সহকারী অধ্যাপক
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:১৯ পূর্বাহ্ণ
পঞ্চম শ্রেণির বই PDF ২০২৬ | Class 5 Book PDF
📖 পঞ্চম শ্রেণির বই পিডিএফ ডাউনলোড করুন
পঞ্চম শ্রেণির বই PDF ২০২৬ | Class 5 Book PDF
পঞ্চম শ্রেণির সব বইয়ের PDF খুঁজছেন? এই পোস্টে বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) প্রকাশিত ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পঞ্চম শ্রেণির সম্পূর্ণ বইয়ের তালিকা, বাংলা ভার্সন ও ইংরেজি ভার্সনের (English Version) বিবরণ, প্রতিটি বইয়ে কী আছে, এবং NCTB-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বই ডাউনলোড করার নিয়ম এক জায়গায় পাবেন। যারা class 5 book pdf লিখে গুগলে খোঁজেন — শিক্ষার্থী, অভিভাবক কিংবা শিক্ষক — এই পোস্টটি তাদের সবার জন্য।
একটি কথা শুরুতেই পরিষ্কার করে নিই। পঞ্চম শ্রেণির বই বলতে এখানে বাংলাদেশের NCTB-র বই বোঝানো হয়েছে। ইংরেজিতে class 5 book pdf লিখে সার্চ করলে ভারতের NCERT বা পশ্চিমবঙ্গের WBBSE বোর্ডের বইও চলে আসে, কিন্তু সেগুলো বাংলাদেশের সিলেবাসের বই নয়। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের দরকার NCTB-র বই, আর সেগুলোই এখানে দেওয়া হলো।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য NCTB মোট ৬৪৭টি পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করেছে, যা ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর NCTB-র ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। পঞ্চম শ্রেণির বইগুলোও সেই ২০২৬ সংস্করণেরই অংশ। প্রাথমিক স্তরের সব বই ছাপা শেষ করে ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগেই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তাই নিচের তালিকাটি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অফিসিয়াল তালিকা — পুরোনো বছরের বইয়ের তালিকা নয়।
এই শ্রেণিতে মোট কয়টি বই
NCTB-র ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় পঞ্চম শ্রেণির (প্রাথমিক স্তর) মোট ৯টি পাঠ্যপুস্তক রয়েছে।
তবে একটি ভুল ধারণা এখানেই ভেঙে দেওয়া দরকার — ৯টি বইয়ের সবগুলো একজন শিক্ষার্থী পড়ে না। তালিকার ৯টির মধ্যে ধর্ম শিক্ষার ৪টি বই রয়েছে, যার মধ্যে শিক্ষার্থী নিজের ধর্ম অনুযায়ী মাত্র ১টি পড়ে। হিসাবটা এভাবে দাঁড়ায় —
সবার জন্য আবশ্যিক বই: ৫টি (আমার বাংলা বই, English for Today, প্রাথমিক গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়)
ধর্ম শিক্ষা: নিজের ধর্মের ১টি
মোট: একজন শিক্ষার্থীর হাতে আসে ৬টি বই
অর্থাৎ class 5 all book বলতে NCTB-র তালিকায় ৯টি, আর একজন শিক্ষার্থীর পড়ার বই ৬টি। প্রাথমিক স্তরে মাধ্যমিকের মতো আলাদা ঐচ্ছিক বিষয় বা বিভাগ নেই, তাই হিসাবটা এখানে অনেক সহজ।
পঞ্চম শ্রেণির বইয়ের তালিকা ২০২৬
নিচে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পঞ্চম শ্রেণির সম্পূর্ণ বইয়ের তালিকা দেওয়া হলো — বাংলা ভার্সন ও ইংরেজি ভার্সনসহ। প্রতিটি বইয়ের পাশে মন্তব্য দেওয়া আছে, যাতে বুঝতে সুবিধা হয় কোন বইটি কাদের জন্য।
ক্রমিক | পাঠ্যপুস্তকের নাম (বাংলা ভার্সন) | পাঠ্যপুস্তকের নাম (ইংরেজি ভার্সন) | মন্তব্য |
১ | আমার বাংলা বই | আমার বাংলা বই | বাংলা বিষয়ের মূল পাঠ্যবই, সবাই পড়ে |
২ | English for Today | English for Today | ইংরেজি বিষয়ের মূল পাঠ্যবই, সবাই পড়ে |
৩ | প্রাথমিক গণিত | প্রাথমিক গণিত | গণিতের মূল পাঠ্যবই, সবাই পড়ে |
৪ | প্রাথমিক বিজ্ঞান | প্রাথমিক বিজ্ঞান | বিজ্ঞানের মূল পাঠ্যবই, সবাই পড়ে |
৫ | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | সমাজ ও পরিবেশ-সংক্রান্ত বিষয়, সবাই পড়ে |
৬ | ইসলাম শিক্ষা | ইসলাম শিক্ষা | ধর্ম শিক্ষা — মুসলিম শিক্ষার্থীরা পড়ে, ৪টির মধ্যে ১টি |
৭ | হিন্দুধর্ম শিক্ষা | হিন্দুধর্ম শিক্ষা | ধর্ম শিক্ষা — হিন্দু শিক্ষার্থীরা পড়ে, ৪টির মধ্যে ১টি |
৮ | বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা | বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা | ধর্ম শিক্ষা — বৌদ্ধ শিক্ষার্থীরা পড়ে, ৪টির মধ্যে ১টি |
৯ | খ্রিষ্টধর্ম শিক্ষা | খ্রিষ্টধর্ম শিক্ষা | ধর্ম শিক্ষা — খ্রিষ্টান শিক্ষার্থীরা পড়ে, ৪টির মধ্যে ১টি |
একটি জিনিস লক্ষ করুন — NCTB-র পাতায় ইংরেজি ভার্সনের বইগুলো একই নামে তালিকাভুক্ত থাকে। এর মানে এই নয় যে ইংরেজি ভার্সন নেই। ইংরেজি ভার্সনের PDF-গুলোর ভেতরের পাঠ্য ইংরেজিতে লেখা, শুধু তালিকায় নাম একইভাবে দেওয়া থাকে। তাই class 5 english version book pdf খুঁজলেও NCTB-র ওয়েবসাইটে একই তালিকা থেকে ইংরেজি ভার্সনের ডাউনলোড লিংকটা বেছে নিতে হবে।
ধর্ম শিক্ষার বইগুলোর ক্ষেত্রে নিয়মটা সহজ — নিজের ধর্মের বইটি নেবে, বাকি তিনটি নয়। আর পঞ্চম শ্রেণিতে আলাদা কোনো ঐচ্ছিক বিষয়ের বই নেই, তাই তালিকার বাইরে আর কোনো বই খুঁজতে হবে না।
আমার বাংলা বই
পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইটি গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ আর নাট্যাংশ দিয়ে সাজানো। এই শ্রেণির বাংলা পড়ার মূল লক্ষ্য শুধু পড়তে শেখা নয় — বুঝে পড়া, নিজের ভাষায় লিখতে পারা, আর ব্যাকরণের প্রাথমিক নিয়মগুলো ব্যবহার করতে পারা। বইয়ের প্রতিটি পাঠের শেষে অনুশীলনী থাকে, যেখানে শব্দার্থ, প্রশ্নোত্তর আর লেখার কাজ দেওয়া আছে। বৃত্তি পরীক্ষায় বাংলা থেকে ১০০ নম্বরের প্রশ্ন হয়, তাই এই বইটি ভালো করে পড়া জরুরি।
English for Today
পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি বইটি কথোপকথন, ছোট গল্প, ছড়া আর নিত্যদিনের পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি। এই বই দিয়ে শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে নিজের পরিচয় দেওয়া, প্রশ্ন করা ও উত্তর দেওয়া, আর ছোট অনুচ্ছেদ লেখার অভ্যাস করে। বইটির পাঠগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো, তাই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ক্রমে পড়লে শব্দভাণ্ডার আর বাক্য গঠনের দক্ষতা দুটোই বাড়ে। বৃত্তি পরীক্ষায় ইংরেজি থেকেও ১০০ নম্বরের প্রশ্ন হয়।
প্রাথমিক গণিত
পঞ্চম শ্রেণির গণিত বইয়ে ভগ্নাংশ, দশমিক, গড়, লসাগু-গসাগু, শতকরা, ঐকিক নিয়ম, পরিমাপ আর জ্যামিতির প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছে। এই শ্রেণির গণিত ষষ্ঠ শ্রেণির গণিতের ভিত্তি, তাই সূত্র মুখস্থ করার চেয়ে প্রতিটি নিয়ম বুঝে অনুশীলন করা বেশি জরুরি। বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ে প্রচুর উদাহরণ আর অনুশীলনী আছে — সবগুলো নিজে হাতে সমাধান করলে পরীক্ষায় আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। বৃত্তি পরীক্ষায় প্রাথমিক গণিত থেকে ১০০ নম্বরের প্রশ্ন হয়।
প্রাথমিক বিজ্ঞান
প্রাথমিক বিজ্ঞান বইটি আমাদের চারপাশের পরিবেশ, জীবজগৎ, স্বাস্থ্যবিধি, বায়ু-পানি-মাটি, শক্তি আর প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তৈরি। এই বইয়ে ছোট ছোট পরীক্ষা আর পর্যবেক্ষণের কাজ দেওয়া আছে, যেগুলো ঘরে বা স্কুলে করে দেখা যায়। মুখস্থ না করে প্রতিটি পরীক্ষা নিজে করে দেখলে বিজ্ঞানের ধারণাগুলো অনেক বেশি দিন মনে থাকে। বৃত্তি পরীক্ষায় বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় আর প্রাথমিক বিজ্ঞান মিলিয়ে সমন্বিত একটি পত্রে পরীক্ষা হয়।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
এই বইয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি, নাগরিক জীবন আর বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আছে। পঞ্চম শ্রেণিতে এই বইটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় প্রতীক, মানচিত্র পড়া, আর নাগরিকের দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা পায়। অনেক অভিভাবক এই বইটিকে পুরোনো নামে "পরিবেশ" বই বলে চেনেন — বর্তমানে এই বিষয়ের বইটির নাম বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়। বৃত্তি পরীক্ষায় এই বিষয়টি প্রাথমিক বিজ্ঞানের সঙ্গে সমন্বিত পত্রে থাকে।
ধর্ম শিক্ষার ৪টি বই
ইসলাম শিক্ষা, হিন্দুধর্ম শিক্ষা, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা আর খ্রিষ্টধর্ম শিক্ষা — এই ৪টি বইয়ের মধ্যে শিক্ষার্থী নিজের ধর্মের ১টি বই পড়ে। প্রতিটি ধর্মের বইয়ে সেই ধর্মের মৌলিক বিশ্বাস, নৈতিক শিক্ষা, উৎসব আর দৈনন্দিন জীবনের আচার-আচরণ নিয়ে আলোচনা আছে। ধর্ম শিক্ষার বই বৃত্তি পরীক্ষার বিষয় নয়, তবে বার্ষিক পরীক্ষায় এই বিষয়ের মূল্যায়ন হয়। তাই ধর্মের বইটিও নিয়মিত পড়া উচিত।
NCTB ওয়েবসাইট থেকে বই ডাউনলোড করার নিয়ম
NCTB-র বইগুলো সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক। এগুলোর PDF ডাউনলোড করতে কোনো টাকা লাগে না, কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় না। শুধু NCTB-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে হয়। ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো —
প্রথমে NCTB-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট খুলুন।
ওয়েবসাইটে পাঠ্যপুস্তক বা Textbook / e-Book সংক্রান্ত বিভাগে যান।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের তালিকা থেকে প্রাথমিক স্তরের পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের পাতাটি খুলুন।
পাতায় বাংলা ভার্সন ও ইংরেজি ভার্সনের আলাদা আলাদা ডাউনলোড লিংক দেওয়া থাকে। আপনার ভার্সন অনুযায়ী লিংকে ক্লিক করুন।
প্রতিটি বইয়ের পাশে সাধারণত দুটি ডাউনলোড লিংক থাকে। একটিতে সমস্যা হলে অন্যটি চেষ্টা করুন।
PDF ফাইলটি ডাউনলোড হয়ে গেলে মোবাইল বা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করুন। চাইলে প্রিন্ট করেও পড়তে পারেন।
কয়েকটি ব্যবহারিক পরামর্শ। বই ডাউনলোড করার সময় খেয়াল রাখবেন আপনি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই ডাউনলোড করছেন কিনা — NCTB-র সাইটে পুরোনো শিক্ষাবর্ষের বইয়ের পাতাও থাকে, ভুল করে পুরোনো বই ডাউনলোড হয়ে যেতে পারে। আর ফাইলগুলো বেশ বড় হতে পারে, তাই Wi-Fi দিয়ে ডাউনলোড করাই ভালো। ডাউনলোডের পর ফাইলের নামে বইয়ের নাম ও শ্রেণি লিখে রাখলে পরে খুঁজে পেতে সুবিধা হয়। শুধু নিজের ৬টি বই ডাউনলোড করলেই হবে — ধর্মের বাকি ৩টি বই ডাউনলোড করার দরকার নেই।
একটি সতর্কতা: গুগলে class 5 book pdf লিখে সার্চ করলে অনেক থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইট আসে, যারা NCTB-র বইয়ের কপি হোস্ট করে বিজ্ঞাপন দেখায়। সেগুলো থেকে ডাউনলোড না করাই ভালো — ফাইল পুরোনো সংস্করণের হতে পারে, ভুল বই থাকতে পারে, আবার অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন বা ক্ষতিকর ফাইলের ঝুঁকিও থাকে। অফিসিয়াল উৎস থেকে নিলে সবসময় সঠিক ও সর্বশেষ সংস্করণটাই পাবেন।
২০২৬ সংস্করণে যা নতুন
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইগুলো আগের বছরের বইয়েরই পরিমার্জিত সংস্করণ। পঞ্চম শ্রেণির ক্ষেত্রে বইয়ের তালিকা ও সংখ্যা আগের মতোই আছে — একই ৯টি বই। তবে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় আছে —
অনলাইন প্রকাশ আগেই: ২০২৬-এর সব বইয়ের PDF ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বরই NCTB-র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল, যাতে ছাপা বই পেতে দেরি হলেও পড়াশোনা আটকে না থাকে। প্রাথমিক স্তরের সব বইয়ের ছাপা শেষ করে ১ জানুয়ারির আগেই স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, তাই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই হাতে পেয়েছে।
পরিমার্জিত সংস্করণ: ২০২৬-এর বইগুলো পরিমার্জিত সংস্করণে ছাপা হয়েছে। বড় ভাই-বোনের পুরোনো বই পেলেও, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইটি ২০২৬ সংস্করণের কিনা যাচাই করে নিন।
ছাপার মানের কড়াকড়ি: ২০২৬-এর বই ছাপায় মানের বিষয়ে NCTB কড়া অবস্থান নিয়েছে — ত্রুটিপূর্ণ ছাপার বই শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া হবে না বলে বোর্ড জানিয়েছে। বইয়ে ছাপার ত্রুটি পেলে স্কুলকে জানান।
বৃত্তি পরীক্ষার নতুন নীতিমালা: ২০২৬ সাল থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নতুন নীতিমালা অনুযায়ী হয়। পরীক্ষা মোট ৪০০ নম্বরের — বাংলা ১০০, ইংরেজি ১০০, প্রাথমিক গণিত ১০০, আর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান সমন্বিত ১০০। চতুর্থ শ্রেণির সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতে একটি বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। বৃত্তি পাওয়ার জন্য প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হয়।
এই কারণে একটি পরামর্শ — বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আলাদা কোনো বই খুঁজতে হবে না। এই ৬টি NCTB বই ভালো করে পড়লেই বৃত্তি পরীক্ষার পুরো সিলেবাস কভার হয়ে যায়।
সাধারণ ভুল ধারণা
ভুল ধারণা ১: থার্ড-পার্টি সাইটের PDF-ই অফিসিয়াল বই।
না। গুগলে প্রথমে আসা অনেক সাইট NCTB-র অফিসিয়াল সাইট নয় — তারা NCTB-র ফাইল কপি করে নিজেদের সাইটে রাখে, সঙ্গে বিজ্ঞাপন দেখায়। সেসব সাইটের তালিকায় ভুল থাকতে পারে, ফাইল পুরোনো সংস্করণের হতে পারে। সবসময় NCTB-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটকেই ভরসা করুন।
ভুল ধারণা ২: ভারতের ক্লাস ৫-এর বই আর বাংলাদেশের ক্লাস ৫-এর বই একই।
একদমই না। ভারতের বই NCERT বা রাজ্য বোর্ডের (যেমন WBBSE) সিলেবাস অনুযায়ী, আর বাংলাদেশের বই NCTB-র সিলেবাস অনুযায়ী। বইয়ের নাম, অধ্যায়, এমনকি ইতিহাসের বর্ণনাও আলাদা। ইংরেজিতে সার্চ করলে ভারতের বই চলে আসে বলে অনেকে ভুল বই ডাউনলোড করে ফেলেন। বই ডাউনলোডের আগে NCTB লেখা আছে কিনা দেখে নিন।
ভুল ধারণা ৩: পরিবেশ বইটা তালিকায় নেই কেন?
পুরোনো দিনে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়-জাতীয় বিষয়টিকে অনেকে পরিবেশ নামে চিনতেন। বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণিতে এই বিষয়ের বইটির নাম বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়। তাই পরিবেশ নামে আলাদা কোনো বই খুঁজে পাবেন না — তালিকার ৫ নম্বর বইটিই সেটি।
ভুল ধারণা ৪: NCTB-র বই মানেই গাইড বা সমাধানসহ পাওয়া যাবে।
না। NCTB শুধু পাঠ্যপুস্তক (Textbook) প্রকাশ করে — গাইড বই, নোট বই, সাজেশন বা সমাধান বই NCTB প্রকাশ করে না। যেসব সাইট class 5 guide pdf বা সমাধানসহ বই দেওয়ার দাবি করে, সেগুলো NCTB-র অফিসিয়াল প্রকাশনা নয়। গাইড কিনতে চাইলে বাজারের স্বনামধন্য প্রকাশনীর বই দেখুন, আর মূল পড়ার জন্য NCTB-র পাঠ্যপুস্তকই যথেষ্ট।
ভুল ধারণা ৫: পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী (PECE) বোর্ড পরীক্ষা দিতে হয়।
আগে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (PECE) পরীক্ষা হতো, কিন্তু এখন আর সেই ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণির মূল্যায়ন স্কুলের সামষ্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে হয়। আর মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। তাই সমাপনী পরীক্ষার জন্য আলাদা কোনো বই বা সিলেবাস খোঁজার দরকার নেই — NCTB-র এই বইগুলোই তোমার পরীক্ষার সিলেবাস।
ভুল ধারণা ৬: ৯টি বই মানেই ৯টাই পড়তে হবে।
না। তালিকার ৯টি বই হলো পুরো ক্যাটালগ। একজন শিক্ষার্থী পড়ে ৬টি বই — ৫টি সবার জন্য আবশ্যিক আর নিজের ধর্মের ১টি। বাকি ৩টি অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীদের বই। তালিকার সব বই ডাউনলোড করার দরকার নেই — নিজের ধর্ম অনুযায়ী নিজের ৬টি বই ডাউনলোড করো।
ভুল ধারণা ৭: ইংরেজি ভার্সনের বই আলাদা সিলেবাসের।
না। ইংরেজি ভার্সনের বইগুলো বাংলা ভার্সনের বইয়েরই ইংরেজি মাধ্যমের সংস্করণ — বিষয়বস্তু, অধ্যায় আর সিলেবাস একই, শুধু পাঠ্যের ভাষা ইংরেজি। তাই বাংলা ভার্সন আর ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীদের পড়ার চাপ একই, পরীক্ষার ধরনও একই।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পঞ্চম শ্রেণিতে মোট কয়টি বই?
NCTB-র ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় পঞ্চম শ্রেণির মোট ৯টি পাঠ্যপুস্তক রয়েছে। তবে একজন শিক্ষার্থী সবগুলো পড়ে না — ধর্মের ৪টির মধ্যে নিজের ধর্মের ১টিসহ মোট ৬টি বই পড়তে হয়।
পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি ভার্সনের (English Version) বই আছে কি?
হ্যাঁ। NCTB-র তালিকায় প্রতিটি বইয়েরই ইংরেজি ভার্সন আছে। NCTB-র ওয়েবসাইটে প্রতিটি বইয়ের পাশে বাংলা ভার্সন ও ইংরেজি ভার্সনের আলাদা ডাউনলোড লিংক দেওয়া থাকে। তালিকায় নাম একইভাবে দেওয়া থাকলেও, ইংরেজি ভার্সনের PDF-এর ভেতরের পাঠ্য ইংরেজিতে।
২০২৫-এর বই দিয়ে ২০২৬-এ পড়া যাবে কি?
পঞ্চম শ্রেণির বইয়ের তালিকা ২০২৫ আর ২০২৬-এ একই, আর বেশিরভাগ বইয়ের মূল বিষয়বস্তুও একই। তবে পরিমার্জিত সংস্করণে তথ্যের পরিবর্তন থাকতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে। তাই ২০২৫-এর বই থাকলেও, ২০২৬ সংস্করণের PDF-টা ডাউনলোড করে মিলিয়ে নেওয়াই নিরাপদ। পরীক্ষায় নতুন সংস্করণ অনুযায়ীই প্রশ্ন হয়।
PDF বই পড়া ভালো, নাকি ছাপা বই?
দুটোরই সুবিধা আছে। ছাপা বই চোখের জন্য আরামদায়ক, দাগ দিয়ে পড়া যায়, পরীক্ষার হলে নিয়ে যাওয়ার অভ্যাসও হয়। PDF-এর সুবিধা — বিনামূল্যে, সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়, মোবাইলে যেকোনো জায়গায় পড়া যায়। বাস্তব পরামর্শ: ছাপা বইই মূল বই হিসেবে ব্যবহার করুন, আর PDF রাখুন ব্যাকআপ হিসেবে — স্কুলে বই ভুলে গেলে, বা কোনো অধ্যায় দ্রুত দেখতে চাইলে PDF কাজে লাগবে।
ভুল ছাপা বা ছেঁড়া বই পেলে কী করবে?
স্কুল থেকে বিনামূল্যের বই নেওয়ার সময়ই প্রতিটি বই উল্টেপাল্টে দেখে নিন — পাতা ছেঁড়া, ছাপা অস্পষ্ট বা পাতা উল্টো বাঁধাই আছে কিনা। সমস্যা থাকলে সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের শিক্ষককে জানান। স্কুল থেকেই বইটি বদলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পরে জানালে বদলাতে ঝামেলা হতে পারে।
স্কুলে বই না পেলে কোথায় জানাবে?
প্রথমে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জানান। স্কুল থেকে সমাধান না হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। আর বই হাতে না পেলেও পড়াশোনা আটকে রাখবেন না — NCTB-র ওয়েবসাইট থেকে PDF ডাউনলোড করে পড়া শুরু করে দিন, বই এলেই ছাপা বইয়ে চলে যাবেন।
পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা কারা দিতে পারে?
২০২৬-এর নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। তবে চতুর্থ শ্রেণির সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতে একটি বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী সুযোগ পায়। পরীক্ষা ৪০০ নম্বরের — বাংলা, ইংরেজি, প্রাথমিক গণিত, আর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান সমন্বিত পত্র। বৃত্তি দুই ধরনের — ট্যালেন্টপুল (মেধাবৃত্তি) আর সাধারণ বৃত্তি।
ইবতেদায়ি পঞ্চম শ্রেণির বইয়ের তালিকা কি একই?
না। ইবতেদায়ি (মাদ্রাসা) পঞ্চম শ্রেণির তালিকা আলাদা — সেখানে সাধারণ বইগুলোর সঙ্গে কুরআন, আরবিসহ মাদ্রাসা ধারার বই রয়েছে। NCTB-র ওয়েবসাইটে ইবতেদায়ি স্তরের পঞ্চম শ্রেণির আলাদা পাতায় সেই তালিকা পাবেন। এই পোস্টের তালিকাটি সাধারণ (প্রাথমিক) ধারার পঞ্চম শ্রেণির জন্য।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠলে বই কয়টি হবে?
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে মাধ্যমিক স্তর শুরু, আর বইয়ের সংখ্যাও বেড়ে যায় — সেখানে ২৩টি বইয়ের তালিকা থেকে ধর্মের ১টি আর স্কুল-নির্ধারিত ঐচ্ছিক বিষয়সহ একজন শিক্ষার্থী সাধারণত ১১টি বই পড়ে। তাই পঞ্চম শ্রেণিতে গণিত, বিজ্ঞান আর ইংরেজির ভিত্তিটা মজবুত করে নিলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠে মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হয়।
শেষ কথা — পঞ্চম শ্রেণি প্রাথমিক শিক্ষার শেষ ধাপ, আর মাধ্যমিকে ওঠার আগে ভিত্তি পাকা করার বছর। গণিতের হিসাব, বিজ্ঞানের ধারণা আর ইংরেজির ভিত্তিটা এই বছরেই মজবুত করে নিলে সামনের বছরগুলো অনেক সহজ হয়ে যাবে। NCTB-র অফিসিয়াল বই থেকেই পড়ুন, আর বই ডাউনলোডের জন্য সবসময় NCTB-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।
৩
৪ মন্তব্য