সহকারী শিক্ষক
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৪২ অপরাহ্ণ
রিসোর্টে অ/গ্নি/কাণ্ডে নি/হ/ত ১০: ঢাবি ও জবি শিক্ষার্থীসহ ৬ জনই একই পরিবারের

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকত-সংলগ্ন একটি কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের ছয়জন এবং শিশুসহ মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সমুদ্রের তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই তা পুড়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শনিবার সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসে আগুনের খবর পাওয়া যায়। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে, অর্থাৎ ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ আগেই তিনতলার দুটি শৌচাগারে আশ্রয় নেওয়া চারজনসহ মোট ১০ জনের প্রাণহানি ঘটে।
প্রাথমিক তদন্তে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের নির্দেশনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অগ্নিনিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা ছিল না: ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মাত্র সাত-আট মাস আগে নির্মিত এই রিসোর্টটিতে কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বা অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা ছিল না। এমনকি রিসোর্টটির কোনো ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। সমুদ্রের পাশে হওয়ায় বাতাসের তীব্রতা এবং কাঠের অবকাঠামো হওয়ার কারণে আগুন মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তাছাড়া জায়গাটির মালিকানা নিয়েও পূর্বে দ্বন্দ্ব ছিল বলে জানা গেছে।
নিহত ও আহতদের পরিচয়: নিহত ১০ জনের মধ্যে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তারা হলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিস তেহামী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছরের শিশু ফাইয়াজ আহম্মেদ। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য রয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল প্রাং এ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে আগুনে দগ্ধ হয়ে আরও ছয়জন আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । তাদের মধ্যে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন ও তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান, মান্নান, মেহেরুন্নেসা, মাসুদ এবং সামিদা রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধারকাজ ও আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেন। আকস্মিক এই ট্র্যাজেডিতে নিহতদের পরিবার ও পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে
-(1).gif)


৩
৪ মন্তব্য