সহকারী অধ্যাপক
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:২০ পূর্বাহ্ণ
চতুর্থ শ্রেণির বই PDF ২০২৬ | Class 4 Book PDF
📖 চতুর্থ শ্রেণির বই পিডিএফ ডাউনলোড
📖 এক ক্লিকে চতুর্থ শ্রেণির বই পিডিএফ ডাউনলোড করুন
চতুর্থ শ্রেণির বই PDF ২০২৬ | Class 4 Book PDF
চতুর্থ শ্রেণির সব বইয়ের PDF খুঁজছেন? এই পোস্টে বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) প্রকাশিত ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ শ্রেণির সম্পূর্ণ বইয়ের তালিকা, বাংলা ভার্সন ও ইংরেজি ভার্সনের (English Version) বিবরণ, একজন শিক্ষার্থী আসলে কয়টি বই পড়ে, এবং NCTB-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বই ডাউনলোড করার নিয়ম এক জায়গায় পাবেন। যারা class 4 book pdf লিখে গুগলে খোঁজেন — শিক্ষার্থী, অভিভাবক কিংবা শিক্ষক — এই পোস্টটি তাদের সবার জন্য।
একটি কথা শুরুতেই পরিষ্কার করে নিই। চতুর্থ শ্রেণির বই বলতে এখানে বাংলাদেশের NCTB-র বই বোঝানো হয়েছে। ইংরেজিতে class 4 book pdf লিখে সার্চ করলে ভারতের NCERT বা পশ্চিমবঙ্গের WBBSE বোর্ডের বইও চলে আসে, কিন্তু সেগুলো বাংলাদেশের সিলেবাসের বই নয়। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের দরকার NCTB-র বই, আর সেগুলোই এখানে দেওয়া হলো।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য NCTB মোট ৬৪৭টি পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করেছে, যা ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর NCTB-র ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। চতুর্থ শ্রেণির বইগুলোও সেই ২০২৬ সংস্করণেরই অংশ। তাই নিচের তালিকাটি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অফিসিয়াল তালিকা — পুরোনো বছরের বইয়ের তালিকা নয়।
এই শ্রেণিতে মোট কয়টি বই
NCTB-র ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় চতুর্থ শ্রেণির (প্রাথমিক স্তর) মোট ৯টি পাঠ্যপুস্তক রয়েছে।
তবে একটি ভুল ধারণা এখানেই ভেঙে দেওয়া দরকার — ৯টি বইয়ের সবগুলো একজন শিক্ষার্থী পড়ে না। তালিকার ৯টির মধ্যে ধর্ম শিক্ষার ৪টি বই রয়েছে, যার মধ্যে শিক্ষার্থী নিজের ধর্ম অনুযায়ী মাত্র ১টি পড়ে। হিসাবটা এভাবে দাঁড়ায় —
সবার জন্য আবশ্যিক বই: ৫টি (আমার বাংলা বই, English For Today, প্রাথমিক গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়)
ধর্ম শিক্ষা: নিজের ধর্মের ১টি
মোট: একজন শিক্ষার্থীর হাতে আসে ৬টি বই
অর্থাৎ class 4 all book বলতে NCTB-র তালিকায় ৯টি, আর একজন শিক্ষার্থীর পড়ার বই ৬টি। চতুর্থ শ্রেণিতে কোনো বিভাগ বা ঐচ্ছিক বিষয় নেই — সব শিক্ষার্থীর আবশ্যিক ৫টি বই একই, শুধু ধর্মের বইটি নিজের ধর্ম অনুযায়ী আলাদা হয়।
চতুর্থ শ্রেণির বইয়ের তালিকা ২০২৬
নিচে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ শ্রেণির সম্পূর্ণ বইয়ের তালিকা দেওয়া হলো — বাংলা ভার্সন ও ইংরেজি ভার্সনসহ। প্রতিটি বইয়ের পাশে মন্তব্য দেওয়া আছে, যাতে বুঝতে সুবিধা হয় কোন বইটি কাদের জন্য।
ক্রমিক | পাঠ্যপুস্তকের নাম (বাংলা ভার্সন) | পাঠ্যপুস্তকের নাম (ইংরেজি ভার্সন) | মন্তব্য |
১ | আমার বাংলা বই | আমার বাংলা বই | বাংলা বিষয়ের মূল বই, সবাই পড়ে |
২ | English For Today | English For Today | ইংরেজি বিষয়ের মূল বই, সবাই পড়ে |
৩ | প্রাথমিক গণিত | Primary Mathematics | গণিতের মূল বই, সবাই পড়ে |
৪ | প্রাথমিক বিজ্ঞান | Primary Science | বিজ্ঞানের মূল বই, সবাই পড়ে |
৫ | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | Bangladesh And Global Studies | সমাজ ও পরিবেশ-সংক্রান্ত বিষয়ের বই, সবাই পড়ে |
৬ | ইসলাম শিক্ষা | Islamic Studies | ধর্ম শিক্ষা — মুসলিম শিক্ষার্থীরা পড়ে, ৪টির মধ্যে ১টি |
৭ | হিন্দুধর্ম শিক্ষা | Hindu Religion Studies | ধর্ম শিক্ষা — হিন্দু শিক্ষার্থীরা পড়ে, ৪টির মধ্যে ১টি |
৮ | বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা | Buddhist Religion Studies | ধর্ম শিক্ষা — বৌদ্ধ শিক্ষার্থীরা পড়ে, ৪টির মধ্যে ১টি |
৯ | খ্রিষ্টধর্ম শিক্ষা | Christian Religion Studies | ধর্ম শিক্ষা — খ্রিষ্টান শিক্ষার্থীরা পড়ে, ৪টির মধ্যে ১টি |
তালিকাটি দেখে কয়েকটি জিনিস লক্ষ করুন। প্রথমত, চতুর্থ শ্রেণিতে বাংলা ও ইংরেজির জন্য একটি করে বই — উপরের শ্রেণির মতো বাংলা ১ম ও ২য় পত্রের আলাদা বই এখানে নেই। দ্বিতীয়ত, গণিত ও বিজ্ঞান বইয়ের নামের আগে প্রাথমিক শব্দটি আছে — প্রাথমিক গণিত আর প্রাথমিক বিজ্ঞান। এই প্রাথমিক শব্দটি বইয়ের অফিসিয়াল নামেরই অংশ, বাদ দিলে বই চিনতে ভুল হতে পারে। তৃতীয়ত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইটিই এই শ্রেণির সমাজ-পরিবেশ বিষয়ের বই — পরিবেশ নামে আলাদা কোনো বই এই তালিকায় নেই।
ধর্ম শিক্ষার বইগুলোর ক্ষেত্রে নিয়মটা সহজ — নিজের ধর্মের বইটি নেবে, বাকি তিনটি নয়। স্কুল থেকে বই নেওয়ার সময় এই বিষয়টি খেয়াল রাখুন, যাতে ভুল ধর্মের বই হাতে চলে না আসে।
ইংরেজি ভার্সনের (English Version) শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বস্তির কথা — প্রাথমিক গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়সহ মূল বিষয়গুলোর ইংরেজি ভার্সন NCTB-তেই পাওয়া যায়। আর আমার বাংলা বই আর English For Today — এই দুটি বই দুই ভার্সনেই একই নামে থাকে, কারণ এগুলো ভাষার বই। তাই class 4 english version book pdf খুঁজলেও একই পদ্ধতিতে NCTB-র ওয়েবসাইট থেকে পেয়ে যাবেন।
একটি বাড়তি কথা: class 4 book pdf bangladesh লিখে খুঁজলে অনেক সাইটে শুধু বাংলা ভার্সনের তালিকা পাওয়া যায়। কিন্তু English Version-এ পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম নয় — তাদের জন্য এই পোস্টে ইংরেজি ভার্সনের নামগুলোও আলাদা করে দেওয়া হলো, যাতে ডাউনলোডের সময় ভার্সন গুলিয়ে না যায়।
NCTB ওয়েবসাইট থেকে বই ডাউনলোড করার নিয়ম
NCTB-র বইগুলো সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক। এগুলোর PDF ডাউনলোড করতে কোনো টাকা লাগে না, কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় না। শুধু NCTB-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে হয়। ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো —
প্রথমে NCTB-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট খুলুন।
ওয়েবসাইটে পাঠ্যপুস্তক বা Textbook / e-Book সংক্রান্ত বিভাগে যান।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের তালিকা থেকে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের পাতাটি খুলুন।
পাতায় বাংলা ভার্সন ও ইংরেজি ভার্সনের আলাদা আলাদা ডাউনলোড লিংক দেওয়া থাকে। আপনার ভার্সন অনুযায়ী লিংকে ক্লিক করুন।
প্রতিটি বইয়ের পাশে সাধারণত দুটি ডাউনলোড লিংক থাকে। একটিতে সমস্যা হলে অন্যটি চেষ্টা করুন।
PDF ফাইলটি ডাউনলোড হয়ে গেলে মোবাইল বা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করুন। চাইলে প্রিন্ট করেও পড়তে পারেন।
কয়েকটি ব্যবহারিক পরামর্শ। বই ডাউনলোড করার সময় খেয়াল রাখবেন আপনি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই ডাউনলোড করছেন কিনা — NCTB-র সাইটে পুরোনো শিক্ষাবর্ষের বইয়ের পাতাও থাকে, ভুল করে পুরোনো বই ডাউনলোড হয়ে যেতে পারে। আর ফাইলগুলো বেশ বড় হতে পারে, তাই Wi-Fi দিয়ে ডাউনলোড করাই ভালো। ডাউনলোডের পর ফাইলের নামে বইয়ের নাম ও শ্রেণি লিখে রাখলে পরে খুঁজে পেতে সুবিধা হয়।
একটি সতর্কতা: গুগলে class 4 book pdf লিখে সার্চ করলে অনেক থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইট আসে, যারা NCTB-র বইয়ের কপি হোস্ট করে বিজ্ঞাপন দেখায়। সেগুলো থেকে ডাউনলোড না করাই ভালো — ফাইল পুরোনো সংস্করণের হতে পারে, ভুল বই থাকতে পারে, আবার অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন বা ক্ষতিকর ফাইলের ঝুঁকিও থাকে। অফিসিয়াল উৎস থেকে নিলে সবসময় সঠিক ও সর্বশেষ সংস্করণটাই পাবেন।
২০২৬ সংস্করণে যা নতুন
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইগুলো আগের বছরের বইয়েরই পরিমার্জিত সংস্করণ। চতুর্থ শ্রেণির ক্ষেত্রে বইয়ের তালিকা ও কাঠামো আগের বছরের মতোই আছে — একই ৯টি বই, কোনো বই বাদ যায়নি, কোনো নতুন বই যুক্ত হয়নি। তবে কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা ভালো —
তালিকা অপরিবর্তিত: ২০২৬-এ চতুর্থ শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা আগের বছরের মতোই ৯টি। যারা ২০২৫-এর তালিকা দেখে ২০২৬-এর বই খুঁজছেন, তারা একই ৯টি বই পাবেন।
পরিমার্জিত সংস্করণ: ২০২৬-এর বইগুলো পরিমার্জিত সংস্করণে ছাপা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পাঠ্যবইয়ে আনা পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সংস্করণে ইতিহাস ও সমাজ-সংক্রান্ত অংশে নাম ও তথ্যের পরিমার্জন রয়েছে। তাই ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের উচিত ২০২৬ সংস্করণের বই-ই ব্যবহার করা।
অনলাইন প্রকাশ আগেই: ২০২৬-এর সব বইয়ের PDF ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বরই NCTB-র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল, যাতে ছাপা বই পেতে দেরি হলেও পড়াশোনা আটকে না থাকে। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা ১ জানুয়ারিতেই শতভাগ বই পেয়েছে।
২০২৭-এর জন্য পরিবর্তন ঘোষিত: ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে ২টি নতুন বই যুক্ত করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই পোস্টটি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের তালিকা — ২০২৭-এর নতুন তালিকা প্রকাশ হলে তা আলাদাভাবে জানানো হবে।
এই কারণে একটি পরামর্শ — বড় ভাই-বোনের পুরোনো বই পেলেও, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইটি ২০২৬ সংস্করণের কিনা যাচাই করে নিন। বাকি বইগুলোতে বড় পরিবর্তন না থাকলেও, নতুন সংস্করণটাই পড়া নিরাপদ।
সাধারণ ভুল ধারণা
ভুল ধারণা ১: থার্ড-পার্টি সাইটের PDF-ই অফিসিয়াল বই।
না। গুগলে প্রথমে আসা অনেক সাইট NCTB-র অফিসিয়াল সাইট নয় — তারা NCTB-র ফাইল কপি করে নিজেদের সাইটে রাখে, সঙ্গে বিজ্ঞাপন দেখায়। সেসব সাইটের তালিকায় ভুল থাকতে পারে, পুরোনো বছরের বই থাকতে পারে। সবসময় NCTB-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটকেই ভরসা করুন।
ভুল ধারণা ২: ভারতের ক্লাস ৪-এর বই আর বাংলাদেশের চতুর্থ শ্রেণির বই একই।
একদমই না। ভারতের বই NCERT বা রাজ্য বোর্ডের (যেমন WBBSE) সিলেবাস অনুযায়ী, আর বাংলাদেশের বই NCTB-র সিলেবাস অনুযায়ী। বইয়ের নাম, অধ্যায়, এমনকি ইতিহাসের বর্ণনাও আলাদা। ইংরেজিতে সার্চ করলে ভারতের বই চলে আসে বলে অনেকে ভুল বই ডাউনলোড করে ফেলেন। বই ডাউনলোডের আগে NCTB লেখা আছে কিনা দেখে নিন।
ভুল ধারণা ৩: পরিবেশ বইটা তালিকায় নেই কেন?
পুরোনো দিনে পরিবেশ নামে একটি বিষয় ছিল, তাই অনেকে এখনো পরিবেশ নামে বই খোঁজেন। বর্তমানে চতুর্থ শ্রেণিতে পরিবেশ নামে আলাদা কোনো বই নেই — পরিবেশ-সংক্রান্ত পড়াশোনা প্রাথমিক বিজ্ঞান আর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ভেতরেই আছে। তাই পরিবেশ নামে আলাদা বই খুঁজে পাবেন না — তালিকার ৪ ও ৫ নম্বর বই দুটোতেই সেই পড়াগুলো আছে।
ভুল ধারণা ৪: NCTB-র বই মানেই গাইড বা সমাধানসহ পাওয়া যাবে।
না। NCTB শুধু পাঠ্যপুস্তক (Textbook) প্রকাশ করে — গাইড বই, নোট বই, সাজেশন বা সমাধান বই NCTB প্রকাশ করে না। যেসব সাইট class 4 guide pdf বা সমাধানসহ বই দেওয়ার দাবি করে, সেগুলো NCTB-র অফিসিয়াল প্রকাশনা নয়। গাইড কিনতে চাইলে বাজারের স্বনামধন্য প্রকাশনীর বই দেখুন, আর মূল পড়ার জন্য NCTB-র পাঠ্যপুস্তকই যথেষ্ট।
ভুল ধারণা ৫: ইবতেদায়ি চতুর্থ শ্রেণির বই আর সাধারণ চতুর্থ শ্রেণির বই একই।
আংশিক সত্য, পুরো নয়। ইবতেদায়ি (মাদ্রাসা) চতুর্থ শ্রেণিতে আমার বাংলা বই, English For Today, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় — এই ৫টি সাধারণ বই একই, তবে ধর্মের ৪টি বইয়ের বদলে সেখানে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ, আকাইদ ও ফিকহ এবং আদদুরুসুল আরাবিয়্যাহ — এই ৩টি আলাদা বই রয়েছে। ইবতেদায়ির তালিকায় মোট ৮টি বই। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ইবতেদায়ির আলাদা তালিকা অনুসরণ করবেন।
ভুল ধারণা ৬: ৯টি বই মানেই ৯টাই কিনতে বা ডাউনলোড করতে হবে।
না। আগেই বলেছি — একজন শিক্ষার্থী পড়ে ৬টি বই। ধর্মের ৪টির মধ্যে নিজের ধর্মের ১টি নিলেই হবে। তালিকার সব বই ডাউনলোড করার দরকার নেই — নিজের ধর্মের বইসহ নিজের ৬টি বই ডাউনলোড করুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
চতুর্থ শ্রেণিতে মোট কয়টি বই?
NCTB-র ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় চতুর্থ শ্রেণির মোট ৯টি পাঠ্যপুস্তক রয়েছে। তবে একজন শিক্ষার্থী সবগুলো পড়ে না — ধর্মের ৪টির মধ্যে নিজের ধর্মের ১টি নিলে মোট ৬টি বই পড়তে হয়।
চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি ভার্সনের (English Version) বই আছে কি?
হ্যাঁ। প্রাথমিক গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ধর্ম শিক্ষার বইগুলোসহ মূল বিষয়গুলোর ইংরেজি ভার্সন NCTB-তেই পাওয়া যায়। NCTB-র ওয়েবসাইটে প্রতিটি বইয়ের পাশে বাংলা ভার্সন ও ইংরেজি ভার্সনের আলাদা ডাউনলোড লিংক দেওয়া থাকে।
২০২৫-এর বই দিয়ে ২০২৬-এ পড়া যাবে কি?
বইয়ের তালিকা এক হলেও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ২০২৬ সংস্করণে পরিমার্জন এসেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়সহ সমাজ-সংক্রান্ত অংশে। তাই ২০২৫-এর বই থাকলেও, অন্তত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইটি ২০২৬ সংস্করণের সংগ্রহ করা উচিত। পরীক্ষায় নতুন সংস্করণ অনুযায়ীই প্রশ্ন হয়।
PDF বই পড়া ভালো, নাকি ছাপা বই?
দুটোরই সুবিধা আছে। ছাপা বই চোখের জন্য আরামদায়ক, দাগ দিয়ে পড়া যায়। PDF-এর সুবিধা — বিনামূল্যে, সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়, মোবাইলে যেকোনো জায়গায় পড়া যায়। বাস্তব পরামর্শ: ছাপা বইই মূল বই হিসেবে ব্যবহার করুন, আর PDF রাখুন ব্যাকআপ হিসেবে — স্কুলে বই ভুলে গেলে, বা কোনো অধ্যায় দ্রুত দেখতে চাইলে PDF কাজে লাগবে।
ভুল ছাপা বা ছেঁড়া বই পেলে কী করবে?
স্কুল থেকে বিনামূল্যের বই নেওয়ার সময়ই প্রতিটি বই উল্টেপাল্টে দেখে নিন — পাতা ছেঁড়া, ছাপা অস্পষ্ট বা পাতা উল্টো বাঁধাই আছে কিনা। সমস্যা থাকলে সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের শিক্ষককে জানান। স্কুল থেকেই বইটি বদলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পরে জানালে বদলাতে ঝামেলা হতে পারে।
স্কুলে বই না পেলে কোথায় জানাবে?
প্রথমে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জানান। স্কুল থেকে সমাধান না হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। আর বই হাতে না পেলেও পড়াশোনা আটকে রাখবেন না — NCTB-র ওয়েবসাইট থেকে PDF ডাউনলোড করে পড়া শুরু করে দিন, বই এলেই ছাপা বইয়ে চলে যাবেন।
মাদ্রাসার (ইবতেদায়ি) চতুর্থ শ্রেণির বইয়ের তালিকা কোথায় পাবো?
ইবতেদায়ি চতুর্থ শ্রেণির আলাদা তালিকা রয়েছে — মোট ৮টি বই। সাধারণ ৫টি বইয়ের সঙ্গে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ, আকাইদ ও ফিকহ এবং আদদুরুসুল আরাবিয়্যাহ রয়েছে। NCTB-র ওয়েবসাইটে ইবতেদায়ি স্তরের চতুর্থ শ্রেণির আলাদা পাতায় সেই তালিকা পাবেন।
চতুর্থ শ্রেণিতে কি কোনো ঐচ্ছিক বিষয় বা বিভাগ আছে?
না। চতুর্থ শ্রেণিতে কোনো বিভাগ বা ঐচ্ছিক বিষয় নেই। সব শিক্ষার্থীর আবশ্যিক ৫টি বই একই — শুধু ধর্মের বইটি নিজের ধর্ম অনুযায়ী আলাদা হয়। বিভাগ বাছাই শুরু হয় নবম শ্রেণি থেকে।
শেষ কথা — চতুর্থ শ্রেণি প্রাথমিকের মাঝামাঝি সময়, এখান থেকেই পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার ভিত্তি তৈরি হয়। গণিত আর ইংরেজির ভিত্তিটা এই বছরেই মজবুত করে নিলে সামনের বছরগুলো অনেক সহজ হয়ে যাবে। NCTB-র অফিসিয়াল বই থেকেই পড়ুন, আর বই ডাউনলোডের জন্য সবসময় NCTB-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।
৮
৮ মন্তব্য