Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:৪৭ অপরাহ্ণ

নজরুল সংগীতে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম

বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম ও আমাদের স্নেহা কবিরাজের অপরাজিতা!


কিছু কিছু কণ্ঠ থাকে, যা শুধু গান গায় না—হৃদয়ের গোপন দরজায় মৃদু করাঘাত করে। কিছু কিছু সাফল্য থাকে, যা শুধু আনন্দ দেয় না—চোখের কোণে অজান্তেই জল জমায়। স্নেহা, তুমি যেন তেমনই এক মায়াময় বিস্ময়।

সময় বয়ে যায়। শৈশব ফুরিয়ে আসে। ছোট্ট ছোট্ট মুখগুলো একদিন বড় হয়ে যায়। অথচ তাদের ঘিরে আমাদের যে স্বপ্ন, যে ভালোবাসা, যে নিঃশব্দ অপেক্ষা—সেগুলো কোথাও যেন আটকে থাকে। শ্রেণিকক্ষের কোনো এক কোণে, বিদ্যালয়ের পুরোনো বারান্দায়, কিংবা কোনো এক বিকেলের মায়াবী আলোয়।

স্নেহা, তুমি যখন গাও, তখন মনে হয়—আমাদের এই ছোট্ট পৃথিবীটাও কত সুন্দর! তোমার কণ্ঠে যেন জমে থাকে নদীর জল, আকাশের নীল, মাটির গন্ধ আর এক বুক অচেনা মায়া। তোমার গানের ভেতর দিয়ে আমরা যেন ফিরে পাই হারিয়ে যাওয়া কোনো শৈশব, ফেলে আসা কোনো বিকেল, কিংবা জীবনের সেইসব দিন, যাদের কাছে আজও আমাদের ফিরে যেতে ইচ্ছে করে।

স্কুল পর্যায় থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা, আর জেলা পেরিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন—তোমার এই জয়যাত্রা শুধু একটি শিশুর সাফল্যের গল্প নয়; এটি আমাদের ভালোবাসার, আমাদের স্বপ্নের, আমাদের ছোট্ট বিদ্যালয়ের বড় হয়ে ওঠার গল্প।

তবু জানো মা, আনন্দেরও একধরনের বিষণ্নতা আছে। যখন খুব গর্ব হয়, তখন বুকের ভেতর কেমন যেন শূন্যতা জাগে। মনে হয়, এই তো সেদিন তুমি ছোট্ট পায়ে বিদ্যালয়ে এসেছিলে! আজ তোমার কণ্ঠ ছড়িয়ে পড়ছে দূর থেকে দূরে। একদিন হয়তো আরও বহুদূর চলে যাবে তুমি। তখন এই বিদ্যালয়ের আঙিনায় দাঁড়িয়ে তোমার জন্য গর্ব হবে, আর মনের অজান্তে তোমাকে ঘিরে থাকা দিনগুলোর জন্য মন খারাপ হবে।

কে তুমি, অপরাজিতা? তুমি কি সকালের সেই সূর্য, যার আলোয় অন্ধকার সরে যায়? নাকি সন্ধ্যার সেই তারা, যাকে দেখতে দেখতে মানুষের পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে?

তুমি আমাদের ছোট্ট আকাশের এক টুকরো স্বপ্ন। তোমার সাফল্যে আমাদের সম্মান বেড়েছে, আমাদের মাথা উঁচু হয়েছে। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা—তুমি আমাদের হৃদয়ে এমন এক মায়া রেখে গেছ, যা কোনো পুরস্কার দিয়ে মাপা যায় না।

এগিয়ে যাও, মা। তোমার কণ্ঠে আলো ছড়াক, তোমার স্বপ্ন ডানা মেলুক। পৃথিবীর বড় বড় মঞ্চ একদিন তোমার অপেক্ষায় থাকুক। শুধু কোনো একদিন, বহুদূরে দাঁড়িয়েও যেন মনে পড়ে—একটি ছোট্ট বিদ্যালয় ছিল, কিছু মায়াময় মুখ ছিল, কিছু মানুষ ছিল, যারা তোমার প্রথম দিককার সাফল্যে নিজের সন্তানের মতো আনন্দে কেঁদেছিল।

তুমি আমাদের চ্যাম্পিয়ন, আমাদের অপরাজিতা। তুমি আমাদের গর্ব। আর তোমাকে ঘিরে জমে থাকা এই মায়া—এ আমাদের একান্ত ব্যক্তিগত, বিষণ্ন মধুর সম্পদ।

অনেক ভালোবাসা ও আশীর্বাদ, মা। তোমার আকাশ হোক অসীম, তোমার পথ হোক আলোকিত। আর আমাদের এই ছোট্ট বিদ্যালয়ের স্মৃতিটুকু তোমার হৃদয়ে বেঁচে থাকুক—কোনো এক নীরব বিকেলের মিষ্টি বিষণ্নতার মতো।

মন্তব্য করুন

ব্লগ