সহকারী শিক্ষক
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:১৩ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ | Primary Scholarship Exam 2026 — যোগ্যতা, নম্বর, সিলেবাস ও বৃত্তির টাকা
📌 প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ এর যোগ্যতা দেখুন
📌 এক ক্লিকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
📌 প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ এ আবেদন করুন
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ | Primary Scholarship Exam 2026 — যোগ্যতা, নম্বর, সিলেবাস ও বৃত্তির টাকা
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এ কারা বসতে পারবে, পরীক্ষা কত নম্বরের, প্রশ্ন কেমন হবে, সিলেবাস কী, ট্যালেন্টপুল আর সাধারণ বৃত্তির পার্থক্য কী, বৃত্তির টাকা মাসে কত — এই সব প্রশ্নের উত্তর এক পোস্টে দেওয়া হলো।
সবচেয়ে জরুরি তথ্যটা আগে: পরীক্ষা ২০–২৩ ডিসেম্বর ২০২৬, প্রতিদিন সকাল ১০:০০–১২:৩০। মোট ৪০০ নম্বর, প্রতি বিষয়ে ১০০। বৃত্তি পেতে প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০% নম্বর লাগবে। পঞ্চম শ্রেণির সর্বোচ্চ ৪০% শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসতে পারবে।
> এক নজরে: পরীক্ষা ৪ দিন, বিষয় ৪টি, মোট ৪০০ নম্বর, প্রতি বিষয়ে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। বৃত্তি ৩ বছর ধরে চলবে। ট্যালেন্টপুলে মাসে ৩০০ টাকা, সাধারণে মাসে ২২৫ টাকা (গত চক্রের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী — নিচে বিস্তারিত আছে)।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা কী, কেন দিবেন
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা হলো পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করার সরকারি পরীক্ষা। পরিচালনা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE), নীতিমালা দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৃত্তি পেলে কী কী পাওয়া যায়:
মাসিক টাকা: ৩ বছর ধরে প্রতি মাসে বৃত্তির টাকা (পরিমাণ নিচে)।
বছরে এককালীন টাকা: প্রতি বছর একবার অতিরিক্ত এককালীন টাকা।
বিনাবেতনে ভর্তি: দেশের যেকোনো সরকারি বা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিনাবেতনে ভর্তি হয়ে পড়াশোনার সুযোগ।
মেধার স্বীকৃতি: বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীর নাম জেলা/উপজেলা মেধা তালিকায় থাকে — পরবর্তীতে ভালো স্কুলে ভর্তিতে কাজে লাগে।
একটা ভুল ধারণা ভাঙি: বৃত্তি পরীক্ষা আর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (PECE) এক নয়। সমাপনী পরীক্ষা সবার জন্য, বৃত্তি পরীক্ষা শুধু মনোনীত মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য। বৃত্তি পরীক্ষায় না বসলেও ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি আটকাবে না — কিন্তু বৃত্তির টাকা আর স্বীকৃতি পাওয়া যাবে না।
কারা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারবে — যোগ্যতা
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী যোগ্যতার শর্ত:
শর্ত | বিবরণ |
শ্রেণি | পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত হতে হবে |
মনোনয়নের ভিত্তি | চতুর্থ শ্রেণির সার্বিক মূল্যায়ন (comprehensive assessment) / টার্ম পরীক্ষার ফল |
কতজন | স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির মোট শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ ৪০% |
সরকারি স্কুল | পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক |
বেসরকারি স্কুল | NCTB পাঠ্যক্রম অনুসরণ + IPEMIS-এ সক্রিয় থাকতে হবে |
আবেদন | আলাদা অনলাইন আবেদন নেই — স্কুল মনোনয়ন দেয় |
৪০% নিয়মটা ভালো করে বুঝুন: ধরুন স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ১০০ জন শিক্ষার্থী আছে। তাহলে সর্বোচ্চ ৪০ জন বৃত্তি পরীক্ষায় বসতে পারবে। কারা এই ৪০ জন, সেটা ঠিক হবে চতুর্থ শ্রেণির মূল্যায়নের ফল দিয়ে — স্কুলের শিক্ষকরা তালিকা করবেন। আপনার সন্তান তালিকায় আছে কিনা, স্কুল থেকে জেনে নিন। পুরনো নিয়মে ২০% ছিল — এখন ৪০%। ২০% লেখা পুরনো পোস্ট দেখলে সেটাকে ভুল ধরে নিন।
বেসরকারি / কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা: স্কুল NCTB-এর বই পড়ায় কিনা আর IPEMIS-এ সক্রিয় কিনা — এই দুটো শর্ত পূরণ হলে তারাও অংশ নিতে পারবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন।
পরীক্ষার নম্বর ও সময় — ৪০০ নম্বরের কাঠামো
বিষয় | পূর্ণমান | সময় | বৃত্তির জন্য ন্যূনতম |
বাংলা | ১০০ | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট | ৪০ নম্বর (৪০%) |
ইংরেজি | ১০০ | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট | ৪০ নম্বর (৪০%) |
প্রাথমিক গণিত | ১০০ | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট | ৪০ নম্বর (৪০%) |
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় + প্রাথমিক বিজ্ঞান | ৫০ + ৫০ = ১০০ | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট (একটানা) | ৪০ নম্বর (৪০%) |
মোট | ৪০০ | ৪ দিন | প্রতি বিষয়ে আলাদাভাবে ৪০% |
৪০% নিয়মটা কেন গুরুত্বপূর্ণ: মোট ৪০০-তে ৩০০ পেলেও, কোনো এক বিষয়ে ৪০-এর কম (যেমন গণিতে ৩৫) পেলে বৃত্তির জন্য বিবেচিত হবেন না। তাই কোনো বিষয়কে অবহেলা করা যাবে না — সব বিষয়ে অন্তত ৪০% নিশ্চিত করতে হবে, তারপর মোট নম্বর বাড়ানোর চেষ্টা।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী: প্রতিটি পরীক্ষায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিট পাবেন। স্কুলের মাধ্যমে আগেই জানিয়ে রাখুন।
প্রশ্নের ধরন: প্রশ্নপত্রে ডোমেইনভিত্তিক (domain-based) প্রশ্ন থাকবে — জ্ঞানমূলক (knowledge), অনুধাবনমূলক (comprehension), প্রায়োগমূলক (application) আর উচ্চতর দক্ষতামূলক (higher-order) প্রশ্ন। শুধু মুখস্থ দিয়ে হবে না, বুঝে উত্তর লেখার অভ্যাস লাগবে। ইংরেজিতে কোনো প্রশ্নের বিকল্প (alternative) থাকবে না — সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন কাঠামো ও মানবন্টন
নিচের কাঠামো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে প্রকাশিত। ২০২৬-এর পরীক্ষাও একই কাঠামোতে হবে।
বাংলা — ১০০ নম্বর
প্রশ্নের ধরন | সংখ্যা | নম্বর |
কবি ও কবিতার নামসহ কবিতার প্রথম ৮ পঙ্ক্তি লিখন | ১টি | ১০ |
শব্দার্থ লিখন | ৫টি | ৫ |
বাক্য গঠন | ৫টি | ৫ |
শূন্যস্থান পূরণ | ৫টি | ৫ |
বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর লিখন | ৫টি | ৫ |
বিপরীত / সমার্থক শব্দ লিখন | ৫টি | ৫ |
সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন | ৪টি | ৮ |
বিস্তৃত উত্তর প্রশ্ন | ৩টি (৪টির মধ্যে) | ১৫ |
কবিতা / গদ্য অনুচ্ছেদের মূলভাব লিখন | ১টি | ৫ |
ভাষারীতি পরিবর্তন / পদ নির্ণয় / ক্রিয়ার কাল | ৫টি | ৫ |
অনুচ্ছেদ পড়ে প্রশ্ন তৈরি / বিরামচিহ্ন প্রয়োগ | ৫টি | ৫ |
যুক্তবর্ণ বিভাজন ও শব্দ গঠন | ৫টি | ৫ |
এককথায় প্রকাশ | ৫টি | ৫ |
ফরম পূরণ / আবেদনপত্র লেখন | ১টি | ৫ |
রচনা লেখন (সূত্রসহ / উন্মুক্ত) | ১টি | ১২ |
বাংলায় বেশি নম্বর পাওয়ার চাবি: রচনা (১২) + বিস্তৃত উত্তর (১৫) + কবিতার পঙ্ক্তি (১০) = ৩৭ নম্বর। এই তিন জায়গায় ভালো করলে বাংলায় ৭০+ তোলা সহজ। কবিতার প্রথম ৮ পঙ্ক্তি নির্ভুল মুখস্থ রাখুন, রচনার কাঠামো (ভূমিকা–বর্ণনা–উপসংহার) অনুশীলন করুন।
ইংরেজি — ১০০ নম্বর
ইংরেজি প্রশ্ন দুই ভাগে — এক ভাগ পাঠ্যবই (English for Today) থেকে দেওয়া text/dialogue পড়ে, আরেক ভাগ পাঠ্যবইয়ের বাইরের text/dialogue পড়ে।
প্রশ্ন | বিবরণ | নম্বর |
১ | প্রদত্ত শব্দের অর্থ মিলকরণ (Match) | ৫ |
২ | প্রদত্ত শব্দ দিয়ে অর্থপূর্ণ বাক্য তৈরি | ৫ |
৩ | প্রশ্নের উত্তর বাক্যে লিখন (৬টি, সবগুলোর উত্তর) | ১৮ |
৪ | বাক্স থেকে সঠিক শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ | ৫ |
৫ | বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) | ৫ |
৬ | প্রশ্নের উত্তর বাক্যে লিখন (৫টি, সবগুলোর উত্তর) | ১৫ |
৭ | প্রদত্ত বাক্য থেকে WH প্রশ্ন তৈরি | ৬ |
৮ | শব্দ / বাক্য সঠিক ক্রমে সাজিয়ে অর্থপূর্ণ বাক্য / গল্প তৈরি (Rearrange) | ৬ |
৯ | Capitalization ও punctuation ঠিক করে বাক্য পুনর্লিখন | ৫ |
১০ | ফরম পূরণ / শূন্যস্থান পূরণ (দিন, মাস, সংখ্যা সংক্রান্ত) | ৫ |
১১ | সঠিক verb form দিয়ে বাক্য / text সম্পূর্ণ করা | ৫ |
১২ | সাধারণ ব্যক্তিগত চিঠি লিখন (clue দেওয়া থাকবে) | ১০ |
১৩ | সংক্ষিপ্ত রচনা লিখন (মুক্ত / প্রশ্নের উত্তর দিয়ে) | ১০ |
ইংরেজিতে বেশি নম্বর পাওয়ার চাবি: চিঠি (১০) + রচনা (১০) + দুই সেটের বাক্যে উত্তর (১৮ + ১৫ = ৩৩) = ৫৩ নম্বর। এই জায়গাগুলোতে বাক্য ঠিকমতো লিখতে পারলেই অর্ধেকের বেশি নম্বর চলে আসে। WH প্রশ্ন আর Rearrange নিয়মিত অনুশীলন করুন।
প্রাথমিক গণিত — ১০০ নম্বর
প্রশ্ন | বিবরণ | নম্বর |
১ | বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (১০টি, সবগুলোর উত্তর) | ১০ |
২ | শূন্যস্থান পূরণ (১০টি, সবগুলোর উত্তর) | ১০ |
৩ | সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (১৬টি, সবগুলোর উত্তর) | ১৬ |
৪ | চার প্রক্রিয়া–সম্পর্কিত সমস্যা | ৮ |
৫ | লসাগু ও গসাগু–সম্পর্কিত সমস্যা | ৮ |
৬ | সাধারণ ভগ্নাংশ / দশমিক ভগ্নাংশ–সম্পর্কিত সমস্যা | ৮ |
৭ | গড়–সম্পর্কিত সমস্যা | ৮ |
৮ | শতকরা–সম্পর্কিত সমস্যা | ৮ |
৯ | পরিমাপ / সময় / ক্ষেত্রফল (আয়ত, সামান্তরিক, ত্রিভুজ) পরিমাপ–সম্পর্কিত সমস্যা | ৮ |
১০ | জ্যামিতি — নির্দেশনা অনুসারে চিত্র অঙ্কন ও অঙ্কিত চিত্রের বৈশিষ্ট্য লেখন | ৮ |
১১ | উপাত্ত বিন্যস্তকরণ ও জনসংখ্যা–সম্পর্কিত সমস্যা | ৮ |
গণিতে বেশি নম্বর পাওয়ার চাবি: প্রথম ৩টি অংশ (১০ + ১০ + ১৬ = ৩৬) তুলনামূলক সহজ — এখানে পূর্ণ নম্বর তোলার চেষ্টা করুন। বড় ৮টি সমস্যার (৬৪ নম্বর) প্রতিটিতে ধাপে ধাপে সমাধান লিখুন — আংশিক ঠিক হলেও আংশিক নম্বর পাওয়া যায়। জ্যামিতির চিত্র পরিষ্কার করে আঁকুন, বৈশিষ্ট্য লিখতে ভুলবেন না।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় + প্রাথমিক বিজ্ঞান — ১০০ নম্বর (৫০ + ৫০)
দুই বিষয় মিলিয়ে একটাই পরীক্ষা, কিন্তু নম্বর আলাদা — প্রতিটিতে ৫০।
প্রাথমিক বিজ্ঞান — ৫০ নম্বর:
প্রশ্নের ধরন | সংখ্যা | নম্বর |
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন | ৫টি | ৫ |
শূন্যস্থান পূরণ / সত্য-মিথ্যা নির্ণয় / মিলকরণ | ৫টি | ৫ |
সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন | ৮টি | ১৬ |
বিস্তৃত উত্তর প্রশ্ন | ৪টি | ২৪ |
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় — ৫০ নম্বর:
প্রশ্নের ধরন | সংখ্যা | নম্বর |
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন | ৫টি | ৫ |
শূন্যস্থান পূরণ / সত্য-মিথ্যা নির্ণয় / মিলকরণ | ৫টি | ৫ |
সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন | ৮টি | ১৬ |
বিস্তৃত উত্তর প্রশ্ন | ৪টি | ২৪ |
এই পেপারে বেশি নম্বর পাওয়ার চাবি: দুই বিষয়েই বিস্তৃত উত্তর প্রশ্নে ২৪ + ২৪ = ৪৮ নম্বর। বিস্তৃত উত্তরে সংজ্ঞা + কারণ + উদাহরণ — এই তিনটা দিয়ে উত্তর লিখুন। শুধু এক লাইন লিখে ছেড়ে দিলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায় না।
সিলেবাস কী — আলাদা বই নেই
অনেক অভিভাবক জিজ্ঞেস করেন — বৃত্তি পরীক্ষার সিলেবাস PDF কোথায়? উত্তর: আলাদা সিলেবাস বই নেই। সিলেবাস হলো পঞ্চম শ্রেণির NCTB পাঠ্যবইগুলো:
বাংলা (আমার বাংলা বই)
English for Today
প্রাথমিক গণিত
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
প্রাথমিক বিজ্ঞান
মানে: ৫ম শ্রেণির বইগুলো ভালো করে পড়লেই সিলেবাস শেষ। আলাদা কোনো “বৃত্তি গাইড” কেনার দরকার নেই — বরং পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ের শেষের প্রশ্ন, উদাহরণ আর অনুশীলনীগুলো বারবার করুন। নোট-গাইড থেকে প্রশ্ন করা হয় না — পরীক্ষায় পাঠ্যবইভিত্তিক প্রশ্নই আসে।
ট্যালেন্টপুল বনাম সাধারণ বৃত্তি — পার্থক্য কী
বিষয় | ট্যালেন্টপুল বৃত্তি | সাধারণ বৃত্তি |
নির্বাচনের ভিত্তি | জাতীয় মেধাক্রম (সারা দেশের মধ্যে) | উপজেলা কোটা / এলাকাভিত্তিক |
সংখ্যা (গত চক্র) | ৩৩,০০০ জন | ৪৯,৫০০ জন |
মাসিক টাকা (গত চক্রের প্রজ্ঞাপন) | ৩০০ টাকা | ২২৫ টাকা |
বছরে এককালীন | ২২৫ টাকা | ২২৫ টাকা |
মেয়াদ | ৩ বছর | ৩ বছর |
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: উপরের সংখ্যা (৩৩,০০০ + ৪৯,৫০০ = মোট ৮২,৫০০) গত চক্রের (২০২৫ পরীক্ষার) ফলাফলের। ২০২৬-এর পরীক্ষায় কতজনকে বৃত্তি দেওয়া হবে, সেটা DPE ফলাফলের নোটিশে জানাবে। সংখ্যা একই থাকতে পারে, আবার বদলাতেও পারে — ফলাফলের আগে “৮২,৫০০ জন পাবে” বলে ধরে নেবেন না। একজন শিক্ষার্থী একসাথে দুই ধরনের বৃত্তি পেতে পারে না।
বৃত্তির টাকা কত — মাসে কত, কতদিন, কীভাবে পাবেন
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ২৫ আগস্টের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী (২০২৫ পরীক্ষায় নির্বাচিতদের জন্য, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৩ বছর মেয়াদে):
বিষয় | ট্যালেন্টপুল | সাধারণ |
মাসিক বৃত্তি | ৩০০ টাকা | ২২৫ টাকা |
বছরে এককালীন | ২২৫ টাকা | ২২৫ টাকা |
মেয়াদ | ৩ বছর (৬ষ্ঠ–৮ম শ্রেণি) | ৩ বছর (৬ষ্ঠ–৮ম শ্রেণি) |
টাকা কীভাবে পাবেন:
টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবে যাবে — EFT (Electronic Fund Transfer) পদ্ধতিতে, সরকার থেকে ব্যক্তি (G2P) পদ্ধতিতে।
এ জন্য অভিভাবকের নামে অনলাইন সুবিধাসম্পন্ন তফসিলভুক্ত ব্যাংকে হিসাব খুলতে হবে।
বৃত্তির অর্থের বিল সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের শেষ দিন, অর্থাৎ প্রতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে উত্তোলন করতে হবে।
বৃত্তি চালু রাখার শর্ত: বৃত্তিধারী শিক্ষার্থীর সদাচরণ (ভালো আচরণ), বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি আর সন্তোষজনক পাঠোন্নতি (পড়াশোনায় অগ্রগতি) — এই তিনটার ভিত্তিতে বৃত্তির অর্থ দেওয়া হবে। স্কুলে অনিয়মিত হলে বা আচরণ খারাপ হলে বৃত্তি বন্ধ হতে পারে।
২০২৬-এর পরীক্ষার্থীদের জন্য: উপরের হার ২০২৫-এর নির্বাচিতদের জন্য প্রযোজ্য প্রজ্ঞাপনের। ২০২৬-এর পরীক্ষায় নির্বাচিতদের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন আসবে — হার একই থাকার সম্ভাবনা বেশি, কিন্তু ফলাফলের নোটিশ না আসা পর্যন্ত “এই হারই পাবেন” বলে নিশ্চিত ধরে নেবেন না।
২ মাসের প্রস্তুতি পরিকল্পনা — এখন থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত
আজ ১৭ অক্টোবর, পরীক্ষা ২০ ডিসেম্বর — হাতে প্রায় ২ মাস আছে। এই সময়টা এভাবে ব্যবহার করুন:
১ম মাস (১৭ অক্টোবর – ১৬ নভেম্বর) — বই শেষ করা:
প্রতিদিন ২–৩ ঘণ্টা পড়া। ৫টি বই ঘুরিয়ে পড়ুন, একদিনে একটাই বই নয়।
বাংলা: কবিতার পঙ্ক্তি মুখস্থ + রচনার কাঠামো অনুশীলন।
ইংরেজি: প্রতিদিন ৫টি করে নতুন শব্দের অর্থ + বাক্য তৈরি, চিঠির ফরম্যাট মুখস্থ।
গণিত: প্রতিটি অধ্যায়ের সব ধরনের সমস্যা একবার করে সমাধান — লসাগু-গসাগু, ভগ্নাংশ, গড়, শতকরা, ক্ষেত্রফল।
বিজ্ঞান + বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: প্রতিটি অধ্যায়ের সংজ্ঞা + কারণ + উদাহরণ দিয়ে উত্তর লেখা অনুশীলন।
২য় মাস (১৭ নভেম্বর – ১৯ ডিসেম্বর) — মডেল টেস্ট:
প্রতি সপ্তাহে ২টি করে পূর্ণ মডেল টেস্ট — ঘড়ি ধরে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে, পরীক্ষার মতো পরিবেশে।
মডেল টেস্টের খাতা নিজে বা শিক্ষকের মাধ্যমে দেখিয়ে ভুলগুলো চিহ্নিত করুন।
ভুল হওয়া জায়গাগুলো আবার পড়ুন। নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করবেন না শেষ সপ্তাহে — শুধু রিভিশন।
শেষ ৩ দিন: হালকা রিভিশন, পর্যাপ্ত ঘুম, প্রবেশপত্র + জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা।
পরীক্ষার হলে সময় বণ্টন (২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট):
প্রথম ১০ মিনিট: পুরো প্রশ্নপত্র পড়ে নিন, কোন প্রশ্ন আগে করবেন ঠিক করুন।
মাঝের ২ ঘণ্টা: উত্তর লেখা — সহজ প্রশ্ন আগে, কঠিন পরে।
শেষ ২০ মিনিট: সব উত্তর রিভিশন, বানান + হিসাব মিলিয়ে দেখা, কোনো প্রশ্ন ছুটে গেল কিনা দেখা।
রেজাল্ট কবে, কীভাবে দেখবেন
২০২৬-এর পরীক্ষার ফলাফলের তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি — পরীক্ষাই হয়নি এখনো। পরীক্ষার পর খাতা দেখা শেষ হলে DPE ফলাফলের তারিখ ঘোষণা করবে।
আগেরবারের (২০২৫ পরীক্ষার) ফলাফল দেখার নিয়ম ছিল (২০২৬-এর জন্য ফলাফল নোটিশে মিলিয়ে নিন):
অনলাইনে: ipemis.dpe.gov.bd/scholarship-results — রোল নম্বর ও ক্যাপচা দিয়ে ফলাফল দেখা যেত।
SMS-এ: DPE স্পেস রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠিয়ে ফলাফল জানা যেত।
জেলাভিত্তিক PDF: dpe.gov.bd-এর নোটিশ বোর্ড থেকে বিভাগ ও জেলা নির্বাচন করে PDF ডাউনলোড করা যেত।
রোল দিয়ে ফলাফল না আসলে: প্রথমে প্রবেশপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে রোল নম্বর ঠিক আছে কিনা দেখুন। ঠিক রোল দিয়েও ফলাফল না আসলে সাধারণত বোঝা যায় সেই শিক্ষার্থী এবার বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়নি। ফলাফলে কোনো ভুল দেখলে DPE-র মহাপরিচালক সংশোধন / বাতিল / পুনর্বণ্টনের ক্ষমতা রাখেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ সিলেবাস ও মানবন্টন PDF কোথায় পাবো?
আলাদা সিলেবাস PDF নেই — সিলেবাস হলো ৫ম শ্রেণির NCTB পাঠ্যবই। মানবন্টন (কোন প্রশ্নে কত নম্বর) এই পোস্টের বিষয়ভিত্তিক টেবিলগুলোতে দেওয়া আছে। DPE-র অফিসিয়াল নোটিশ dpe.gov.bd-তে পাবেন।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ এর প্রশ্ন কাঠামো কী?
উপরে ৪টি বিষয়ের পুরো প্রশ্ন কাঠামো টেবিলসহ দেওয়া আছে। বাংলা ১৫ ধরনের প্রশ্ন, ইংরেজি ১৩টি, গণিত ১১টি, বিজ্ঞান + বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় প্রতিটিতে ৪ ধরনের প্রশ্ন।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ এর মানবন্টন কত?
মোট ৪০০ নম্বর — বাংলা ১০০, ইংরেজি ১০০, প্রাথমিক গণিত ১০০, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৫০ + প্রাথমিক বিজ্ঞান ৫০ = ১০০। প্রতি বিষয়ে পাস/বিবেচনার জন্য ন্যূনতম ৪০% লাগবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ এর নীতিমালা কী?
“প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬” — প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জারি করেছে, DPE-র ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়েছে। মূল কথা: ৪০০ নম্বর, ৪০% মনোনয়ন, প্রতি বিষয়ে ৪০% ন্যূনতম, সরকারি স্কুলে বাধ্যতামূলক, বেসরকারিতে NCTB + IPEMIS শর্ত।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ কবে অনুষ্ঠিত হবে?
২০–২৩ ডিসেম্বর ২০২৬। বিস্তারিত রুটিন টেবিলসহ আমাদের রুটিন পোস্টে আছে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ এর রেজাল্ট কবে দিবে?
এখনো ঘোষণা হয়নি। পরীক্ষার পর DPE জানাবে। আগেরবারের ফলাফল দেখার নিয়ম উপরে দেওয়া আছে — ২০২৬-এর ফলাফল নোটিশে মিলিয়ে নিন।
বৃত্তি পরীক্ষায় ফেল করলে কী হবে?
বৃত্তি পরীক্ষায় “ফেল” বলে কিছু নেই — বৃত্তি না পেলেও ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি আটকাবে না। শুধু বৃত্তির টাকা আর স্বীকৃতি পাওয়া যাবে না। পরের বছর আবার দেওয়ার সুযোগ নেই — এই পরীক্ষা শুধু পঞ্চম শ্রেণিতে একবারই দেওয়া যায়।
কোচিং ছাড়া কি বৃত্তি পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, যায়। পাঠ্যবই ভালো করে পড়া, নিয়মিত অনুশীলন আর মডেল টেস্ট — এই তিনটাই যথেষ্ট। কোচিং বাধ্যতামূলক নয়।
২০২৫ সালের পরীক্ষার প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজন নিয়ে বিস্তারিত পোস্ট এখানে আছে:
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫: ৪০০ নম্বরে বিভাজন ও প্রশ্নপত্রের কাঠামো
রুটিনের বিস্তারিত টেবিল, নোটিশের স্মারক নম্বর আর পরীক্ষার দিনের নিয়ম নিয়ে রুটিন পোস্টটিও দেখে নিন — “প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার রুটিন ২০২৬” শিরোনামে প্রকাশ হবে। রুটিনের জন্য DPE-র অফিসিয়াল নোটিশই চূড়ান্ত ভরসা।
১৮
২৯ মন্তব্য