ইসলামের দৃষ্টিতে সরকারি কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্ব অবহেলা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং মারাত্মক অপরাধ। এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি ও করণীয় নিচে তুলে ধরা হলো: [
1,
2]
ইসলামের দৃষ্টিতে অবস্থান ও বিধান
- আমানতের খেয়ানত: সরকারি দায়িত্ব ও সম্পদ হলো জনগণের এবং আল্লাহর দেওয়া আমানত। এতে অনিয়ম বা আত্মসাৎ করা সুস্পষ্ট 'খেয়ানত' বা বিশ্বাসঘাতকতা। কোরআনে আল্লাহ তাআলা আমানত নষ্ট করতে নিষেধ করেছেন। [1, 2]
- কবিরা গুনাহ: ব্যক্তিগত সম্পত্তি চুরি বা আত্মসাৎ করার চেয়ে রাষ্ট্রীয় বা জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করা আরও গুরুতর পাপ, কারণ এর সাথে সমগ্র জাতির হক বা অধিকার জড়িত। এটি কবীরা গুনাহ বা মহাপাপ। [1, 2, 3, 4]
- কাজের ফাঁকি ও হারাম উপার্জন: বিনা কারণে বা অনুমতি ছাড়া কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকা কিংবা যথাযথ দায়িত্ব পালন না করে বেতন গ্রহণ করা হারাম; এর দ্বারা অর্জিত আয় হালাল হয় না। [1]
- ঘুষ আদান-প্রদান: সরকারি কাজে ঘুষ নেওয়া এবং দেওয়া উভয়ই ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত নিন্দনীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়কে অভিশাপ দিয়েছেন। [1]
পরকালীন ও দুনিয়াবি পরিণতি
- জান্নাত হারাম হওয়া: দায়িত্বশীল ব্যক্তি খেয়ানত করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যাওয়ার কথা হাদিসে এসেছে।
- কিয়ামতের মাঠে জবাবদিহি: কিয়ামতের দিন প্রতিটি রাষ্ট্রীয় সম্পদের চুলচেরা হিসাব দিতে হবে। কারও হক নষ্ট করলে নেকি দিয়ে তা পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় পাওনাদারের পাপ বহন করে জাহান্নামে যেতে হবে।
- অভিশাপ ও লাঞ্ছনা: খেয়ানতকারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন না এবং তাদের ষড়যন্ত্র বা আত্মসাৎ সফল হতে দেন না। [1, 2, 3]
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী করণীয় ও হওয়া উচিত
তাওবা ও ইস্তিগফার: অনিয়ম বা আত্মসাতের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে অবিলম্বে খাঁটি মনে তওবা করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। [
1]
পাওনা বা আত্মসাৎকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়া: আত্মসাৎকৃত বা অন্যায়ভাবে নেওয়া সরকারি অর্থ বা সম্পদ রাষ্ট্রের কোষাগারে বা সংশ্লিষ্ট তহবিলে অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। বান্দার হক বা জনগণের হক মাফ হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তা পাওনাদারকে (এখানে জনগণ/রাষ্ট্র) ফিরিয়ে দেওয়া হয়। [
1]
দায়িত্বে সততা ও পূর্ণ সচ্ছতা: নিয়োগপ্রাপ্ত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ সততা, আমানতদারি ও নিষ্ঠার সাথে নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। [
1]
সামাজিক প্রতিরোধ ও সংস্কার: অন্যায় বা দুর্নীতির প্রতিবাদ করা এবং সৎ শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ইসলামে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। [
1]
৩
৩ মন্তব্য