Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২৬ অপরাহ্ণ

দুই বিষয়ে ফেলকরাদের জন্য দ্রুততম সময়ে ফের পরীক্ষা

                                    দুই বিষয়ে ফেলকরাদের জন্য দ্রুততম সময়ে ফের পরীক্ষা

এসএসসির (পাবলিক পরীক্ষা) ফল প্রকাশের পর দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের জন্য  দ্রুততম সময়ে পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেছেন, পরীক্ষাগুলো তো একাধিক সেটে হয়। সেক্ষেত্রে ফল প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে দুই বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থীদের জন্য ফের পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব। কিন্তু তারা যেহেতু ‍পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী, তাই তাদের জন্য একটা যৌক্তিক সময় দেয়া প্রয়োজন। এটা মাথায় রেখেই দ্রুততম সময়ে আমরা তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষা আয়োজন করতে চাই।এ সময় ব্যর্থতার এ ধারা দীর্ঘ না করে শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি মিলনায়তনে ৪৯তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ড. মিলন বলেন, সরকারি কলেজগুলো শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার প্রতিষ্ঠান। অনেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারেন না, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়তে পারেন না, তবে সরকারি কলেজগুলোতে সেই সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে। কারণ বেসরকারি কলেজগুলো অতিমাত্রায় টিউশন ফি নেয়।

মন্ত্রী আরো বলেন, যিনি যেখানেই থাকুন শিক্ষক হিসেবে তিনি সেখানেই সঠিক দায়িত্ব পালন করুন। এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে আপনার প্রশ্নের উত্তর আপনার প্রশ্নের মধ্যেই রয়েছে। আপনাদের বেতন-ভাতাসহ সব সুবিধা সরকার দিচ্ছে। অতএব সেই জায়গাটি আপনাদের সবার বুঝতে হবে।

এসময় মন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষকের হাতে মূল্যায়নের ক্ষমতা আছে, সেই ক্ষমতার সঙ্গে ন্যায্যতার দায়ও আছে। একটি নম্বর, একটি মন্তব্য কিংবা একটি সুপারিশ শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ সুযোগকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই মূল্যায়নের মানদণ্ড স্পষ্ট হতে হবে, সবাইকে একই মানদণ্ডে বিচার করতে হবে এবং শিক্ষার্থীকে বুঝতে সাহায্য করতে হবে—সে কোথায় ভুল করেছে, কীভাবে উন্নতি করতে পারে। ন্যায্যতা শিক্ষার্থীরা বইয়ে পড়বে, শিক্ষকের আচরণেও দেখবে।

এসময় তিনি বলেন, এতদিন আপনার যোগ্যতা যাচাই হয়েছে, এখন আপনার মাধ্যমে অন্যের যোগ্যতা বিকশিত হবে। বিসিএস পর্যন্ত আপনারা নিজের প্রস্তুতি, ফল ও সাফল্যের জন্য পরিশ্রম করেছেন। আজ থেকে দায়িত্বের পরিধি বদলে গেল। এখন আপনাদের সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত হবে এমন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, যে হয়তো নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে এখনো আত্মবিশ্বাসী নয়। তাকে সেই সামর্থ্য চিনতে সাহায্য করাই শিক্ষকতার বড় দায়িত্ব।

ড. মিলন আরো বলেন, যে শিক্ষার্থী সহজে শেখে না, তার কাছেই শিক্ষকের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। মেধাবী ও আত্মবিশ্বাসী শিক্ষার্থীকে পড়ানো তুলনামূলক সহজ। কিন্তু যে শিক্ষার্থী বারবার ভুল করে, প্রশ্ন করতে সংকোচ বোধ করে কিংবা পড়া ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে—তাকে শেখার মধ্যে ধরে রাখতে পারার মধ্যেই শিক্ষকের দক্ষতার গভীরতা প্রকাশ পায়। শ্রেণিকক্ষের সাফল্য বিচার করার সময় পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীটি কত দূর এগোল, সেটিও দেখতে হবে। প্রশ্ন করার সাহস তৈরি করা শিক্ষার একটি বড় অর্জন। আমরা যদি এমন শ্রেণিকক্ষ তৈরি করি, যেখানে ভুল উত্তর দেওয়ার ভয়ে শিক্ষার্থী চুপ থাকে, তাহলে তার চিন্তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। শিক্ষককে এমন আস্থা তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থী বলতে পারে—“আমি বুঝিনি”, “আমার প্রশ্ন আছে”, কিংবা “আমি বিষয়টি অন্যভাবে ভাবছি।” যুক্তিসংগত প্রশ্নকে সম্মান করতে শেখাও নাগরিক শিক্ষার অংশ।

তিনি বলেন, সরকারি কলেজ অনেক পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলানোর সবচেয়ে বড় সুযোগ রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার বাড়তি শিক্ষাসহায়তা কিনতে পারে না। তাদের জন্য নিয়মিত ও মানসম্মত শ্রেণিকক্ষই প্রধান ভরসা। একটি ক্লাস প্রস্তুতি ছাড়া নেওয়া হলে তার ক্ষতি সবার সমান হয় না, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই শিক্ষার্থী, যার শেখার বিকল্প সুযোগ সবচেয়ে কম। এই বাস্তবতা আমাদের পেশাগত দায়িত্বকে আরও গভীর করে।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, যেখানে দায়িত্ব পাবেন, সেখানকার শিক্ষার্থীর জীবনকে জানুন। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীটি সব সময় অনাগ্রহী নয়, সে হয়তো কাজ করে, দূর থেকে আসে কিংবা পরিবারের দায়িত্ব বহন করে। সমস্যার কারণ না বুঝে শুধু শাস্তি দিলে সমাধান নাও হতে পারে। কর্মস্থলে গিয়ে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করুন। সেই বোঝাপড়াই আপনাদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর ও মানবিক করবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতার শুরুতেই নিজের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। একটি অধ্যায় পড়ানোর পর নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন—কতজন বুঝল? যারা বুঝল না, তাদের জন্য আমি কী বদলাব? একই পদ্ধতিতে বারবার পড়িয়ে ভিন্ন ফল আশা করলে চলবে না। শিক্ষার্থীর কাজ, প্রশ্ন ও ভুল থেকে তথ্য নিয়ে নিজের পাঠদান উন্নত করা শিক্ষকতার গুরুত্বপূর্ণ চর্চা।

মন্তব্য করুন

ব্লগ