নির্ধারিত ফি গ্রহণ করা এবং পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় নিবন্ধন সম্পন্ন করা। এ কারণে আবেদন করার সময় সঠিক তথ্য দেওয়া এবং পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ২০২৭ কবে অনুষ্ঠিত হবে?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এই তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।

অনেক শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ২০২৬, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন কবে হবে অথবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের তারিখ লিখে অনুসন্ধান করেন। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন: সমাবর্তনের বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ সালে প্রকাশিত হলেও নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

অর্থাৎ, রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর থেকে, কিন্তু দ্বিতীয় সমাবর্তনের নির্ধারিত তারিখ ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি।

সমাবর্তনের অনুষ্ঠানস্থল, শুরুর সময়, প্রবেশের নিয়ম, গাউন বিতরণ এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক তথ্য পরবর্তী নির্দেশনায় জানানো হতে পারে। তাই আবেদন করার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত দেখা উচিত।

কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ভিন্ন তারিখ দেখলে সেটিকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য যাচাই করতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন লিংক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭-এর অনলাইন নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইট হলো:

https://convocation.nu.ac.bd/

আবেদন করার সময় সরাসরি এই ঠিকানা ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। গুগলে সার্চ করে পাওয়া কোনো অপরিচিত ওয়েবসাইটে নিজের রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা পেমেন্টসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার আগে সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোর্টাল কি না যাচাই করুন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ওয়েবসাইট https://www.nu.ac.bd/ থেকেও সমাবর্তনসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা যাবে। মূল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনা এবং সমাবর্তনের নির্ধারিত পোর্টালে প্রদর্শিত তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

রেজিস্ট্রেশন লিংকে প্রবেশ করার পর যদি পোর্টাল খুলতে সমস্যা হয়, তাহলে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন। একসঙ্গে অনেক আবেদনকারী প্রবেশ করলে ওয়েবসাইটে সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ওয়েবসাইট না খুললে তৃতীয় পক্ষের কোনো পেজে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া বা অচেনা কাউকে টাকা পাঠানো উচিত নয়।

রেজিস্ট্রেশনের আগে অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। বিশেষ করে নিজের কোর্সের নাম, পাসের বছর, ফি, আবেদনের শেষ তারিখ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিশ্চিত করে নিন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে কারা অংশগ্রহণ করতে পারবেন?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭-এ অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে পরীক্ষার ধরন এবং উত্তীর্ণ হওয়ার বছরের ভিত্তিতে। সব কোর্সের জন্য একই পাসের বছর প্রযোজ্য নয়। তাই আবেদনকারীদের নিজের ডিগ্রির সঙ্গে বিজ্ঞপ্তির তালিকা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নিচে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা কোর্স ও পাসের বছরগুলো সাজিয়ে দেওয়া হলো।

ক্রমিক

পরীক্ষার নাম

যোগ্য পাসের বছর

১

স্নাতক পাস

২০১৩–২০২৪

২

স্নাতক সম্মান

২০১৩–২০২৪

৩

মাস্টার্স ফাইনাল

২০১৩–২০২৩

৪

বিবিএ

২০১৩–২০২৩

৫

এমএড

২০১৩–২০২৩

৬

বিএসসি ইন সিএসই

২০১৩–২০২৩

৭

এলএলবি ফাইনাল

২০১৩–২০২৩

৮

বিএফএ অনার্স ও পাস

২০১৩–২০২৩

৯

এমবিএ

২০১৩–২০২২

১০

বিএড অনার্স

২০১৪–২০২৩

১১

বিএসসি ইন ইসিই

২০১২–২০২৩

১২

এমএসসি ইন সিএসই

২০১১–২০২২

১৩

বিবিএ ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট

২০১৯–২০২৩

১৪

বিএসসি অনার্স ইন অ্যারোনটিক্যাল অ্যান্ড এভিয়েশন সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং

২০২০–২০২৪

১৫

বিবিএ ইন এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট

২০২০–২০২৪

১৬

অনার্স ইন থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ

২০১৯–২০২২

১৭

বিএসসি অনার্স ইন এফডিটি

২০২২–২০২৩

১৮

বিএসসি অনার্স ইন এএমটি

২০২২–২০২৩

১৯

বিএসসি অনার্স ইন কেএমটি

২০২২–২০২৩

২০

এমবিএ ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট

২০২২–২০২৩

২১

মাস্টার্স ইন অ্যাপ্লাইড ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ ম্যানেজমেন্ট

২০১৬–২০২৩

২২

মাস্টার্স ইন মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম

২০২০–২০২২

২৩

এমপিএড

২০২০–২০২৩

২৪

এমএসএড

২০১০–২০২৪

২৫

অন-ক্যাম্পাস এমএএস

২০১৬–২০২৫

২৬

অন-ক্যাম্পাস এএমবিএ

২০১৬–২০২৫

২৭

এমফিল ডিগ্রিপ্রাপ্ত গবেষক

২০১৬–২০২৫

২৮

পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত গবেষক

২০১৬–২০২৫

গুরুত্বপূর্ণ: এই তালিকাটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭-এর বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা কোর্স ও সময়সীমার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। কোনো কোর্সের নাম বা পাসের বছর নিয়ে সন্দেহ থাকলে মূল বিজ্ঞপ্তি দেখে নিশ্চিত হোন। একই কোর্সের ভিন্ন পর্যায় বা ডিগ্রির ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা হতে পারে।

স্নাতক পাস ও স্নাতক সম্মান গ্র্যাজুয়েটদের যোগ্যতা

যাঁরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক পাস বা স্নাতক সম্মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁদের জন্য নির্ধারিত পাসের বছর ২০১৩ থেকে ২০২৪। এই সময়সীমার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কোর্স নির্বাচন করে রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে নিজের যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, কেউ ২০১৮ সালে অনার্স সম্পন্ন করেছেন, আবার কেউ ২০২৩ সালে ডিগ্রি পাস করেছেন। তাঁদের দুজনেরই কোর্স ও পাসের বছর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পড়ে। তবে চূড়ান্ত যোগ্যতা পোর্টাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে, কেউ যদি ২০১২ সালে স্নাতক সম্মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে থাকেন, তাহলে শুধু এই তালিকার ভিত্তিতে নিজেকে যোগ্য ধরে নেওয়া যাবে না। কারণ স্নাতক পাস ও সম্মানের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ২০১৩ সাল থেকে শুরু হয়েছে।

মাস্টার্স ফাইনাল ও এমবিএ গ্র্যাজুয়েটদের যোগ্যতা

মাস্টার্স ফাইনাল এবং এমবিএর পাসের বছর আলাদা করে যাচাই করা জরুরি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষার ক্ষেত্রে ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে উত্তীর্ণদের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, এমবিএর ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল।

এখানে মনে রাখতে হবে, মাস্টার্স ফাইনাল এবং এমবিএ একই ডিগ্রি নয়। কেউ একটি কোর্সে যোগ্য হলেই অন্য কোর্সের জন্যও যোগ্য হবেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

আবেদনকারীকে নিজের সনদে উল্লেখ করা ডিগ্রির নাম এবং পাসের বছর অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। বিশেষ করে প্রফেশনাল প্রোগ্রাম বা অন-ক্যাম্পাস প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের সাধারণ মাস্টার্সের নিয়মের সঙ্গে নিজের কোর্সের নিয়ম গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

প্রফেশনাল কোর্সের শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স পরিচালিত হয়। এর মধ্যে বিবিএ, বিএড, বিএসসি ইন সিএসই, বিএসসি ইন ইসিই, এভিয়েশন-সংশ্লিষ্ট কোর্স, থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ এবং অন্যান্য বিশেষায়িত প্রোগ্রাম রয়েছে।

এসব কোর্সের ক্ষেত্রে সমাবর্তনের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে আলাদা আলাদা সময়সীমায়। তাই শুধু কোর্সের নাম মিলিয়ে আবেদন করলেই হবে না; সংশ্লিষ্ট পাসের বছরও মিলতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, বিএসসি ইন ইসিইয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা ২০১২ থেকে ২০২৩। আবার এমএসসি ইন সিএসইয়ের ক্ষেত্রে সময়সীমা ২০১১ থেকে ২০২২। একইভাবে এভিয়েশন-সংশ্লিষ্ট কোর্সগুলোর জন্য ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার কোর্স যদি তালিকায় থাকে, তাহলে নিজের পাসের বছর মিলিয়ে পরবর্তী ধাপে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।

এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের যোগ্যতা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত গবেষকদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ডিগ্রি অর্জন বা অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত গবেষকদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকদের ক্ষেত্রে সাধারণ স্নাতক বা মাস্টার্সের পাসের বছরের নিয়ম প্রয়োগ করা ঠিক নয়। তাঁদের ডিগ্রি অর্জনের ধরন এবং বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সময়সীমা অনুসারে যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।

যদি গবেষণার ডিগ্রি অর্জনের বছর, অ্যাওয়ার্ডের তারিখ অথবা নথিতে উল্লেখ করা তথ্য নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকে, তাহলে রেজিস্ট্রেশন পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত যোগাযোগমাধ্যমে সহায়তা নিন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন ২০২৭-এর রেজিস্ট্রেশন ফি কত?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন ফি সম্পর্কে আবেদনকারীদের সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন থাকে, তা হলো মোট কত টাকা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি এবং সনদ ফি আলাদা করে বুঝতে হবে।

দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭-এর জন্য নির্ধারিত ফি হলো:

ফির ধরন

নির্ধারিত পরিমাণ

সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন ফি

৪,০০০ টাকা

বিকল্প বৈদেশিক মুদ্রার ফি

৪০ মার্কিন ডলার

প্রতিটি সনদের ফি

৮০০ টাকা

প্রতিটি সনদের বিকল্প ফি

১০ মার্কিন ডলার

রেজিস্ট্রেশন ফি এবং সনদ ফি এক বিষয় নয়। রেজিস্ট্রেশন ফি সমাবর্তনে অংশগ্রহণের নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত। অন্যদিকে, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সনদ সংগ্রহের জন্য সনদ ফি প্রযোজ্য হতে পারে।

যাঁরা আগে থেকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সনদ সংগ্রহ করেছেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট সনদের জন্য আবার সনদ ফি দিতে হবে না। তবে রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে।

আগে মূল সনদ সংগ্রহ করা থাকলে কত টাকা দিতে হবে?

আপনি যদি ইতোমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মূল সনদ সংগ্রহ করে থাকেন, তাহলে সেই সনদের জন্য আবার ৮০০ টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি ৪,০০০ টাকা প্রযোজ্য হবে।

অন্যদিকে, আপনার ক্ষেত্রে যদি সনদ ফি প্রযোজ্য হয়, তাহলে মোট অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে কতটি সনদের জন্য ফি দিতে হবে তার ওপর।

উদাহরণ হিসেবে, একজন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একটি সনদের ফি প্রযোজ্য হলে মোট হিসাব হবে:

রেজিস্ট্রেশন ফি = ৪,০০০ টাকা

একটি সনদের ফি = ৮০০ টাকা

মোট = ৪,৮০০ টাকা।

যদি দুটি সনদের জন্য ফি প্রযোজ্য হয়, তাহলে হিসাব হবে:

রেজিস্ট্রেশন ফি = ৪,০০০ টাকা

দুটি সনদের ফি = ১,৬০০ টাকা

মোট = ৫,৬০০ টাকা।

এগুলো কেবল হিসাব বোঝানোর উদাহরণ। আপনার ক্ষেত্রে কতটি সনদের ফি প্রযোজ্য হবে, তা রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে প্রদর্শিত তথ্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে। আগে মূল সনদ সংগ্রহ করে থাকলে একই সনদের জন্য আবার ফি যোগ করবেন না।

রেজিস্ট্রেশন ফি কি ফেরত পাওয়া যাবে?

ফি ফেরত, আবেদন বাতিল অথবা ভুল পেমেন্টের ক্ষেত্রে অর্থ ফেরতের নিয়ম কী, তা নিশ্চিত না হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি বা পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করা, একই আবেদন বারবার জমা দেওয়া কিংবা পেমেন্টের সময় অনিশ্চিত অবস্থায় একাধিকবার টাকা পাঠানো এড়িয়ে চলুন। পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর নিশ্চিতকরণ বার্তা, লেনদেনের নম্বর এবং রসিদ সংরক্ষণ করুন।

কোনো পেমেন্টের অর্থ কেটে নেওয়া হলেও আবেদন সম্পন্ন হয়েছে কি না বোঝা না গেলে প্রথমে পোর্টালের অবস্থা যাচাই করুন। প্রয়োজনে নির্ধারিত পেমেন্ট সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করুন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত তথ্য, পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং পেমেন্টের ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা ভালো। এতে আবেদন করার সময় ভুলের আশঙ্কা কমে এবং প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।

নিচে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার প্রধান ধাপগুলো ব্যাখ্যা করা হলো। পোর্টালের পর্দায় দেখানো ধাপ বা ঘরের নাম ভিন্ন হলে সেখানকার বর্তমান নির্দেশনাকে অগ্রাধিকার দেবেন।

ধাপ ১: অফিসিয়াল রেজিস্ট্রেশন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

প্রথমে মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার খুলুন। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

লিংক: https://convocation.nu.ac.bd/

ওয়েবসাইট খোলার পর পোর্টালে সমাবর্তন নিবন্ধনসংক্রান্ত নির্দেশনা, আবেদন করার অপশন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পাবেন। আবেদন শুরু করার আগে নির্দেশনাগুলো পড়ুন।

ওয়েবসাইটের ঠিকানা ঠিক আছে কি না যাচাই করুন। একই রকম নাম ব্যবহার করা কোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

ধাপ ২: নিজের কোর্স ও পাসের বছর যাচাই করুন

রেজিস্ট্রেশনের আগে নিজের ডিগ্রির নাম এবং উত্তীর্ণ হওয়ার বছর বিজ্ঞপ্তির তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

আপনি যদি অনার্স সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে স্নাতক সম্মানের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ করুন। মাস্টার্স, এমবিএ, বিএড, বিএসসি ইন সিএসই কিংবা অন্য কোনো প্রফেশনাল কোর্সের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোর্সের নির্ধারিত সময়সীমা ব্যবহার করুন।

এই ধাপে ভুল কোর্স নির্বাচন করলে পরবর্তী সময়ে তথ্য যাচাই বা আবেদন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই অনুমান করে কোনো কোর্স নির্বাচন করবেন না।

ধাপ ৩: শিক্ষাগত তথ্য দিন

পোর্টালে যে শিক্ষাগত তথ্য চাওয়া হবে, সেগুলো নিজের মূল নথি দেখে পূরণ করুন। সাধারণত রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পরীক্ষার নাম এবং পাসের বছর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে কোন ঘরে কী তথ্য দিতে হবে, তা পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে। কোনো ঘরে তথ্যের ফরম্যাট নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকলে সেটি অনুসরণ করুন।

রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর এক নয়। দুটি নম্বর আলাদা করে যাচাই করুন। কোনো নম্বরের আগে শূন্য থাকলে সেটি বাদ পড়ছে কি না খেয়াল রাখুন।

শিক্ষাগত তথ্য জমা দেওয়ার পর পোর্টাল যদি যোগ্যতা যাচাইয়ের ফলাফল দেখায়, তাহলে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে সেটি বুঝে নিন। তথ্য মেলেনি বলে আবেদন আটকে গেলে বারবার এলোমেলো তথ্য দিয়ে চেষ্টা না করে নিজের মূল নথি যাচাই করুন।

ধাপ ৪: ব্যক্তিগত ও যোগাযোগের তথ্য পূরণ করুন

পোর্টালে ব্যক্তিগত তথ্য বা যোগাযোগের ঠিকানা চাওয়া হলে সঠিকভাবে পূরণ করুন। বিশেষ করে মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানা এমনভাবে দিতে হবে, যাতে প্রয়োজন হলে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।

ভুল মোবাইল নম্বর দিলে আবেদনসংক্রান্ত বার্তা বা পরবর্তী নির্দেশনা পেতে অসুবিধা হতে পারে। একইভাবে ভুল ই-মেইল দিলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনার কাছে না-ও পৌঁছাতে পারে।

যদি নামের বানান, জন্মতারিখ বা অন্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি থাকে, তাহলে নিজের নথি ও পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন। কোনো তথ্য অনুমান করে পরিবর্তন করবেন না।

ধাপ ৫: প্রয়োজনীয় তথ্য পুনরায় পরীক্ষা করুন

আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য একবার ভালোভাবে যাচাই করুন। বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:

  • পরীক্ষার নাম সঠিক কি না।

  • পাসের বছর ঠিক আছে কি না।

  • রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিক কি না।

  • ব্যক্তিগত তথ্যের বানান ঠিক আছে কি না।

  • যোগাযোগের মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল সঠিক কি না।

  • পোর্টালে প্রদর্শিত ফি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফির সঙ্গে মিলছে কি না।

একবার আবেদন জমা হয়ে গেলে কোনো তথ্য সংশোধন করা যাবে কি না, তা পোর্টালের নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই সাবমিট করার আগে তথ্য যাচাই করা সবচেয়ে নিরাপদ।

ধাপ ৬: নির্ধারিত ফি যাচাই করুন

আবেদনকারীর ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ফি এবং সনদ ফি কত হবে, তা পোর্টালে প্রদর্শিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

যাঁরা আগে মূল সনদ সংগ্রহ করেছেন, তাঁদের একই সনদের জন্য আবার সনদ ফি দেওয়ার কথা নয়। পোর্টালে ফির হিসাব প্রত্যাশার সঙ্গে না মিললে পেমেন্ট করার আগে বিষয়টি যাচাই করুন।

ফি নিয়ে সন্দেহ থাকলে অনুমানের ভিত্তিতে পেমেন্ট করবেন না। মূল বিজ্ঞপ্তি পড়ুন এবং প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করুন।

ধাপ ৭: অনলাইনে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন

রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করুন। বিজ্ঞপ্তিতে সোনালী সেবা, মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং নির্ধারিত ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্টের সুযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

পেমেন্ট করার আগে নিশ্চিত হোন যে আপনি সঠিক আবেদন এবং সঠিক ফির পরিমাণের জন্য অর্থ পরিশোধ করছেন।

পেমেন্টের সময় নেটওয়ার্ক সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে আবার টাকা পাঠাবেন না। প্রথমে লেনদেনের অবস্থা পরীক্ষা করুন। টাকা কেটে নেওয়া হলে লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন এবং পোর্টালে পেমেন্টের অবস্থা যাচাই করুন।

ধাপ ৮: আবেদন সম্পন্ন হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন

ফি পরিশোধের পর পোর্টালে আবেদন সফল হয়েছে কি না যাচাই করুন। কেবল টাকা কেটে নেওয়া মানেই সব ক্ষেত্রে আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে—এমন ধরে নেওয়া উচিত নয়।

পোর্টালে সফল নিবন্ধনের বার্তা, আবেদন নম্বর, রসিদ অথবা অন্য কোনো নিশ্চিতকরণ তথ্য প্রদর্শিত হলে সেটি সংরক্ষণ করুন।

যদি আবেদন অসম্পূর্ণ দেখায় বা পেমেন্টের অবস্থা অস্পষ্ট থাকে, তাহলে পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। প্রয়োজনে নির্ধারিত সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করুন।

ধাপ ৯: রেজিস্ট্রেশন স্লিপ ও পেমেন্টের রসিদ সংরক্ষণ করুন

আবেদন সম্পন্ন হলে পোর্টালে যে রেজিস্ট্রেশন স্লিপ বা পেমেন্ট রসিদ পাওয়া যায়, তা ডাউনলোড করে রাখুন। প্রয়োজন হলে প্রিন্ট কপিও সংরক্ষণ করুন।

ফাইলগুলো এমন জায়গায় রাখুন, যাতে পরবর্তী সময়ে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। নিজের মোবাইল বা কম্পিউটারে একটি কপি রাখার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে আরেকটি কপি সংরক্ষণ করতে পারেন।

সমাবর্তনের পরবর্তী কার্যক্রম, প্রবেশপত্র, গাউন সংগ্রহ বা নিবন্ধন যাচাইয়ের সময় এসব নথির প্রয়োজন হতে পারে। তবে কোন নথি কখন লাগবে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।

মোবাইল দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

অনেক শিক্ষার্থীর কাছে কম্পিউটার নেই। তাঁরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন নিবন্ধন সম্পন্ন করতে চান। অফিসিয়াল পোর্টাল মোবাইল ব্রাউজারে সঠিকভাবে কাজ করলে ফোন থেকেই প্রয়োজনীয় ধাপগুলো অনুসরণ করা সম্ভব হতে পারে।

প্রথমে মোবাইলের ব্রাউজার খুলে https://convocation.nu.ac.bd/ ঠিকানায় প্রবেশ করুন। ওয়েবসাইট পুরোপুরি লোড হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন শুরু করুন।

মোবাইল দিয়ে আবেদন করার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার।

প্রথমত, ইন্টারনেট সংযোগ স্থিতিশীল রাখুন। আবেদন ফরম পূরণের মাঝখানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে তথ্য সংরক্ষণে সমস্যা হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর কপি করে বসানোর আগে ভালোভাবে যাচাই করুন। ভুল নম্বর দিলে যোগ্যতা যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে।

তৃতীয়ত, পেমেন্ট করার সময় মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ বা অন্য পেমেন্ট মাধ্যমের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কোনো পেমেন্টের অবস্থা নিশ্চিত না হয়ে একই পরিমাণ টাকা বারবার পাঠাবেন না।

চতুর্থত, আবেদন সফল হলে রসিদ বা স্লিপ ডাউনলোড করে ফোনে সংরক্ষণ করুন। সম্ভব হলে ফাইলটি ই-মেইল বা অন্য নিরাপদ স্থানে ব্যাকআপ রাখুন।

পঞ্চমত, পোর্টাল যদি মোবাইলে সঠিকভাবে কাজ না করে, তাহলে অন্য ব্রাউজার ব্যবহার করে দেখতে পারেন। প্রয়োজন হলে কম্পিউটার থেকে আবেদন সম্পন্ন করুন বা বিশ্বস্ত কারও সহায়তা নিন।

মনে রাখবেন, মোবাইল দিয়ে আবেদন করা আর ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করা এক বিষয় নয়। ডিভাইস যেটিই হোক, শিক্ষাগত তথ্য ও পেমেন্টের সঠিকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন পেমেন্ট পদ্ধতি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের ফি পরিশোধের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে একাধিক পেমেন্ট মাধ্যমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীরা পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী উপযুক্ত মাধ্যম বেছে নিতে পারবেন।

প্রধান পেমেন্ট মাধ্যমগুলো হলো:

সোনালী সেবা: বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যেতে পারে।

মোবাইল ব্যাংকিং: পোর্টালে অনুমোদিত মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যবহার করে পেমেন্ট করা যাবে। নির্দিষ্ট মাধ্যমের প্রাপ্যতা পোর্টালে যাচাই করুন।

ইন্টারনেট ব্যাংকিং: পোর্টালে এই সুবিধা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।

ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড: বিজ্ঞপ্তিতে মাস্টারকার্ড, ভিসা, অ্যামেক্স ও নেক্সাসসহ নির্ধারিত কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পেমেন্টের মাধ্যম নির্বাচন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদ্ধতিতে লেনদেনের সীমা, চার্জ বা অন্য কোনো শর্ত প্রযোজ্য কি না যাচাই করুন। পেমেন্টের ক্ষেত্রে পোর্টালে প্রদর্শিত চূড়ান্ত নির্দেশনাই অনুসরণ করতে হবে।

পেমেন্ট করার সময় যে সতর্কতাগুলো মানতে হবে

পেমেন্ট করার সময় নিজের আবেদনসংক্রান্ত তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ যাচাই করুন। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে ট্রানজ্যাকশন আইডি, রসিদ বা নিশ্চিতকরণ বার্তা সংরক্ষণ করুন।

কোনো অপরিচিত ব্যক্তির ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে সমাবর্তনের ফি পাঠাবেন না। ফেসবুক পোস্ট, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে কেউ টাকা পাঠানোর নির্দেশ দিলে সেটি অফিসিয়াল পোর্টালের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

পেমেন্টের পর পোর্টালে আবেদন সফল হয়েছে কি না দেখুন। পেমেন্ট ব্যর্থ হলে বা টাকা কেটে নেওয়ার পরও আবেদন সম্পন্ন না হলে নিজের লেনদেনের তথ্য নিয়ে নির্ধারিত সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করুন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন করতে কী কী তথ্য প্রয়োজন?

সমাবর্তন নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পোর্টালের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে। আবেদন করার আগে নিজের শিক্ষাগত ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রস্তুত রাখা ভালো।

সাধারণভাবে নিচের তথ্যগুলো হাতে রাখা উপকারী:

  • পরীক্ষার নাম।

  • পাসের বছর।

  • রোল নম্বর।

  • রেজিস্ট্রেশন নম্বর।

  • নিজের নামের সঠিক বানান।

  • সচল মোবাইল নম্বর।

  • সচল ই-মেইল ঠিকানা।

  • মূল সনদ সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, সেই তথ্য।

  • পেমেন্ট করার উপযুক্ত ব্যবস্থা।

  • পোর্টালে চাওয়া অন্য কোনো তথ্য বা নথি।

এ তালিকার সব তথ্য প্রতিটি আবেদনকারীর জন্য একইভাবে বাধ্যতামূলক—এমন নয়। পোর্টালে যে তথ্য বা নথি চাওয়া হবে, সেটিই অনুসরণ করতে হবে।

যদি কোনো স্ক্যান কপি বা ছবি আপলোড করার নির্দেশনা থাকে, তাহলে নির্ধারিত ফরম্যাট, ফাইলের আকার এবং ছবির শর্ত মেনে প্রস্তুত করুন। নির্দেশনায় না থাকলে অপ্রয়োজনীয় নথি আপলোড করবেন না।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন আবেদন ফরম পূরণ করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তথ্যের সঠিকতা। অনেক আবেদনকারী দ্রুত ফরম পূরণ করতে গিয়ে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পরীক্ষার নাম কিংবা পাসের বছর ভুল লিখে ফেলেন। এ ধরনের ভুল আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

প্রথমে ফরমে যে তথ্য চাওয়া হচ্ছে, তা বুঝে নিন। এরপর নিজের মূল নথি দেখে তথ্য লিখুন। অনুমানের ভিত্তিতে কোনো তথ্য পূরণ করবেন না।

পরীক্ষার নাম নির্বাচনের সময় একই ধরনের একাধিক কোর্স থাকলে নিজের ডিগ্রির সঙ্গে সঠিকভাবে মেলে এমন অপশন নির্বাচন করুন। যেমন, সাধারণ মাস্টার্স ফাইনাল এবং এমবিএর জন্য আলাদা সময়সীমা রয়েছে। তাই একটির পরিবর্তে অন্যটি নির্বাচন করা ঠিক হবে না।

রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকুন। এই নম্বরগুলো দেখতে কাছাকাছি হলেও এক নয়। একটি নম্বর অন্যটির জায়গায় লিখলে আবেদন যাচাই ব্যর্থ হতে পারে।

ব্যক্তিগত তথ্য পূরণের সময় নামের বানান ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই করুন। কোনো তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকলে সংশোধনের নিয়ম অনুসরণ করুন। আবেদন জমা দেওয়ার পর পরিবর্তন করা যাবে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে ভুল তথ্য দিয়ে ফরম জমা দেবেন না।

ফরম পূরণ শেষে সাবমিট করার আগে পুরো আবেদনটি একবার পড়ে নিন। সব তথ্য ঠিক থাকলে পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ধাপে যান।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন আবেদন করার সময় সাধারণ ভুল

সমাবর্তনের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কিছু সাধারণ ভুলের কারণে আবেদনকারীরা সমস্যায় পড়তে পারেন। আগে থেকেই এসব বিষয়ে সতর্ক থাকলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ভুল পাসের বছর নির্বাচন

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোর্সের জন্য পাসের বছর আলাদা। তাই শুধু নিজের বন্ধুর আবেদন দেখে নিজের যোগ্যতা নির্ধারণ করবেন না। নিজের কোর্সের সময়সীমা মিলিয়ে দেখুন।

ভুল রোল নম্বর বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর

একটি অঙ্ক ভুল হলেও শিক্ষাগত তথ্য যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে। মূল নথি দেখে নম্বর লিখুন এবং জমা দেওয়ার আগে আবার পরীক্ষা করুন।

ভুল কোর্স নির্বাচন

বিএ, বিএসএস, বিএসসি, বিবিএ, এমবিএ এবং অন্যান্য ডিগ্রির নাম কাছাকাছি মনে হলেও এগুলো এক নয়। পোর্টালে সঠিক কোর্স নির্বাচন করা জরুরি।

ভুল পেমেন্ট

পেমেন্ট করার আগে ফির পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট আবেদন নিশ্চিত করুন। টাকা কেটে নেওয়ার পর পোর্টালে অবস্থা যাচাই না করে পুনরায় পেমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।

শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা করা

রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২৬। শেষ দিনে ওয়েবসাইটে চাপ, ইন্টারনেট সমস্যা বা পেমেন্টের জটিলতা দেখা দিলে আবেদন সম্পন্ন করতে অসুবিধা হতে পারে। তাই সময় হাতে থাকতে আবেদন করা ভালো।

রসিদ সংরক্ষণ না করা

আবেদন সফল হওয়ার পর রেজিস্ট্রেশন স্লিপ এবং পেমেন্ট রসিদ সংরক্ষণ করুন। পরবর্তী সময়ে আবেদন বা পেমেন্ট যাচাই করতে এগুলো কাজে লাগতে পারে।

অননুমোদিত ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়া

শুধু অফিসিয়াল রেজিস্ট্রেশন পোর্টাল ব্যবহার করুন। অপরিচিত কোনো ব্যক্তি বা ওয়েবসাইটের কাছে পাসওয়ার্ড, পেমেন্টের গোপন তথ্য বা অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত নথি দেবেন না।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাটাস কীভাবে যাচাই করবেন?

রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পর আবেদনকারী জানতে চাইতে পারেন তাঁর আবেদন সফল হয়েছে কি না। এই তথ্য যাচাই করার পদ্ধতি পোর্টালের সুবিধা ও নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।

প্রথমে সমাবর্তনের অফিসিয়াল পোর্টালে প্রবেশ করুন। সেখানে লগইন, আবেদন যাচাই, রেজিস্ট্রেশন তথ্য বা পেমেন্ট স্ট্যাটাস দেখার কোনো সুবিধা থাকলে সেটি ব্যবহার করুন।

পোর্টালে আবেদন সফল দেখালে সংশ্লিষ্ট স্লিপ বা রসিদ সংরক্ষণ করুন। যদি আবেদন অসম্পূর্ণ দেখায়, তাহলে কোন ধাপ বাকি আছে তা বুঝে নিন।

পেমেন্ট সফল হলেও আবেদন স্ট্যাটাস হালনাগাদ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে লেনদেনের রসিদ এবং ট্রানজ্যাকশন আইডি সংরক্ষণ করে রাখুন।

যদি পোর্টালে স্ট্যাটাস দেখার কোনো অপশন না থাকে অথবা আপনার আবেদন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করুন। অন্য কারও অনুমানের ভিত্তিতে আবেদন সফল বা ব্যর্থ বলে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন ফরম ডাউনলোড করার নিয়ম

আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর পোর্টালে যদি রেজিস্ট্রেশন ফরম, আবেদন স্লিপ বা রসিদ ডাউনলোডের সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে সেখান থেকে ফাইল সংগ্রহ করুন।

ডাউনলোড করা ফাইলটি খুলে নিজের নাম, পরীক্ষার তথ্য, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং পেমেন্টের বিবরণ ঠিক আছে কি না যাচাই করুন। ফাইলের কোনো তথ্য ভুল থাকলে সংশোধনের নিয়ম সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা দেখুন।

ফাইলটি PDF আকারে পাওয়া গেলে সেটি মোবাইল বা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করুন। প্রয়োজনে প্রিন্ট করে রাখুন।

তবে আবেদন ফরম ডাউনলোড, প্রবেশপত্র ডাউনলোড এবং সনদ সংগ্রহের নথি এক বিষয় নয়। কোন নথি কোন কাজে লাগবে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বুঝে নিতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন গাউন ও পোশাকসংক্রান্ত তথ্য

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সাধারণত নির্ধারিত একাডেমিক পোশাক ব্যবহার করা হয়। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭-এর গাউন বিতরণ, সংগ্রহের সময়, স্থান, জামানত বা অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করলেই গাউন সংগ্রহের সব তথ্য জানা হয়ে যায় না। এ কারণে আবেদনকারীদের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে এবং নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসারে প্রস্তুতি নিতে হবে।

গাউন সংগ্রহের সময় রেজিস্ট্রেশন স্লিপ, পেমেন্ট রসিদ বা অন্য কোনো নথি প্রয়োজন কি না, তা অফিসিয়াল নির্দেশনায় যাচাই করুন। আগে থেকে প্রস্তুতি হিসেবে এসব নথি সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।

অনুষ্ঠানে কী ধরনের পোশাক পরতে হবে, কোথায় উপস্থিত হতে হবে এবং প্রবেশের জন্য কী নিয়ম অনুসরণ করতে হবে—এসব তথ্যও বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন সনদ ও সার্টিফিকেটসংক্রান্ত তথ্য

সমাবর্তন উপলক্ষে সনদসংক্রান্ত নিয়ম নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে যাঁরা আগে মূল সনদ সংগ্রহ করেছেন এবং যাঁরা এখনো সংগ্রহ করেননি, তাঁদের ফি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এক রকম নাও হতে পারে।

দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭-এর বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিটি সনদের জন্য ৮০০ টাকা অথবা ১০ মার্কিন ডলার সনদ ফি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট মূল সনদ আগে গ্রহণ করা থাকলে সেই সনদের জন্য আবার ফি দিতে হবে না।

এখানে মনে রাখতে হবে, সমাবর্তনে অংশগ্রহণের রেজিস্ট্রেশন এবং মূল সনদ সংগ্রহের বিষয়টি এক নয়। কেউ আগে মূল সনদ সংগ্রহ করলেও সমাবর্তনে অংশ নিতে চাইলে নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

অন্যদিকে, যাঁরা মূল সনদ সংগ্রহ করেননি, তাঁদের ক্ষেত্রে পোর্টালে প্রদর্শিত ফি ও নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন। সনদ সংগ্রহের সময়, পদ্ধতি এবং বিতরণসংক্রান্ত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন ও দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন নিয়ে অনুসন্ধান করার সময় অনেকেই প্রথম সমাবর্তন এবং দ্বিতীয় সমাবর্তনের তথ্য একসঙ্গে পান। এ কারণে কোন তথ্যটি বর্তমান সমাবর্তনের জন্য প্রযোজ্য, তা বুঝে নেওয়া জরুরি।

প্রথম সমাবর্তনসংক্রান্ত পুরোনো বিজ্ঞপ্তি বা সংবাদে উল্লেখ করা আবেদনপদ্ধতি, ফি এবং সময়সীমা দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭-এর ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না।

দ্বিতীয় সমাবর্তনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। তাই রেজিস্ট্রেশন করার সময় সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে। পুরোনো কোনো পোস্টে ভিন্ন ফি, অন্য সময়সীমা অথবা ভিন্ন যোগ্যতার কথা লেখা থাকলে সেটিকে বর্তমান নির্দেশনার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করবেন না।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনের জন্য নির্ধারিত পাসের বছর, নিবন্ধন ফি এবং আবেদনের সময়সীমা নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন ২০২৭-এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার উপায়

সমাবর্তনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি শুধু অনলাইন ফরম পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আবেদন করার আগে এবং আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর কয়েকটি বিষয় গুছিয়ে রাখলে পরবর্তী কার্যক্রম সহজ হবে।

প্রথমে নিজের ডিগ্রি ও পাসের বছর যাচাই করুন। এরপর রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং অন্যান্য শিক্ষাগত তথ্য প্রস্তুত রাখুন।

দ্বিতীয়ত, রেজিস্ট্রেশন ফি এবং প্রযোজ্য সনদ ফি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিন। আগে মূল সনদ সংগ্রহ করে থাকলে সেই তথ্য অনুযায়ী ফি যাচাই করুন।

তৃতীয়ত, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করুন। ১২ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগে আবেদন সম্পন্ন করার চেষ্টা করুন।

চতুর্থত, পেমেন্টের প্রমাণ এবং আবেদন স্লিপ সংরক্ষণ করুন। এগুলো হারিয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অসুবিধা হতে পারে।

পঞ্চমত, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন। অনুষ্ঠানের স্থান, সময়, গাউন সংগ্রহ, প্রবেশপত্র এবং অন্যান্য নির্দেশনা প্রকাশিত হলে তা ভালোভাবে পড়ুন।

ষষ্ঠত, কোনো সমস্যা হলে নির্ধারিত সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করুন। অপরিচিত ব্যক্তি বা অননুমোদিত পেজের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করবেন না।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনসংক্রান্ত সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ করবেন?

রেজিস্ট্রেশন, শিক্ষাগত তথ্য যাচাই অথবা পেমেন্টসংক্রান্ত সমস্যা হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করুন।

রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত সহায়তার জন্য প্রকাশিত নম্বর:

০১৩৪৭-৫৫২১৫১ থেকে ০১৩৪৭-৫৫২১৫৭

পেমেন্টসংক্রান্ত সহায়তার জন্য:

০১৩৪৭-৫৫২১৫৮

সহায়তার সময়: সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট।

ই-মেইল: [email protected]

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ওয়েবসাইট: https://www.nu.ac.bd/

যোগাযোগ করার সময় সমস্যাটি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করুন। পেমেন্টসংক্রান্ত সমস্যা হলে লেনদেনের তারিখ, ট্রানজ্যাকশন আইডি এবং প্রাসঙ্গিক রসিদ প্রস্তুত রাখুন। শিক্ষাগত তথ্য যাচাইয়ের সমস্যা হলে নিজের কোর্স, পাসের বছর এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য উল্লেখ করুন।

যোগাযোগের আগে নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো। কোনো সমস্যার সমাধান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নিজের আবেদনসংক্রান্ত নথি ও পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

সমাবর্তন নিবন্ধনের সময় কিছু সতর্কতা মেনে চললে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুবিধা হবে।

প্রথমত, অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কোনো অননুমোদিত পোর্টালে আবেদন করবেন না। সমাবর্তনের নামে কেউ টাকা চাইলে তার পরিচয় ও নির্দেশনা যাচাই করুন।

দ্বিতীয়ত, নিজের রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে ওয়েবসাইটের ঠিকানা যাচাই করুন।

তৃতীয়ত, পেমেন্টের রসিদ ও ট্রানজ্যাকশন আইডি সংরক্ষণ করুন। পেমেন্টের অবস্থা নিশ্চিত না হয়ে একই ফি একাধিকবার দেবেন না।

চতুর্থত, আবেদনের শেষ তারিখ মনে রাখুন। বর্তমান বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ১২ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। সময়সীমা পরিবর্তন হলে নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন।

পঞ্চমত, যোগ্যতার ক্ষেত্রে নিজের কোর্স ও পাসের বছর সঠিকভাবে মিলিয়ে নিন। অন্য শিক্ষার্থীর যোগ্যতা আপনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, এমন নয়।

ষষ্ঠত, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত দেখুন। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পরও সমাবর্তনের চূড়ান্ত নির্দেশনা জানা প্রয়োজন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন ২০২৭: সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭ কবে অনুষ্ঠিত হবে?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল, নির্দিষ্ট সময় ও পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠানসূচি সম্পর্কে পরবর্তী অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে।

২. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন কবে শুরু হবে?

অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে।

৩. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ কবে?

বর্তমান বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২৬। সময়সীমা পরিবর্তন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে।

৪. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন ফি কত?

সমাবর্তনের জন্য নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি ৪,০০০ টাকা অথবা ৪০ মার্কিন ডলার।

৫. সমাবর্তনের সনদ ফি কত?

প্রতিটি সনদের জন্য ৮০০ টাকা অথবা ১০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট মূল সনদ আগে সংগ্রহ করা থাকলে সেই সনদের জন্য আবার ফি দিতে হবে না।

৬. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনে কারা অংশ নিতে পারবেন?

স্নাতক পাস, স্নাতক সম্মান, মাস্টার্স ফাইনাল, এমবিএ, বিবিএ, বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স এবং বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা অন্যান্য কোর্সের নির্ধারিত পাসের বছরের গ্র্যাজুয়েটরা যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করতে পারবেন। এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত নির্ধারিত সময়সীমার গবেষকদেরও সুযোগ রয়েছে।

৭. ২০২৪ সালে অনার্স পাস করলে কি সমাবর্তনে আবেদন করা যাবে?

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্নাতক সম্মান পরীক্ষায় ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে উত্তীর্ণরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রয়েছেন। তবে নিজের তথ্য দিয়ে পোর্টালে চূড়ান্ত যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।

৮. ২০২৫ সালে অনার্স পাস করলে কি আবেদন করা যাবে?

স্নাতক সম্মানের জন্য প্রকাশিত সময়সীমা ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল। ফলে ২০২৫ সালে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এই নির্দিষ্ট শ্রেণির সময়সীমার মধ্যে পড়েন না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা কোনো নির্দেশনা প্রকাশিত হলে সেটি অনুসরণ করতে হবে।

৯. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন কোথায় করতে হবে?

নির্ধারিত অনলাইন পোর্টাল হলো https://convocation.nu.ac.bd/। আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি যাচাই করুন।

১০. মোবাইল দিয়ে কি সমাবর্তন রেজিস্ট্রেশন করা যাবে?

অফিসিয়াল পোর্টাল মোবাইল ব্রাউজারে সঠিকভাবে কাজ করলে মোবাইল দিয়েই আবেদন করা সম্ভব হতে পারে। তবে পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

১১. রেজিস্ট্রেশনের জন্য কী কী তথ্য লাগবে?

পোর্টালে চাওয়া শিক্ষাগত তথ্য, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পাসের বছর এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত ও যোগাযোগের তথ্য প্রস্তুত রাখুন। অতিরিক্ত কোনো নথি চাইলে পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

১২. আগে মূল সনদ সংগ্রহ করলে কি আবার সনদ ফি দিতে হবে?

না। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মূল সনদ আগে সংগ্রহ করা থাকলে সেই সনদের জন্য আবার ৮০০ টাকা সনদ ফি দিতে হবে না। তবে রেজিস্ট্রেশন ফি প্রযোজ্য থাকবে।

১৩. সমাবর্তনের ফি কীভাবে দেওয়া যাবে?

বিজ্ঞপ্তিতে সোনালী সেবা, মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং নির্ধারিত ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্টের সুযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী পেমেন্ট করতে হবে।

১৪. পেমেন্ট করার পর আবেদন সফল হয়েছে কি না কীভাবে বুঝব?

পোর্টালে আবেদন বা পেমেন্টের অবস্থা যাচাই করুন। সফল নিবন্ধনের স্লিপ, রসিদ অথবা নিশ্চিতকরণ বার্তা পাওয়া গেলে তা সংরক্ষণ করুন। অবস্থা অস্পষ্ট হলে নির্ধারিত সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করুন।

১৫. পেমেন্টের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু আবেদন সম্পন্ন হয়নি—কী করব?

প্রথমে পোর্টালে পেমেন্টের অবস্থা যাচাই করুন। ট্রানজ্যাকশন আইডি ও রসিদ সংরক্ষণ করুন। অবস্থা নিশ্চিত না হয়ে আবার পেমেন্ট করবেন না। প্রয়োজনে পেমেন্ট সহায়তা নম্বর ০১৩৪৭-৫৫২১৫৮-এ যোগাযোগ করুন।

১৬. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনের গাউন কোথা থেকে সংগ্রহ করতে হবে?

গাউন বিতরণের স্থান, সময় এবং সংগ্রহের নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী নির্দেশনায় নিশ্চিত করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পর নিয়মিত অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি দেখুন।

১৭. সমাবর্তনের অনুষ্ঠানস্থল কোথায়?

২৩ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখটি নির্ধারিত থাকলেও অনুষ্ঠানস্থল ও পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠানসূচি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে। যাচাই না করে কোনো নির্দিষ্ট স্থানকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

১৮. রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার পর আবেদন করা যাবে কি?

বর্তমান বিজ্ঞপ্তিতে রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় ১২ নভেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে। তাই শেষ সময়ের আগেই আবেদন সম্পন্ন করা উচিত।

১৯. এমফিল ও পিএইচডি গবেষকেরা কি সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন?

হ্যাঁ, বিজ্ঞপ্তিতে ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এমফিল বা পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত গবেষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি অর্জনের তথ্য ও পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।

২০. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://www.nu.ac.bd/ এবং নির্ধারিত সমাবর্তন পোর্টাল https://convocation.nu.ac.bd/ থেকে তথ্য যাচাই করা যাবে।

শেষ কথা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭-এ অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী গ্র্যাজুয়েট ও গবেষকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের যোগ্যতা যাচাই করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা। বর্তমান বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সমাবর্তন ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং অনলাইন নিবন্ধনের সময়সীমা ১২ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

রেজিস্ট্রেশন ফি ৪,০০০ টাকা অথবা ৪০ মার্কিন ডলার। প্রতিটি সনদের জন্য ৮০০ টাকা অথবা ১০ মার্কিন ডলার সনদ ফি প্রযোজ্য হতে পারে। তবে আগে সংশ্লিষ্ট মূল সনদ সংগ্রহ করা থাকলে সেই সনদের জন্য পুনরায় ফি দিতে হবে না।

আবেদন করার আগে নিজের কোর্স, পাসের বছর, রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাই করুন। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে আবেদন সম্পন্ন করে পেমেন্টের রসিদ ও রেজিস্ট্রেশন স্লিপ সংরক্ষণ করুন। এরপর সমাবর্তনের অনুষ্ঠানস্থল, গাউন, প্রবেশপত্র এবং অন্যান্য নির্দেশনা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন।

সবশেষে, সমাবর্তনসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নির্দেশনাকে অগ্রাধিকার দিন। এতে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আবেদন করা, অপ্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধ করা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা মিস করার ঝুঁকি কমবে।


মন্তব্য করুন