সহকারী শিক্ষক
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:২২ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কবে ২০২৬ | DU Admission Test Date 2026
📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কবে ২০২৬
📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ দেখুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কবে ২০২৬ | DU Admission Test Date 2026
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি প্রকাশ করেছে। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর ২০২৬ দিয়ে শুরু হবে ভর্তিযুদ্ধ, আর শেষ হবে ২৬ ডিসেম্বর ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা দিয়ে। অনলাইন আবেদন চলবে ১১ থেকে ২৫ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। এই পোস্টে এক জায়গায় পাবেন ইউনিটভিত্তিক পরীক্ষার তারিখ, জিপিএ যোগ্যতা, আবেদন ফি, মানবণ্টন, IBA BBA ভর্তির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, মেধাতালিকা তৈরির নিয়ম এবং ফলাফল দেখার পদ্ধতি।
DU ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬-২৭: এক নজরে পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় (উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঁচটি ইউনিটের পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। পরীক্ষার সময়সূচি নিচের টেবিলে দেখুন।
ইউনিট | পরীক্ষার তারিখ | বার | সময় |
আইবিএ ইউনিট (IBA) | ৫ ডিসেম্বর ২০২৬ | শনিবার | সকাল ১০টা – দুপুর ১২টা |
বিজ্ঞান ইউনিট (A Unit) | ১২ ডিসেম্বর ২০২৬ | শনিবার | সকাল ১১টা – দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট |
কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট (B Unit) | ১৯ ডিসেম্বর ২০২৬ | শনিবার | সকাল ১১টা – দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট |
চারুকলা ইউনিট (Fine Arts) | ২২ ডিসেম্বর ২০২৬ | মঙ্গলবার | সকাল ১১টা – দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট |
ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট (C Unit) | ২৬ ডিসেম্বর ২০২৬ | শনিবার | সকাল ১১টা – দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট |
অন্য সব ইউনিটের পরীক্ষা ৯০ মিনিটের হলেও আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা হয় ২ ঘণ্টা ধরে। আইবিএ ও চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এ, বি ও সি ইউনিটের পরীক্ষা ঢাকাসহ মোট ৮টি বিভাগীয় কেন্দ্রে নেওয়া হবে — রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ) এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। অর্থাৎ ঢাকার বাইরে থাকা পরীক্ষার্থীরা নিজ বিভাগীয় শহরেই পরীক্ষা দিতে পারবেন।
ঢাবি ভর্তি আবেদন ২০২৬: তারিখ, যোগ্যতা ও ফি
আবেদনের সময়সীমা
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে অনলাইন আবেদন শুরু হবে ১১ নভেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২টা থেকে এবং চলবে ২৫ নভেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। শেষ দিনের ভিড় এড়াতে আবেদন আগেভাগে সেরে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আবেদন করতে পারবেন তারাই, যারা ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এসএসসি বা সমমান এবং ২০২৬ সালের এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। অর্থাৎ এবারও শুধু চলতি বছরের এইচএসসি ব্যাচ — সেকেন্ড টাইমারদের জন্য সুযোগ নেই।
ইউনিটভিত্তিক জিপিএ যোগ্যতা (ঢাবি ভর্তি যোগ্যতা)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রতিটি ইউনিটে আলাদা জিপিএ শর্ত রয়েছে। নিচের টেবিলে আইবিএসহ পাঁচটি ইউনিটের সম্পূর্ণ যোগ্যতা দেওয়া হলো।
ইউনিট | এসএসসি + এইচএসসি জিপিএর যোগফল (ন্যূনতম) | প্রতিটি পরীক্ষায় আলাদাভাবে (ন্যূনতম) |
বিজ্ঞান ইউনিট — বিজ্ঞান বিভাগ | ৮.০০ | ৩.৫০ |
বিজ্ঞান ইউনিট — মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ | ৭.৫০ | ৩.০০ |
কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট | ৭.৫০ | ৩.০০ |
ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট | ৭.৫০ | ৩.০০ |
চারুকলা ইউনিট | ৬.৫০ | ৩.০০ |
আইবিএ ইউনিট (BBA) | ৭.৫০ | ৩.৫০ |
উল্লেখ্য, জিপিএ হিসাব করা হয় চতুর্থ বিষয়সহ। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিজ্ঞান ইউনিটে আবেদন করতে পারবেন, তবে তাদের ক্ষেত্রে যোগফল ৭.৫০ ও আলাদাভাবে ৩.০০ যথেষ্ট। বিজ্ঞান ইউনিটে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের কারিকুলাম অনুযায়ী পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ঢাবি ভর্তি ফি কত টাকা?
প্রতি ইউনিটের আবেদন ফি ১,০৫০ (এক হাজার পঞ্চাশ) টাকা। একাধিক ইউনিটে আবেদন করলে প্রতিটি ইউনিটের জন্য আলাদা ফি দিতে হবে। ফি জমা দেওয়া যায় চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী) যেকোনো শাখায় অথবা অনলাইনে ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবার মাধ্যমে।
অনলাইনে আবেদনের ধাপসমূহ (DU Admission Apply Process)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে গিয়ে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে এইচএসসি রোল, বোর্ড ও পাসের সন এবং এসএসসি রোল দিয়ে লগইন/রেজিস্ট্রেশন করুন।
নির্দেশনা অনুযায়ী ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করুন।
যোগ্যতা অনুযায়ী পছন্দের ইউনিট নির্বাচন করুন (একাধিক ইউনিটে আলাদা আলাদা আবেদন করা যায়)।
কেন্দ্রের পছন্দক্রম দিন — এ, বি ও সি ইউনিটের জন্য ঢাকাসহ ৮টি বিভাগীয় কেন্দ্র থেকে পছন্দ করতে পারবেন।
আবেদন ফি পরিশোধ করুন ব্যাংক শাখা, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে।
ফি জমা নিশ্চিত হলে আবেদনের কনফার্মেশন স্লিপ ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করুন।
এডমিট কার্ড ও সিট প্ল্যান
আবেদন শেষ হওয়ার পর প্রতিটি ইউনিটের পরীক্ষার কয়েকদিন আগে ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রবেশপত্র (Admit Card) ডাউনলোডের ব্যবস্থা চালু হয়। লগইন করে নিজের প্রবেশপত্র ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে পরীক্ষার হলে নিয়ে যেতে হবে — প্রবেশপত্র ছাড়া হলে প্রবেশ করা যায় না। একই ওয়েবসাইটে প্রতিটি ইউনিটের সিট প্ল্যান (কেন্দ্র, ভবন ও কক্ষ নম্বর) প্রকাশ করা হয় পরীক্ষার ২-৩ দিন আগে। সিট প্ল্যান দেখে আগেই কেন্দ্র চিনে নেওয়া ভালো।
ঢাবি ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন (DU Admission Test Mark Distribution)
২০২৬-২৭ সেশনেও মোট ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা হবে, সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসি ফলাফলের ওপর ২০ নম্বর — মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট ও লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। মনে রাখুন, এমসিকিউ অংশে নেগেটিভ মার্কিং আছে — প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে (প্রতি ৪টি ভুলে ১ নম্বর কাটা)।
বিজ্ঞান ইউনিট (A Unit): ৬০ MCQ + ৪০ লিখিত
অংশ | বিষয় | নম্বর |
MCQ (৬০) | পদার্থবিজ্ঞান | ১৫ |
MCQ (৬০) | রসায়ন | ১৫ |
MCQ (৬০) | গণিত | ১৫ |
MCQ (৬০) | জীববিজ্ঞান | ১৫ |
লিখিত (৪০) | পদার্থবিজ্ঞান | ১০ |
লিখিত (৪০) | রসায়ন | ১০ |
লিখিত (৪০) | গণিত | ১০ |
লিখিত (৪০) | জীববিজ্ঞান | ১০ |
কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট (B Unit): ৬০ MCQ + ৪০ লিখিত
অংশ | বিষয় | নম্বর |
MCQ (৬০) | বাংলা | ১৫ |
MCQ (৬০) | General English | ১৫ |
MCQ (৬০) | সাধারণ জ্ঞান | ৩০ |
লিখিত (৪০) | বাংলা | ২০ |
লিখিত (৪০) | General English | ২০ |
বি ইউনিটে পাসের জন্য MCQ অংশে বাংলায় ন্যূনতম ৫, ইংরেজিতে ন্যূনতম ৫, সাধারণ জ্ঞানে ন্যূনতম ১০ এবং সব মিলিয়ে ন্যূনতম ২৪ নম্বর পেতে হয়। লিখিত অংশে ন্যূনতম ১১ নম্বর আবশ্যক, যার মধ্যে বাংলা ও ইংরেজিতে প্রতিটিতে কমপক্ষে ৫ নম্বর থাকতে হবে।
ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট (C Unit): ৬০ MCQ + ৪০ লিখিত
অংশ | বিষয় | নম্বর |
MCQ (৬০) | বাংলা | ১২ |
MCQ (৬০) | English | ১২ |
MCQ (৬০) | হিসাববিজ্ঞান | ১২ |
MCQ (৬০) | ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা | ১২ |
MCQ (৬০) | ফিন্যান্স/মার্কেটিং | ১২ |
লিখিত (৪০) | হিসাববিজ্ঞান | ১০ |
লিখিত (৪০) | ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা | ১০ |
লিখিত (৪০) | বাংলা | ১০ |
লিখিত (৪০) | English | ১০ |
সি ইউনিটে MCQ অংশে ইংরেজিতে ন্যূনতম ৫ এবং সব মিলিয়ে ২৪ নম্বর, আর লিখিত অংশে ন্যূনতম ১১ নম্বর পেতে হয়। সব মিলিয়ে ৪০ নম্বর না পেলে ভর্তির জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
চারুকলা ইউনিট: ৪০ MCQ + ৬০ অঙ্কন
চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষা অন্য সব ইউনিট থেকে আলাদা। এখানে ৪০ নম্বরের MCQ (সাধারণ জ্ঞান ও চারুকলা বিষয়ক) পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং ৬০ নম্বরের অঙ্কন (Drawing) পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। অঙ্কন পরীক্ষায় ফিগার ড্রয়িং, স্টিল লাইফ, কম্পোজিশনসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয়। চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাবি আইবিএ বিবিএ ভর্তি ২০২৬ (DU IBA Admission)
ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (IBA) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রোগ্রামগুলোর একটি, এবং এখানকার ভর্তি প্রক্রিয়া অন্য ইউনিটগুলো থেকে পুরোপুরি আলাদা। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা — যেকোনো বিভাগ থেকেই আইবিএর বিবিএ প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়।
আইবিএ ভর্তির যোগ্যতা
এসএসসি ও এইচএসসিতে মোট জিপিএ কমপক্ষে ৭.৫০ থাকতে হবে এবং উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে কমপক্ষে ৩.৫০ থাকতে হবে। ইংরেজি মাধ্যমের (O/A Level) শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দুই পরীক্ষায় সাতটি বিষয়ের মধ্যে কমপক্ষে চারটিতে B গ্রেড ও তিনটিতে C গ্রেড থাকতে হবে, এবং কোনো বিষয়ে D গ্রেড গ্রহণযোগ্য নয়।
আইবিএ পরীক্ষার মানবণ্টন: ৭০ MCQ + ৩০ বর্ণনামূলক
অংশ | বিষয় | নম্বর | সময় |
MCQ (৭০) | English | ৩০ | সকাল ১০টা – দুপুর ১২টা (মোট ২ ঘণ্টা) |
MCQ (৭০) | Mathematics | ৩০ | — |
MCQ (৭০) | Analytical Ability | ১০ | — |
বর্ণনামূলক (৩০) | ইংরেজি লিখন দক্ষতা | ৩০ | — |
আইবিএর প্রশ্ন সম্পূর্ণ ইংরেজিতে হয়, তাই ইংরেজি মাধ্যম ছাড়াও বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতায় বিশেষ জোর দিতে হবে।
আইবিএ ভর্তি: দুই ধাপের প্রক্রিয়া
অন্য ইউনিটগুলোর মতো একবার পরীক্ষা দিলেই শেষ নয় — আইবিএতে ভর্তি হয় দুই ধাপে।
প্রথম ধাপে ভর্তি পরীক্ষা (৫ ডিসেম্বর ২০২৬)। এতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রথম পর্যায়ের ফলাফল প্রকাশের পর দ্বিতীয় ধাপে কমিউনিকেশন টেস্ট (মৌখিক পরীক্ষা/ভাইভা) নেওয়া হয়। দুই ধাপ মিলিয়েই চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়। আইবিএতে মোট আসন ১২০টি, আর গত সেশনে এই ১২০টি আসনের জন্য আবেদন পড়েছিল ৯ হাজারেরও বেশি — অর্থাৎ প্রতি আসনের জন্য প্রায় ৭৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী।
মেধাতালিকা কীভাবে তৈরি হয়: ১২০ নম্বরের হিসাব
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকা তৈরি হয় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বর এবং এসএসসি ও এইচএসসি ফলাফলের ওপর ২০ নম্বর।
ফলাফলের ২০ নম্বর হিসাব করা হয় এভাবে: এসএসসির জিপিএকে (চতুর্থ বিষয়সহ) ২ দিয়ে গুণ করা হয় এবং এইচএসসির জিপিএকে (চতুর্থ বিষয়সহ) ২ দিয়ে গুণ করা হয়। দুটি যোগ করে সর্বোচ্চ ২০ নম্বর পাওয়া যায়। উদাহরণ হিসেবে, কোনো শিক্ষার্থীর এসএসসিতে জিপিএ ৫.০০ ও এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৮০ থাকলে তার ফলাফলের নম্বর হবে (৫.০০ × ২) + (৪.৮০ × ২) = ১০ + ৯.৬ = ১৯.৬। এই ১৯.৬ নম্বর ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে যোগ করে মোট ১২০ নম্বরের মধ্যে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হয়।
ইউনিটভিত্তিক আসন সংখ্যা (DU Total Seats)
গত শিক্ষাবর্ষের তথ্য অনুযায়ী ইউনিটভিত্তিক আসন সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো। ২০২৬-২৭ সেশনের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে আসন সংখ্যায় সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে।
ইউনিট | আসন সংখ্যা (প্রায়) |
বিজ্ঞান ইউনিট (A) | ১,৮৯১ |
কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট (B) | ২,৯৩৪ |
ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট (C) | ৯৩০ |
চারুকলা ইউনিট | ১৩৫ |
আইবিএ ইউনিট | ১২০ |
প্রতি বছর লাখো আবেদনের বিপরীতে এই আসনগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তীব্র হয় — গত সেশনে বিজ্ঞান ইউনিটে প্রতি আসনের জন্য আবেদন করেছিলেন প্রায় ৬০ জন, বি ইউনিটে প্রায় ৩৭ জন।
ঢাবি ভর্তি ফলাফল দেখার নিয়ম (DU Admission Result Check)
ফলাফল প্রকাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে লগইন করে রোল নম্বর দিয়ে ফল দেখা যায়। এছাড়া মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানা যায়। আইবিএ ইউনিটের ফল জানতে DU IBA লিখে পরীক্ষার রোল নম্বর টাইপ করে ১৬৩২১ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হয় (টেলিটক, বাংলালিংক বা গ্রামীণফোন নম্বর থেকে)। অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রেও একইভাবে ইউনিট-কোডসহ রোল পাঠিয়ে ফলাফল পাওয়া যায়। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এরপর বিস্তারিত ফরম ও বিষয়ের পছন্দক্রম পূরণ করতে হয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে।
ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬ নিয়ে প্রায়শ জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কবে ২০২৬-২৭ সেশনে?
আইবিএ ৫ ডিসেম্বর, বিজ্ঞান ইউনিট ১২ ডিসেম্বর, কলা-আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট ১৯ ডিসেম্বর, চারুকলা ইউনিট ২২ ডিসেম্বর এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট ২৬ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
২. ঢাবি ভর্তি আবেদন ২০২৬ কবে শুরু ও শেষ?
অনলাইন আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২টায় এবং শেষ ২৫ নভেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে।
৩. ঢাবি ভর্তি ফি কত টাকা?
প্রতি ইউনিটের আবেদন ফি ১,০৫০ টাকা। একাধিক ইউনিটে আবেদন করলে প্রতিটির জন্য আলাদা ফি দিতে হবে।
৪. কারা আবেদন করতে পারবে? সেকেন্ড টাইমাররা কি পারবে?
২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এসএসসি ও ২০২৬ সালের এইচএসসিতে উত্তীর্ণরাই আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ শুধু চলতি বছরের এইচএসসি ব্যাচ আবেদনযোগ্য — সেকেন্ড টাইমারদের সুযোগ নেই।
৫. একই সঙ্গে একাধিক ইউনিটে আবেদন করা যায়?
হ্যাঁ। যোগ্যতা পূরণ করলে একাধিক ইউনিটে আলাদা আলাদা আবেদন ও ফি দিয়ে পরীক্ষা দেওয়া যায়।
৬. পাস নম্বর কত?
ভর্তি পরীক্ষার ১০০ নম্বরের মধ্যে সব মিলিয়ে কমপক্ষে ৪০ নম্বর পেতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিটে MCQ ও লিখিত অংশে আলাদা আলাদা ন্যূনতম নম্বরের শর্ত আছে — যেমন বি ইউনিটে MCQ-তে ২৪ ও লিখিতে ১১।
৭. এমসিকিউতে নেগেটিভ মার্কিং আছে?
হ্যাঁ। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে — অর্থাৎ প্রতি ৪টি ভুল উত্তরে ১ নম্বর বাদ যাবে।
৮. আইবিএতে ভর্তির প্রক্রিয়া কী?
আইবিএতে দুই ধাপে ভর্তি হয় — প্রথমে ভর্তি পরীক্ষা (৭০ MCQ + ৩০ বর্ণনামূলক), এরপর উত্তীর্ণদের কমিউনিকেশন টেস্ট (ভাইভা)। দুই ধাপ মিলিয়ে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। আসন ১২০টি।
৯. চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষা কেমন হয়?
৪০ নম্বরের MCQ (৩০ মিনিট) ও ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা (৬০ মিনিট)। পরীক্ষা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।
১০. মেধাতালিকায় এসএসসি-এইচএসসির নম্বর কীভাবে যোগ হয়?
এসএসসির জিপিএ × ২ ও এইচএসসির জিপিএ × ২ — এই দুটি যোগ করে সর্বোচ্চ ২০ নম্বর ভর্তি পরীক্ষার ১০০ নম্বরের সঙ্গে যোগ করে মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি হয়।
শেষ কথা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা আগের বছরগুলোর মতোই তীব্র প্রতিযোগিতামূলক হতে যাচ্ছে। পরীক্ষা ডিসেম্বরে হলেও প্রস্তুতির জন্য হাতে সময় খুব কম — আবেদনের আগেই পরীক্ষার প্যাটার্ন অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন, বিশেষ করে লিখিত অংশ ও নেগেটিভ মার্কিংয়ের কৌশল নিয়ে। ক্লাস শুরু হবে ২৮ মার্চ ২০২৭ থেকে। সবার জন্য শুভকামনা।
৩
৩ মন্তব্য