Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:২২ পূর্বাহ্ণ

“আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।”



“আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।”


### অর্থ ও বিশ্লেষণ


ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলেন ঈশ্বরী পাটনি। তিনি একজন সাধারণ, দরিদ্র নৌকাচালক। দেবী অন্নপূর্ণার কৃপায় তিনি বর চাইতে পেলে নিজের ধনসম্পদ বা ব্যক্তিগত সুখের কথা না ভেবে সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন।


“আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে”— এই কথাটির অর্থ হলো, তাঁর সন্তান যেন অভাব-অনটন থেকে মুক্ত থাকে এবং পর্যাপ্ত খাবার পেয়ে সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করতে পারে।


### ঈশ্বরী পাটনি চরিত্রের বৈশিষ্ট্য


1\. মাতৃস্নেহ: সন্তানের সুখ ও মঙ্গলই তাঁর জীবনের প্রধান কামনা।


2\. সরলতা: তিনি সাধারণ জীবনযাপনে বিশ্বাসী।


3\. নিঃস্বার্থতা: নিজের জন্য কোনো বড় সম্পদ না চেয়ে সন্তানের ভালো থাকার জন্য প্রার্থনা করেন।


4\. অভাবমুক্ত জীবনের আকাঙ্ক্ষা: তাঁর কাছে ‘দুধে-ভাতে থাকা’ মানে অন্ন-বস্ত্রের অভাব ছাড়া শান্তিতে বেঁচে থাকা।



ঈশ্বরী পাটনির উক্তির মধ্যে বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনবোধ ও গভীর মাতৃস্নেহ প্রকাশ পেয়েছে। এই পঙ্‌ক্তি আমাদের শেখায়, সন্তানের সুখ-শান্তি ও সুস্থ জীবনই মা-বাবার কাছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই ঈশ্বরী পাটনি চরিত্রটি মাতৃস্নেহ, ত্যাগ ও মমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


মন্তব্য করুন