Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০০ পূর্বাহ্ণ

শায়েস্তা খানের আমলে সত্যিই কি টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত?

সত্যিই টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেতো?


বর্তমানে বাংলাদেশে কয়েকদিন পরপরই বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। দ্রব্যমূল্যের পাশাপাশি চালের দামও প্রায়ই বাড়ছে বাজারে।

তাই নিত্য ও ভোগ্য পণ্যের দাম যখনই বাড়ে তখনই মানুষ সেই শায়েস্তা খানের আমলকে সামনে আনে। কারণ সেই সময়ের জিনিসপত্রের দাম।

শায়েস্তা খানের শাসনামলের বর্ণনা দিতে গিয়ে উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রাডলি বার্ট লিখেন, "তাঁর স্মৃতি আজো প্রদেশব্যাপী সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বলা হয়ে থাকে যে তার শাসনামলে চাল এত সস্তায় বিক্রি হত যে এক টাকায় ৭৪০ পাউন্ড বা আট মন চাল পাওয়া যেতো"।

ইতিহাসবিদদের মতে, শুধু আট মণ নয় কখনো কখনো টাকায় নয় মণেরও বেশি চাল পাওয়া যেতো।

ডক্টর মোহর আলী 'মুঘল আমলে বাংলায় মুসলিম শাসনের ইতিহাস' বইয়ে লিখেন- "তিনি তার এই কৃতিত্বের ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। তাই শেষবারের মত প্রদেশ ত্যাগের সময় তিনি জাহাঙ্গীর নগরের (ঢাকার) পশ্চিম ফটকে এই কথা উৎকীর্ণ করে দিয়েছিলেন- "যিনি চালের দর এত সস্তায় নামিয়ে আনতে পারবেন শুধু তিনিই যেন এই ফটক খোলেন"।

ইতিহাসের শিক্ষক ও গবেষক ড. নাসিমা হামিদ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "সুবেদার শায়েস্তা খানের আমলে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কম ছিল। তখন টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক এবং বিদেশী পর্যটকদের বিবরণী থেকে এর সত্যতা পাওয়া যায়"।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আব্দুল করিমও বিষয়টিকে এভাবে উল্লেখ করেছেন যে- "এর আগে এত সস্তা আর কোন সময় ছিল না"।

ইতিহাসবিদদের বইয়ে উঠে এসেছে, চালের দাম টাকায় আট মণ না হওয়া পর্যন্ত লালবাগ দুর্গের পশ্চিম গেটটি বন্ধ ছিল সুজাউদ্দীন মুহাম্মদ খানের সুবাদারী পর্যন্ত।

ইতিহাসবিদ মি. আলীর বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭৪০ সালে নবাব সরফরাজ খানের সময়ে চালের মূল্য আবার কমে টাকায় আট মণ হলে ঐ গেইট খোলা হয়। এই তথ্যও অধ্যাপক করিমও উল্লেখ করেছেন তার বইয়ে।

মন্তব্য করুন