Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:৩৬ অপরাহ্ণ

কেউ পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব জানতে চাইলেই ডিএনএ টেস্ট করতে পারে?

কেউ পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব জানতে চাইলেই ডিএনএ টেস্ট করতে পারে?


বাংলাদেশে কেবলমাত্র দুটি সরকারি ল্যাবরেটরিতে পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নিরূপনের জন্য ফরেনসিক ডিএনএ টেস্ট করা যায় বলে জানান সংস্থা দুটির কর্মকর্তারা।

এর মধ্যে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডির একটি ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি রয়েছে।


এছাড়া, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি নামে আরেকটি ল্যাবরেটরি রয়েছে।


ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির সায়েন্টিফিক অফিসার আবু সুফিয়ান বলেন, "বাচ্চার বাবা-মা সম্বন্ধে জানতে চাইলে সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাব অথবা ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিতে যেতে হবে। আর বাচ্চার জেনেটিক ডিজিজ সম্বন্ধে জানতে চাইলে বিভিন্ন ল্যাব রয়েছে।"


তবে, পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব জানতে ব্যক্তিগতভাবে এই দুইটি প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি ডিএনএ টেস্ট করতে চায় তাহলে তা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

তবে, যদি থানা বা আদালতে কোনো মামলা হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বা আদালত কারো পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নিরূপণের নির্দেশ দেয় সেক্ষেত্রেই কেবল বাংলাদেশে ডিএনএ টেস্ট করা যায়।


অর্থাৎ মামলা হলে পুলিশ বা আদালতের নির্দেশে এই দুইটি সরকারি ল্যাবরেটরি ফরেনসিক ডিএনএ টেস্ট করে থাকে।

"কোর্ট কেইস থাকতে হবে, পুলিশ কেইস থাকতে হবে। মানে পুলিশ বা কোর্ট অনুমতি দিলে সরকারি ল্যাব দুইটা তখন বাচ্চার বাবা-মার পরিচয় জানতে ফরেনসিক ডিএনএ টেস্ট করে থাকে। কিন্তু কেইস ছাড়া এই টেস্ট করা যাবে না কারণ ফরেনসিক ডিএনএ টেস্টের জন্যই এগুলো বানানো হয়েছে," বলেন মি. সুফিয়ান।


একইসঙ্গে, অনেক সময় প্রয়োজন হলে ইমিগ্রেশনের সময়ও ফরেনসিক ডিএনএ টেস্ট করতে হয়।

ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির সায়েন্টিফিক অফিসার মি. সুফিয়ান উদাহরণ দিয়ে বলেন, "যেমন- বাবা থাকে বিদেশে, স্ত্রী ও বাচ্চাকে নিতে চায়। সেক্ষেত্রে বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে ওই বাচ্চার ডিএনএ টেস্ট করতে হয়। দূতাবাস এই নির্দেশ দিয়ে থাকে।"


এছাড়া, বাংলাদেশে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের জন্য ফরেনসিক ডিএনএ টেস্ট করা বাধ্যতামূলক
কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের নির্দেশে আত্মীয় নিরূপণের জন্য এই ফরেনসিক ডিএনএ টেস্ট করা হয়, যেটি এই দুইটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে করা হয়ে থাকে বলে জানান তিনি।


এদিকে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডির স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) মো. ছুফি উল্লাহ জানান, একমাত্র কোর্টের আদেশ ছাড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সিআইডির ল্যাবরেটরিতে কোন ডিএনএ টেস্ট করা হয় না।

"কেস রিলেটেড মানে ডিউ টু কোর্ট অর্ডার সবকিছু হয়ে থাকে। কোর্টের অর্ডার ছাড়া কোনো ডিএনএ টেস্ট করা হয় না" বলেন মি. উল্লাহ। পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নিরূপণের জন্য যে ডিএনএ টেস্ট করা হয় সেটি করতে হলে নির্দিষ্ট একটি প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে।


বর্তমানে একটি শিশুর ডিএনএ টেস্ট করার আলোচনার কথা উল্লেখ করলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, এইক্ষেত্রে পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব জানতে হলে অবশ্যই সরাসরি থানায় জিডি বা মামলা অথবা সরাসরি ঢাকার বিচারিক আদালতে মামলা করতে হবে।

এরপর আদালত নির্দেশ দিলেই এই ধরনের ডিএনএ টেস্ট করা হয়ে থাকে বলে জানান তিনি।

মো. ছুফি উল্লাহ জানান, "এক্ষেত্রে যে কোনো ব্যক্তি সরাসরি কোর্টের আমলী আদালতে গিয়েও মামলা করতে পারে। আবার থানায় জিডি বা মামলা করেও ডিএনএ টেস্ট করার জন্য কোর্টের আদেশ চাইতে পারে। কোর্ট আদেশ দিলেই সিআইডি এই টেস্ট করে।"


মন্তব্য করুন