Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ

বই পড়ার অভ্যাস: নতুন প্রজন্মের মাঝে পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলার উপায়।


​আজকের ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া আর ভিডিও গেমের ভিড়ে নতুন প্রজন্মের জীবন থেকে যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার সোনালী অভ্যাসটি। ইন্টারনেট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে চাইলেই এক ক্লিকে সব তথ্য সামনে চলে আসে বটে, কিন্তু বইয়ের পাতা উল্টে পড়ার মাঝে যে প্রশান্তি এবং মননশীলতার বিকাশ ঘটে, তার কোনো বিকল্প নেই। বই শুধু জ্ঞানের পরিধিই বাড়ায় না, বরং মানুষের কল্পনাশক্তিকে প্রসারিত করে, সৃজনশীলতা বাড়ায় এবং মানসিক উৎকর্ষ সাধনে জাদুকরী ভূমিকা রাখে। তাই বর্তমান প্রজন্মের মাঝে প্রযুক্তির অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বইমুখী করে তোলা এখন সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি।

​এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি বাস্তবায়নের শুরুটা হতে হবে পরিবার থেকেই। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের হাতে খেলনার পাশাপাশি শিক্ষণীয় ও আকর্ষণীয় ছবিওলা বই তুলে দেওয়া উচিত। ঘরের একটি কোণে ছোট্ট বুকশেলফ বা পাঠের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করলে শিশুদের মাঝে বই পড়ার আগ্রহ জন্মায়। মা-বাবা যদি নিজে নিয়মিত বই পড়েন, তবে তা দেখে শিশুরা অবচেতনভাবেই বইয়ের প্রতি অনুরাগী হয়ে ওঠে। অনেক সময় শিশুদের জোর করে বই পড়াতে গেলে উল্টো ফল পাওয়া যায়; এর চেয়ে বরং তাদের বয়সোচিত গল্পের বই, রূপকথা কিংবা সহজ ভাষার অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস উপহার দেওয়া বেশি ফলপ্রসূ হয়।

​পরিবারের পাশাপাশি বিদ্যালয় এবং শিক্ষক সমাজেও পাঠাভ্যাস গড়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। কেবল পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিতে গিয়ে সময় কাটাতে উৎসাহিত করতে পারেন। প্রতি সপ্তাহে লাইব্রেরির বই পড়া নিয়ে ছোট আড্ডা বা মূল্যায়ন সেশনের আয়োজন করলে শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বইমেলা আয়োজন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা কিংবা বইয়ের বিভিন্ন চরিত্র নিয়ে নাটিকা পরিবেশনের ব্যবস্থা করলে পড়াশোনা বিষয়টি আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।

​স্মার্টফোনের পর্দা থেকে নতুন প্রজন্মকে বইয়ের পাতার দিকে ফিরিয়ে আনতে সামাজিক ও ডিজিটাল মাধ্যমকেও কাজে লাগানো যেতে পারে। আজকাল অনেক তরুণ ই-বুক বা অডিওবুকের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে, যা বই পড়ার একটি আধুনিক মাধ্যম হতে পারে। তবে ফিজিক্যাল বই পড়ার অনুভতি সম্পূর্ণ আলাদা। তাই স্ক্রিনটাইম কিছুটা সীমিত করে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা বই পড়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে। বই আমাদের বিশ্বস্ত বন্ধু, যা কোনো দিন বিশ্বাসঘাতকতা করে না। আসুন, আমরা সম্মিলিতভাবে নতুন প্রজন্মের হাতে বই তুলে দিই, যাতে তারা আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ