সহযোগী অধ্যাপক
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:২৯ পূর্বাহ্ণ
কুয়েট ভর্তি পরীক্ষা কবে ২০২৭ | KUET Admission Test Date 2027
📌 কুয়েট ভর্তি পরীক্ষা কবে ২০২৭
📌 KUET Admission Test Date 2027
কুয়েট ভর্তি পরীক্ষা কবে ২০২৭ | KUET Admission Test Date 2027
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এর ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ স্নাতক (বি.এসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বি.আর্ক) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮ জানুয়ারি ২০২৭, শুক্রবার। ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিলের ১১৮তম বিশেষ সভায় এই চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বছর প্রথমবারের মতো শুধু খুলনায় নয় — খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী এই তিন বিভাগীয় শহরে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে, এবং পুরো পরীক্ষা হবে এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে। আবেদনের যোগ্যতা, আবেদন ফি, আসনবিন্যাস, এডমিট কার্ডসহ পূর্ণাঙ্গ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশিত হয়নি — তবে গতবারের তথ্য দেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এই পোস্টে সবকিছু এক জায়গায় সাজিয়ে দেওয়া হলো।
এক নজরে কুয়েট ভর্তি ২০২৬–২৭
বিষয় | তথ্য |
ভর্তি পরীক্ষার তারিখ | ৮ জানুয়ারি ২০২৭ (শুক্রবার) — নিশ্চিত |
পরীক্ষা কেন্দ্র | খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী (তিন বিভাগীয় শহরে একযোগে) |
পরীক্ষার পদ্ধতি | এমসিকিউ (MCQ), পূর্ণমান ৫০০ |
ডিগ্রি | বি.এসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (৪ বছর), বিইউআরপি (৪ বছর), বি.আর্ক (৫ বছর) |
আসন সংখ্যা (গতবার) | ১,০৬৫ (১,০৬০ নিয়মিত + ৫ সংরক্ষিত), ১৬ বিভাগ, ৩ অনুষদ |
সিদ্ধান্তের সভা | একাডেমিক কাউন্সিলের ১১৮তম বিশেষ সভা, ২৫ আগস্ট ২০২৬ |
আবেদনের যোগ্যতা ও ফি | এখনো ঘোষণা হয়নি — বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অপেক্ষায় |
অফিশিয়াল ভর্তি পোর্টাল | কুয়েট ভর্তি ওয়েবসাইট (admission.kuet.ac.bd) |
কুয়েট ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৭ — এখন পর্যন্ত কী ঘোষণা হয়েছে
এ পর্যন্ত কুয়েট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে যা ঘোষণা করেছে তা সংক্ষেপে:
ভর্তি পরীক্ষার তারিখ: ৮ জানুয়ারি ২০২৭, শুক্রবার।
তিন বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা: দেশের দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ও আবাসন খরচ কমাতে এবার খুলনার পাশাপাশি ঢাকা ও রাজশাহীতেও পরীক্ষা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুবিধাজনক নিকটবর্তী কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে পারবেন — এটা এই বছরের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন।
পরীক্ষা পদ্ধতি: সম্পূর্ণ এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতি।
বিশেষ ভর্তি পরীক্ষা কমিটি: পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে একটি বিশেষ ভর্তি পরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তবে মনে রাখবেন — আবেদন শুরুর তারিখ, আবেদনের যোগ্যতা, আবেদন ফি, এডমিট কার্ড ডাউনলোড, সিট প্ল্যান ও মানবণ্টনের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশিত হয়নি। এগুলো অফিশিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তি (KUET Admission Circular 2027) প্রকাশের পরই জানা যাবে। নিচে গতবারের (২০২৫–২৬ সেশন) নির্ভরযোগ্য তথ্যগুলো "গতবার" উল্লেখ করে দেওয়া হলো, যাতে আপনি এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারেন।
কুয়েটের বিভাগ ও সিট সংখ্যা (Faculty-wise Department & Seats)
কুয়েটে মোট ৩টি অনুষদের অধীনে ১৬টি বিভাগ রয়েছে। গত শিক্ষাবর্ষে মোট আসন ছিল ১,০৬৫টি (১,০৬০টি নিয়মিত + ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের জন্য ৫টি সংরক্ষিত আসন)। ২০২৬–২৭ সেশনের আসন সংখ্যা এখনো ঘোষণা হয়নি, তবে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ (Faculty of Civil Engineering)
বিভাগ | কোড | আসন (গতবার) |
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং | CE | ১২০ |
বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট | BECM | ৬০ |
আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং | URP | ৬০ |
আর্কিটেকচার | ARCH | ৪০ |
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ
বিভাগ | কোড | আসন (গতবার) |
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং | EEE | ১২০ |
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং | CSE | ১২০ |
ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং | ECE | ৬০ |
বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং | BME | ৩০ |
ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং | MSE | ৬০ |
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ
বিভাগ | কোড | আসন (গতবার) |
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং | ME | ১২০ |
ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট | IEM | ৬০ |
লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং | LE | ৬০ |
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং | TE | ৬০ |
এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং | ESE | ৩০ |
কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং | ChE | ৩০ |
মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং | MTE | ৩০ |
লক্ষণীয়: CE, EEE, ME ও CSE — এই চারটি বিভাগে সর্বোচ্চ ১২০টি করে আসন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এগুলোতেই চাহিদা সবচেয়ে বেশি। গতবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১১,৭১৩ জন পরীক্ষার্থী (উপস্থিতির হার ৮৯.৩৫%) — অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিযোগিতা ছিল প্রায় ১১ জনের।
কুয়েট ভর্তির আবেদনের যোগ্যতা (Eligibility Criteria)
২০২৬–২৭ সেশনের আবেদনের যোগ্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। গত শিক্ষাবর্ষগুলোর ধারা অনুযায়ী সাধারণ শর্তগুলো নিচে দেওয়া হলো — এগুলোকে চূড়ান্ত শর্ত না ভেবে প্রস্তুতির বেসলাইন হিসেবে নিন, পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে মিলিয়ে নেবেন।
গতবারের আলোকে সম্ভাব্য যোগ্যতা
এসএসসি ও এইচএসসি (বা সমমান): বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হতে হবে। সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষাতেই আলাদা আলাদা ন্যূনতম জিপিএ নির্ধারণ করা থাকে।
বিষয়ভিত্তিক শর্ত: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতে এইচএসসিতে নির্দিষ্ট গ্রেড (সাধারণত A বা তার বেশি) থাকা লাগে। ইংরেজিতেও অনেক বছর ন্যূনতম গ্রেডের শর্ত থাকে।
বিদেশি ও ডিপ্লোমা প্রার্থী: সমমান সার্টিফিকেটধারী ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা নির্দেশনা থাকে — বিদেশি প্রার্থীরা সরাসরি আবেদন না করে সরকার-টু-সরকার (government-to-government) প্রক্রিয়ায় আবেদন করেন।
অনুমোদিত পরীক্ষার্থীর তালিকা: আবেদন শেষে যোগ্যতা যাচাই করে কুয়েট একটি যোগ্য প্রার্থীর তালিকা (eligible candidates list) প্রকাশ করে — শুধু এই তালিকায় থাকা প্রার্থীরাই ফি পরিশোধ করে এডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে পারেন। গতবার অনলাইন আবেদনের জন্য সর্বোচ্চ প্রায় ২০,০০০ পরীক্ষার্থীকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
> সতর্কবার্তা: যেকোনো ওয়েবসাইটে যদি দেখেন "২০২৭ সেশনের আবেদন যোগ্যতা প্রকাশিত" — সেটি যদি কুয়েটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের বিজ্ঞপ্তি থেকে না আসে, তবে সেটিকে গতবারের তথ্য হিসেবেই ধরুন। শুধু কুয়েট ভর্তি পোর্টালের বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত।
কুয়েট ভর্তি আবেদন ফি ও তারিখ (Application Fee & Schedule)
২০২৬–২৭ সেশনের অনলাইন আবেদন শুরুর তারিখ, শেষ তারিখ ও আবেদন ফি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে পরীক্ষা ৮ জানুয়ারি ২০২৭ হওয়ায়, গতবারের সময়সূচির আলোকে একটি বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা সাজানো যায়:
ধাপ (গতবারের ক্রম অনুযায়ী) | আনুমানিক সময়কাল |
পূর্ণাঙ্গ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ | অক্টোবর–নভেম্বর ২০২৬ (প্রত্যাশিত) |
অনলাইন আবেদন শুরু | নভেম্বর–ডিসেম্বর ২০২৬ (প্রত্যাশিত) |
অনলাইন আবেদন শেষ | ডিসেম্বর ২০২৬ (প্রত্যাশিত) |
যোগ্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ | ডিসেম্বর ২০২৬ (প্রত্যাশিত) |
এডমিট কার্ড ডাউনলোড | পরীক্ষার ১–২ সপ্তাহ আগে (প্রত্যাশিত) |
ভর্তি পরীক্ষা | ৮ জানুয়ারি ২০২৭ (নিশ্চিত) |
আবেদন ফি: গত শিক্ষাবর্ষগুলোতে ফি পরিশোধ করা হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং/ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। ২০২৬–২৭ সেশনের নির্দিষ্ট ফি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই জানা যাবে — বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কোনো ফি'র অঙ্ক বিশ্বাস করবেন না।
কুয়েট ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে (How to Apply)
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। গতবারের পদ্ধতি অনুযায়ী ধাপগুলো:
অফিশিয়াল ভর্তি পোর্টালে যান — কুয়েটের ভর্তি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে "Undergraduate Admission 2026–27" লিংকে ক্লিক করুন।
অনলাইন ফরম পূরণ করুন — এসএসসি ও এইচএসসির রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বোর্ড, পাসের বছরসহ ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে দিন।
ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করুন — বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সাইজ ও ফরম্যাটে পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও স্বাক্ষরের স্ক্যান কপি আপলোড করুন।
প্রাথমিক আবেদন ফি পরিশোধ করুন — নির্ধারিত মাধ্যমে ফি পরিশোধ করে আবেদন সাবমিট করুন।
যোগ্য প্রার্থীর তালিকা দেখুন — আবেদন শেষে প্রকাশিত তালিকায় আপনার রোল/আবেদন নম্বর আছে কিনা যাচাই করুন।
চূড়ান্ত ফি পরিশোধ ও এডমিট কার্ড — তালিকায় নাম থাকলে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে এডমিট কার্ড ডাউনলোড করুন ও প্রিন্ট নিন।
কেন্দ্র নির্বাচন — এবার খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী — তিনটি কেন্দ্রের মধ্যে আপনার সুবিধাজনক কেন্দ্র বাছাইয়ের সুযোগ থাকার কথা; বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্র নির্বাচনের নিয়ম দেখে নিন।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস: ফরমে মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা একদম সঠিক দিন — এডমিট কার্ড, সিট প্ল্যান ও রেজাল্ট সংক্রান্ত সব নোটিশ এগুলোতেই আসে।
কুয়েট ভর্তি এডমিট কার্ড ও সিট প্ল্যান (Admit Card & Seat Plan)
এডমিট কার্ড ডাউনলোড: যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ে ভর্তি পোর্টাল থেকে এডমিট কার্ড ডাউনলোড করা যাবে। এডমিট কার্ড ছাড়া পরীক্ষা হলে প্রবেশ করা যাবে না — তাই কমপক্ষে ২ কপি প্রিন্ট করে রাখুন।
সিট প্ল্যান: পরীক্ষার কয়েকদিন আগে কেন্দ্রভিত্তিক সিট প্ল্যান (কোন ভবনের কোন রুমে আপনার আসন) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এবার যেহেতু তিনটি শহরে একযোগে পরীক্ষা, তাই কেন্দ্রের নাম (খুলনা/ঢাকা/রাজশাহী) ও ভেন্যু সিট প্ল্যানে অবশ্যই মিলিয়ে নিন।
পরীক্ষার দিন যা নেবেন: এডমিট কার্ডের প্রিন্ট কপি, এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন কার্ড/জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, কালো বলপেন। মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা হলে নিষিদ্ধ থাকে।
কুয়েট ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও মানবণ্টন (Exam Pattern & Marks Distribution)
২০২৬–২৭ সেশনের পরীক্ষা সম্পূর্ণ এমসিকিউ পদ্ধতিতে হবে — এটা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত। গত শিক্ষাবর্ষের মানবণ্টন (যা এইবারের বেসলাইন হিসেবে কাজে লাগবে):
বিষয় | বিবরণ (গতবারের আলোকে) |
মোট নম্বর | ৫০০ নম্বর |
প্রশ্নের ধরন | এমসিকিউ (MCQ) |
পরীক্ষার সময় | সকাল ৯:৩০ – দুপুর ১২:৩০ (৩ ঘণ্টা) |
বি.আর্ক প্রার্থীদের জন্য অতিরিক্ত | ফ্রিহ্যান্ড ড্রয়িং পরীক্ষা, ১০০ নম্বর (দুপুর ১২:৪৫ – ১:৪৫) |
বিষয় | পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও ইংরেজি (এইচএসসি সিলেবাসভিত্তিক) |
নেগেটিভ মার্কিং: ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কাটার নিয়ম প্রতি বছর বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে। গতবারগুলোতে ভুল উত্তরে নম্বর কাটা হয়েছে — তাই নিশ্চিত না হলে আন্দাজে দাগানো থেকে বিরত থাকুন। চূড়ান্ত নিয়ম জানতে পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করুন।
কুয়েট ভর্তি রেজাল্ট ২০২৭ (Result)
ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয় কুয়েটের অফিশিয়াল ভর্তি পোর্টালে।
গতবার পরীক্ষার পরপরই মেধাতালিকা, অপেক্ষমাণ তালিকা, বিষয় পছন্দের নির্দেশনা ও ভর্তির সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছিল।
রেজাল্ট দেখার জন্য আবেদন নম্বর/রোল নম্বর সংরক্ষণ করে রাখুন। মেধাতালিকায় নাম এলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিষয় পছন্দ (subject choice) অনলাইনে জমা দিতে হয় — সময়মতো না করলে আসন বাতিল হতে পারে।
কুয়েট ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি — ৫টি কার্যকর টিপস
এইচএসসি সিলেবাসই মূল ভিত্তি: কুয়েটের প্রশ্ন এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও ইংরেজি সিলেবাস থেকে হয়। বোর্ড বইয়ের কনসেপ্ট ঝালিয়ে নিন — সূত্র মুখস্থের চেয়ে কনসেপ্ট বোঝা জরুরি।
গত বছরের প্রশ্ন সমাধান করুন: আগের ৫–৭ বছরের কুয়েট ভর্তি প্রশ্ন টাইমার ধরে সমাধান করুন। এতে প্রশ্নের ধরন, কঠিনতার মাত্রা ও সময় ব্যবস্থাপনা আয়ত্তে আসবে।
গণিতে গতি বাড়ান: ৫০০ নম্বরের ৩ ঘণ্টার পরীক্ষায় গণিত অংশে সবচেয়ে বেশি সময় যায়। শর্টকাট মেথড ও নিয়মিত প্র্যাকটিসে গতি বাড়ান।
ইংরেজিকে হালকাভাবে নেবেন না: অনেক পরীক্ষার্থী ইংরেজি অংশে পিছিয়ে পড়ে মেধাতালিকা থেকে ছিটকে যায়। ভোকাবুলারি ও গ্রামারের নিয়মিত চর্চা রাখুন।
মক টেস্ট ও নেগেটিভ মার্কিং কৌশল: নিয়মিত মক টেস্ট দিন এবং ভুল উত্তরে নম্বর কাটার হিসাব মাথায় রেখে "কোন প্রশ্নে দাগাবেন, কোনটায় নয়" — এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস গড়ুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
১. কুয়েট ভর্তি পরীক্ষা কবে ২০২৭?
কুয়েটের ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮ জানুয়ারি ২০২৭, শুক্রবার। ২৫ আগস্ট ২০২৬-এ একাডেমিক কাউন্সিলের ১১৮তম বিশেষ সভায় তারিখটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
২. কুয়েট ভর্তি পরীক্ষা কোথায় হবে?
এবার তিনটি বিভাগীয় শহর — খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহীতে একযোগে পরীক্ষা নেওয়া হবে। আপনি সুবিধাজনক কেন্দ্র বেছে নিতে পারবেন।
৩. কুয়েট ভর্তি পরীক্ষা কি এমসিকিউ পদ্ধতিতে হবে?
হ্যাঁ। ২০২৬–২৭ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে হবে — এটা কুয়েট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
৪. কুয়েট ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৭ কবে প্রকাশিত হবে?
পূর্ণাঙ্গ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশিত হয়নি। পরীক্ষা ৮ জানুয়ারি হওয়ায় অক্টোবর–নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে বিজ্ঞপ্তি আসার সম্ভাবনা প্রবল। অফিশিয়াল ভর্তি পোর্টালে নিয়মিত চোখ রাখুন।
৫. কুয়েটে মোট কতটি আসন আছে?
গত শিক্ষাবর্ষে ১৬টি বিভাগে মোট ১,০৬৫টি আসন ছিল (১,০৬০ নিয়মিত + ৫ সংরক্ষিত)। ২০২৬–২৭ সেশনের আসন সংখ্যা এখনো ঘোষণা হয়নি।
৬. কুয়েট ভর্তির আবেদনের যোগ্যতা কী?
২০২৬–২৭ সেশনের যোগ্যতা এখনো ঘোষণা হয়নি। গতবারের ধারায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসিতে ন্যূনতম জিপিএ এবং পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতে নির্দিষ্ট গ্রেডের শর্ত ছিল। চূড়ান্ত শর্ত জানতে পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করুন।
৭. কুয়েট ভর্তির আবেদন ফি কত?
২০২৬–২৭ সেশনের আবেদন ফি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই নির্দিষ্ট ফি'র অঙ্ক জানা যাবে — বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কোনো ফি'র তথ্য বিশ্বাস করবেন না।
৮. কুয়েট ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন কেমন?
পরীক্ষা হবে ৫০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে (সময় ৩ ঘণ্টা)। বি.আর্ক প্রার্থীদের জন্য রয়েছে অতিরিক্ত ১০০ নম্বরের ফ্রিহ্যান্ড ড্রয়িং পরীক্ষা। বিষয়ভিত্তিক বিস্তারিত মানবণ্টন পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হবে।
৯. কুয়েটের এডমিট কার্ড কবে পাওয়া যাবে?
যোগ্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের পর পরীক্ষার ১–২ সপ্তাহ আগে এডমিট কার্ড ডাউনলোডের সুযোগ দেওয়া হয় (গতবারের ধারা অনুযায়ী)। নির্দিষ্ট তারিখ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে।
১০. কুয়েট ভর্তি রেজাল্ট কবে দেবে?
ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল পরীক্ষার পর কুয়েটের অফিশিয়াল ভর্তি পোর্টালে প্রকাশ করা হয়। গতবার মেধাতালিকা, অপেক্ষমাণ তালিকা ও বিষয় পছন্দের নির্দেশনা একসাথে প্রকাশ করা হয়েছিল।
শেষ কথা
কুয়েট ভর্তি পরীক্ষা ২০২৭-এর তারিখ নিশ্চিত — ৮ জানুয়ারি ২০২৭। তিন বিভাগীয় শহরে একযোগে পরীক্ষা হওয়ায় এবার দূরের পরীক্ষার্থীদের জন্য সুযোগটা আরও সহজ হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই এইচএসসি সিলেবাসভিত্তিক প্রস্তুতি জোরদার করুন, আর বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের তারিখ ও এডমিট কার্ড সংক্রান্ত প্রতিটি আপডেটের জন্য নিয়মিত চোখ রাখুন কুয়েটের অফিশিয়াল ভর্তি পোর্টালে। শুভকামনা রইল আপনার কুয়েট যাত্রার জন্য!
৮
৮ মন্তব্য