Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

প্রচলিত কোরআনের অনুলিপিতে নানা রূপ কেন


মসজিদের আলমারির তাকগুলোতে বিভিন্ন রূপ ও আকারের কোরআন দেখা যায়।

মসজিদে গিয়ে যখন আমরা কোরআন শরিফের একটি মুদ্রিত অনুলিপি হাতে নিতে চাই, দেখি, আলমারির তাকগুলোতে বিভিন্ন রূপ ও আকারের কোরআন। সাধারণত যিনি যেই লিপি পড়ে অভ্যস্ত, সেই অনুলিপিই তিনি খুঁজে নেন। কিন্তু কৌতূহল হয়, এত রকমের কোরআন কেন? অনুলিপিগুলোর মধ্যে মূল পার্থক্যটা আসলে কোথায়?

বিশ্বজুড়ে কোরআনের ছাপা অনুলিপির একাধিক রূপ প্রচলিত রয়েছে। আমাদের সমাজে মূলত দুটি অনুলিপি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়—একটি হলো সৌদি আরবের মদিনা থেকে প্রকাশিত ‘মদিনা মুসহাফ’ এবং অন্যটি হলো বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে বহুল প্রচারিত ‘দক্ষিণ এশীয় মুসহাফ’।

দেখতে সামান্য আলাদা মনে হলেও দুটি অনুলিপিই মূলত ‘হাফ্স’ পাঠরীতিতে মুদ্রিত।

লিপিশৈলীর ভিন্নতা: ‘নাস্‌খ’ বনাম ‘নাস্তালিক’

অনুলিপিগুলোর দিকে তাকালে প্রথম যে পার্থক্যটি চোখে পড়ে, তা হলো এদের লিপিশৈলী। ইতিহাসে কোরআন অনুলেখনের জন্য বিভিন্ন সময়ে একাধিক লিপিশৈলী ব্যবহৃত হয়েছে। শুরুর দিকে হিজাজি বা কুফি লিপিতে কোরআন লেখা হতো। পরবর্তীকালে আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বহু বর্ণমালাশৈলী গড়ে ওঠে।

বর্তমানে সৌদি আরবের মদিনা থেকে ছাপা অনুলিপিটি লেখা হয় সুষম ও প্রচলিত ‘নাস্‌খ’ লিপিশৈলীতে। অপরদিকে আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচলিত অনুলিপিটি লেখা হয় ‘নাস্তালিক’ লিপিতে, যা তুলনামূলকভাবে কিছুটা বাঁকানো ও ঝুলন্ত বর্ণমালার ন্যায় দেখায়। (মুফতি মুহাম্মদ ওমর ইসমাইল, তাশহিলুর রুসুম, পৃষ্ঠা ১২, দারুল হুদা, করাচি, ২০০৮)

দুটি শৈলীই আরবি লিপিশৈলীর অন্তর্ভুক্ত এবং উভয় শৈলীতেই কোরআন লেখা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গৃহীত ও সমাদৃত হয়ে আসছে।

আধুনিককালে যখন মুদ্রণযন্ত্রের মাধ্যমে কোরআন ছাপা শুরু হয়, তখন আলেমদের বোর্ড প্রাচীন কোনো নির্ভরযোগ্য ইমামের পছন্দকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন।

মন্তব্য করুন