সহকারী শিক্ষক
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষকের হাতে মূল্যায়নের ক্ষমতা আছে, সেই ক্ষমতার সঙ্গে ন্যায্যতার দায়ও আছে। একটি নম্বর, একটি মন্তব্য কিংবা একটি সুপারিশ শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ সুযোগকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই মূল্যায়নের মানদণ্ড স্পষ্ট হতে হবে, সবাইকে একই মানদণ্ডে বিচার করতে হবে এবং শিক্ষার্থীকে বুঝতে সাহায্য করতে হবে—সে কোথায় ভুল করেছে, কীভাবে উন্নতি করতে পারে। ন্যায্যতা শিক্ষার্থীরা বইয়ে পড়বে, শিক্ষকের আচরণেও দেখবে।
আজ মঙ্গলবার বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে ৪৯তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এসময় তিনি বলেন, এতদিন আপনার যোগ্যতা যাচাই হয়েছে, এখন আপনার মাধ্যমে অন্যের যোগ্যতা বিকশিত হবে। বিসিএস পর্যন্ত আপনারা নিজের প্রস্তুতি, ফল ও সাফল্যের জন্য পরিশ্রম করেছেন। আজ থেকে দায়িত্বের পরিধি বদলে গেল। এখন আপনাদের সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত হবে এমন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, যে হয়তো নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে এখনো আত্মবিশ্বাসী নয়। তাকে সেই সামর্থ্য চিনতে সাহায্য করাই শিক্ষকতার বড় দায়িত্ব।
যে শিক্ষার্থী সহজে শেখে না, তার কাছেই শিক্ষকের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। মেধাবী ও আত্মবিশ্বাসী শিক্ষার্থীকে পড়ানো তুলনামূলক সহজ। কিন্তু যে শিক্ষার্থী বারবার ভুল করে, প্রশ্ন করতে সংকোচ বোধ করে কিংবা পড়া ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে—তাকে শেখার মধ্যে ধরে রাখতে পারার মধ্যেই শিক্ষকের দক্ষতার গভীরতা প্রকাশ পায়। শ্রেণিকক্ষের সাফল্য বিচার করার সময় পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীটি কত দূর এগোল, সেটিও দেখতে হবে।
প্রশ্ন করার সাহস তৈরি করা শিক্ষার একটি বড় অর্জন। আমরা যদি এমন শ্রেণিকক্ষ তৈরি করি, যেখানে ভুল উত্তর দেওয়ার ভয়ে শিক্ষার্থী চুপ থাকে, তাহলে তার চিন্তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। শিক্ষককে এমন আস্থা তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থী বলতে পারে—“আমি বুঝিনি”, “আমার প্রশ্ন আছে”, কিংবা “আমি বিষয়টি অন্যভাবে ভাবছি।” যুক্তিসংগত প্রশ্নকে সম্মান করতে শেখাও নাগরিক শিক্ষার অংশ।
তিনি বলেন, সরকারি কলেজ অনেক পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলানোর সবচেয়ে বড় সুযোগ রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার বাড়তি শিক্ষাসহায়তা কিনতে পারে না। তাদের জন্য নিয়মিত ও মানসম্মত শ্রেণিকক্ষই প্রধান ভরসা। একটি ক্লাস প্রস্তুতি ছাড়া নেওয়া হলে তার ক্ষতি সবার সমান হয় না, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই শিক্ষার্থী, যার শেখার বিকল্প সুযোগ সবচেয়ে কম। এই বাস্তবতা আমাদের পেশাগত দায়িত্বকে আরও গভীর করে।
যেখানে দায়িত্ব পাবেন, সেখানকার শিক্ষার্থীর জীবনকে জানুন। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীটি সব সময় অনাগ্রহী নয়, সে হয়তো কাজ করে, দূর থেকে আসে কিংবা পরিবারের দায়িত্ব বহন করে। সমস্যার কারণ না বুঝে শুধু শাস্তি দিলে সমাধান নাও হতে পারে। কর্মস্থলে গিয়ে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করুন। সেই বোঝাপড়াই আপনাদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর ও মানবিক করবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতার শুরুতেই নিজের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। একটি অধ্যায় পড়ানোর পর নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন—কতজন বুঝল? যারা বুঝল না, তাদের জন্য আমি কী বদলাব? একই পদ্ধতিতে বারবার পড়িয়ে ভিন্ন ফল আশা করলে চলবে না। শিক্ষার্থীর কাজ, প্রশ্ন ও ভুল থেকে তথ্য নিয়ে নিজের পাঠদান উন্নত করা শিক্ষকতার গুরুত্বপূর্ণ চর্চা।
প্রযুক্তির যুগে শিক্ষকের বুদ্ধিবৃত্তিক দায়িত্ব আরও গভীর। শিক্ষার্থী এখন মুহূর্তে একটি উত্তর পেতে পারে। কিন্তু উত্তরটি নির্ভরযোগ্য কি না, তার পেছনের যুক্তি কী এবং কোন পরিস্থিতিতে সেটি প্রয়োগ করা যায়—এসব বুঝতে শিক্ষকের সহায়তা প্রয়োজন। এমন কাজ দিন, যেখানে শিক্ষার্থীকে নিজের যুক্তি ব্যাখ্যা করতে হয়, স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হয় এবং নিজের সিদ্ধান্তের দায় নিতে হয়।
প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা বোঝা যাবে কর্মস্থলে আপনাদের সিদ্ধান্তে। এই প্রশিক্ষণ থেকে প্রত্যেকে তিনটি বাস্তব অঙ্গীকার নিয়ে যেতে পারেন, একটি পাঠদানের উন্নয়ন, একটি শিক্ষার্থী সহায়তার উদ্যোগ এবং একটি প্রশাসনিক কাজ আরও স্বচ্ছভাবে করার ব্যবস্থা। প্রথম তিন মাস শেষে নিজেই পর্যালোচনা করুন—কী করতে চেয়েছিলেন, কী করতে পেরেছেন এবং কোথায় সহায়তা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কর্মজীবনের শুরুতেই ঠিক করুন, আপনাকে কোন কাজের জন্য মনে রাখা হবে। পদবি ও পদোন্নতি কর্মজীবনের অংশ। পাশাপাশি ভাবুন—আপনার কাছে পড়ে কোনো শিক্ষার্থী কি নিজের ওপর আস্থা পেয়েছে? আপনার সিদ্ধান্তে কেউ কি ন্যায্য সুযোগ পেয়েছে? আপনার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠান কি একটু ভালো হয়েছে? বহু বছর পর এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই আপনাদের পেশাগত জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন হয়ে থাকবে।
শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।
দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
৩
৩ মন্তব্য