সহকারী অধ্যাপক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ
দাখিল সপ্তম শ্রেণির বই PDF ২০২৬ | Dakhil Class 7 Book PDF
📖 দাখিল সপ্তম শ্রেণির বই PDF ২০২৬
📖 দাখিল সপ্তম শ্রেণির বই PDF ২০২৬
📖 Dakhil Class 7 Book PDF Download
দাখিল সপ্তম শ্রেণিতে পড়ো? তাহলে বছরের শুরুতেই সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটা হলো — এই বছর কোন কোন বই পড়তে হবে, আর দাখিল সপ্তম শ্রেণির বই PDF কোথা থেকে ডাউনলোড করবে। এই পোস্টে বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) প্রকাশিত ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের দাখিল স্তরের সপ্তম শ্রেণির সব বইয়ের সম্পূর্ণ তালিকা, প্রতিটি বইয়ের পরিচয়, অফিসিয়াল ডাউনলোডের নিয়ম, ২০২৬ সংস্করণে যা নতুন এবং সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর — সব এক জায়গায় পাবে।
এই পোস্টটি শুধু বাংলাদেশের NCTB কারিকুলামের মাদ্রাসা ধারার (দাখিল স্তর) সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য। ইংরেজিতে যারা "dakhil class 7 book pdf" বা "dakhil class 7 book pdf download" লিখে খোঁজো, তাদের জন্যও একই তথ্য এখানে আছে — কারণ বাংলাদেশের NCTB বই আর ভারতের বোর্ডের বই এক নয়। নিচের তালিকা NCTB-এর অফিসিয়াল তালিকা অনুযায়ী সরাসরি যাচাই করা। একটা কথা শুরুতেই পরিষ্কার করে দিই — দাখিলের বইয়ের তালিকা সাধারণ ধারার (স্কুলের) সপ্তম শ্রেণির তালিকা থেকে আলাদা। স্কুলের তালিকা দেখে দাখিলের বই ডাউনলোড করলে ভুল বই হাতে আসবে।
এই শ্রেণিতে মোট কয়টি বই
NCTB-এর ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় দাখিল স্তরের সপ্তম শ্রেণির মোট ১৬টি পাঠ্যপুস্তকের শিরোনাম আছে। তবে একজন শিক্ষার্থীর হাতে থাকে ১৫টি বই। হিসাবটা এরকম:
সবার জন্য একই মূল বই: ১৪টি (সপ্তবর্ণা, বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, English For Today, English Grammar and Composition, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ, আকাইদ ও ফিকহ, আললুগাতুল আরাবিয়্যাতুল ইত্তিসালিয়্যাহ, কাওয়াইদুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ)
কৃষিশিক্ষা বা গার্হস্থ্য বিজ্ঞান: ১টি (মাদ্রাসা যেটি পড়ায়, সেটি)
তাই "dakhil class 7 all book pdf" খুঁজলে ১৬টি শিরোনাম দেখে ঘাবড়ে যেয়ো না — তোমার সেটে থাকবে ১৫টি বই। নিচের টেবিলে প্রতিটি বইয়ের পাশে লেখা আছে বইটি কাদের জন্য।
বইয়ের তালিকা
নিচের টেবিলে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের দাখিল সপ্তম শ্রেণির সব বই আছে — NCTB-এর অফিসিয়াল পাতার ক্রম অনুযায়ী। একটা জরুরি কথা: দাখিল স্তরে সাধারণ ধারার মতো আলাদা সম্পূর্ণ English Version সেট নেই। দাখিলের বইগুলো বাংলা মাধ্যমে পড়ানো হয়, আরবি বই দুটি আরবিতে, আর ইংরেজি বই দুটি ইংরেজিতেই। অফিসিয়াল পাতায় প্রতিটি বইয়ের পাশে দুটি ডাউনলোড লিংক (ডাউনলোড লিংক-১ ও ডাউনলোড লিংক-২) থাকে — দুটোই একই বইয়ের বিকল্প লিংক, আলাদা ভার্সন নয়।
ক্রমিক | বইয়ের নাম | মাধ্যম | মন্তব্য |
১ | সপ্তবর্ণা | বাংলা | সবার জন্য — বাংলা ১ম পত্র |
২ | বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি | বাংলা | সবার জন্য — বাংলা ২য় পত্র |
৩ | English For Today | ইংরেজি | সবার জন্য — ইংরেজি ১ম পত্র |
৪ | English Grammar and Composition | ইংরেজি | সবার জন্য — ইংরেজি ২য় পত্র |
৫ | গণিত | বাংলা | সবার জন্য |
৬ | বিজ্ঞান | বাংলা | সবার জন্য — একটাই বই |
৭ | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | বাংলা | সবার জন্য — ইতিহাস, ভূগোল ও নাগরিকতা |
৮ | তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি | বাংলা | সবার জন্য — ICT |
৯ | কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা | বাংলা | সবার জন্য |
১০ | কৃষিশিক্ষা | বাংলা | ঐচ্ছিক — মাদ্রাসা যেটি পড়ায় সেটি |
১১ | গার্হস্থ্য বিজ্ঞান | বাংলা | ঐচ্ছিক — মাদ্রাসা যেটি পড়ায় সেটি |
১২ | শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য | বাংলা | সবার জন্য |
১৩ | কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ | আরবি ও বাংলা | সবার জন্য — দাখিলের বিশেষ ধর্মীয় বই |
১৪ | আকাইদ ও ফিকহ | আরবি ও বাংলা | সবার জন্য — আকিদা ও ফিকহ |
১৫ | আললুগাতুল আরাবিয়্যাতুল ইত্তিসালিয়্যাহ | আরবি | সবার জন্য — আরবি ১ম পত্র, যোগাযোগমূলক আরবি |
১৬ | কাওয়াইদুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ | আরবি | সবার জন্য — আরবি ২য় পত্র, আরবি ব্যাকরণ |
প্রতিটি বই সম্পর্কে সংক্ষেপে
সপ্তবর্ণা: সপ্তম শ্রেণির বাংলা ১ম পত্রের মূল বই — গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ ও নাটিকা নিয়ে। লক্ষ্য করার মতো বিষয়: সাধারণ ধারার সপ্তম শ্রেণিতে সপ্তবর্ণার পাশাপাশি আনন্দপাঠ (সহপাঠ/দ্রুতপাঠ) থাকলেও দাখিল সপ্তম শ্রেণির অফিসিয়াল তালিকায় আনন্দপাঠ নেই। তাই দাখিলের শিক্ষার্থী আনন্দপাঠ খুঁজে সময় নষ্ট কোরো না — তোমার বাংলা ১ম পত্রের বই একটাই, সপ্তবর্ণা।
বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি: বাংলা ২য় পত্রের বই — ব্যাকরণ (সন্ধি, সমাস, কারক, বাক্য) আর নির্মিতি (পত্র, রচনা, সারাংশ, ভাব-সম্প্রসারণ) দুই অংশই এই এক বইয়ে। বাংলা ২য় পত্রের পরীক্ষা পুরোটাই এই বই থেকে হয়।
English For Today ও English Grammar and Composition: ইংরেজি ১ম পত্রের বই English For Today — প্যাসেজ, ডায়ালগ ও অনুশীলনী নিয়ে। ইংরেজি ২য় পত্রের বই English Grammar and Composition — গ্রামার আর রাইটিং (প্যারাগ্রাফ, লেটার, অ্যাপ্লিকেশন, কম্পোজিশন) অংশের জন্য। দাখিলের ইংরেজি বই আর সাধারণ ধারার ইংরেজি বই একই।
গণিত: সপ্তম শ্রেণির গণিত বইয়ে বীজগণিত, জ্যামিতি, পরিমিতি ও বাস্তব সমস্যার অঙ্ক থাকে। অষ্টম শ্রেণির গণিতের ভিত্তি এই বইয়েই তৈরি হয়, তাই গণিত বইটি শুরু থেকেই নিয়মিত অনুশীলন করা জরুরি।
বিজ্ঞান: ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞানের একটাই বই। মনে রাখবে — ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের নতুন শিক্ষাক্রমে বিজ্ঞানের দুটি ভাগ ছিল (বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ও বিজ্ঞান অনুশীলন বই)। ২০২৬-এর অফিসিয়াল তালিকায় সেই দুই ভাগ নেই; একটাই বিজ্ঞান বই পড়তে হবে। পুরনো বছরের দুই ভাগের বই ডাউনলোড করলে ভুল হবে।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: ইতিহাস, ভূগোল, অর্থনীতি ও নাগরিকতার সম্মিলিত বই। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, ভূগোল ও বিশ্বপরিচয় — এই বই থেকেই পড়তে হয়। ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে এই বিষয়টির নাম ছিল ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান (অনুসন্ধানী পাঠ ও অনুশীলন বই — দুই ভাগে); ২০২৬-এর তালিকায় আবার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নামে একটাই বই।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি: কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল নিরাপত্তার প্রাথমিক ধারণার বই। ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে এই বিষয়টির নাম ছিল ডিজিটাল প্রযুক্তি; ২০২৬-এর তালিকায় নাম তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। নাম দেখে বিভ্রান্ত হয়ো না — এটাই তোমার ICT বই।
কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা: পেশা, দক্ষতা, অর্থ ব্যবস্থাপনা ও জীবনমুখী শিক্ষার বই। ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে এই ধরনের বিষয়ের নাম ছিল জীবন ও জীবিকা; ২০২৬-এর তালিকায় নাম কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা।
কৃষিশিক্ষা ও গার্হস্থ্য বিজ্ঞান: এই দুটির মধ্যে মাদ্রাসা যেটি পড়ায়, সেটি পড়তে হয়। দুটোই একসাথে পড়তে হয় না। তোমার মাদ্রাসা কোনটি পড়ায়, সেটা ক্লাস শিক্ষকের কাছ থেকে জেনে নাও — তারপর শুধু সেই বইটি ডাউনলোড করো।
শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: শরীরচর্চা, খেলাধুলা, স্বাস্থ্যবিধি ও মানসিক স্বাস্থ্যের বই। ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে এই বিষয়টির নাম ছিল স্বাস্থ্য সুরক্ষা; ২০২৬-এর তালিকায় নাম শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য।
কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ: দাখিল স্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ বই। কুরআন মাজিদের নির্বাচিত সূরা ও আয়াতের পাশাপাশি তাজভিদের নিয়ম — সঠিক উচ্চারণে কুরআন তিলাওয়াত শেখার জন্য এই বইটি। সাধারণ ধারার শিক্ষার্থীদের এই বই নেই; এটা দাখিলের নিজস্ব বই।
আকাইদ ও ফিকহ: ইসলামি আকিদা (বিশ্বাস) ও ফিকহ (ইসলামি বিধিবিধান) — ইবাদত, নামাজ, রোজা, জাকাতসহ দৈনন্দিন জীবনের ইসলামি বিধান এই বই থেকে পড়তে হয়।
আললুগাতুল আরাবিয়্যাতুল ইত্তিসালিয়্যাহ: আরবি ১ম পত্র — যোগাযোগমূলক আরবি ভাষা শেখার বই। আরবিতে কথা বলা, পড়া ও লেখার দক্ষতা তৈরির জন্য এই বইটি।
কাওয়াইদুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ: আরবি ২য় পত্র — আরবি ভাষার ব্যাকরণের (কাওয়াইদ) বই। আরবি ১ম পত্রে ভাষা ব্যবহার শেখা হয়, আর এই বইয়ে আরবি ব্যাকরণের নিয়মকানুন শেখা হয়। দুটি আরবি বই-ই দাখিলের নিজস্ব বই — সাধারণ ধারার তালিকায় এগুলো নেই।
English Version-এ পড়লে যা জানা দরকার
দাখিল স্তরে সাধারণ ধারার মতো আলাদা সম্পূর্ণ English Version বইয়ের সেট NCTB প্রকাশ করে না। দাখিলের বইগুলো বাংলা মাধ্যমে (আরবি বই আরবিতে, ইংরেজি বই ইংরেজিতে) পড়ানো হয়। তাই "dakhil class 7 english version book pdf" লিখে খুঁজলে আলাদা English Version সেট পাবে না — এটাই স্বাভাবিক। তুমি যদি সাধারণ ধারার (স্কুলের) English Version-এর শিক্ষার্থী হও, তাহলে দাখিলের এই তালিকা তোমার জন্য নয়; স্কুলের সপ্তম শ্রেণির English Version তালিকা ব্যবহার করো। আর অফিসিয়াল পাতায় প্রতিটি বইয়ের পাশে ডাউনলোড লিংক-১ ও লিংক-২ — দুটোই একই বইয়ের বিকল্প লিংক, আলাদা ভার্সন নয়। একটা না খুললে অন্যটা চেষ্টা করো।
NCTB ওয়েবসাইট থেকে বই ডাউনলোড করার নিয়ম
দাখিল সপ্তম শ্রেণির বই PDF ডাউনলোডের একমাত্র অফিসিয়াল ঠিকানা NCTB-এর ওয়েবসাইট। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করো:
প্রথমে এনসিটিবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট খোলো। ঠিকানা ঠিক আছে কিনা দেখে নাও — nctb.gov.bd। গুগলে "dakhil class 7 book pdf" লিখে আসা অচেনা সাইটে ঢুকে ডাউনলোড করবে না।
সরাসরি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের দাখিল স্তরের সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের অফিসিয়াল পাতা খোলো। এই পাতায় ১৬টি বইয়ের সম্পূর্ণ তালিকা আছে।
পাতায় প্রতিটি বইয়ের নামের পাশে "ডাউনলোড লিংক-১" ও "ডাউনলোড লিংক-২" দেখবে। তোমার বইটির লিংকে ক্লিক করো। একটা লিংক না খুললে অন্যটা চেষ্টা করো।
PDF ফাইলটি ডাউনলোড করে ফোন বা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করো। বই ডাউনলোড করতে কোনো টাকা লাগে না, কোনো রেজিস্ট্রেশন বা লগইন লাগে না — NCTB-এর সব পাঠ্যপুস্তক সরকারি বিনামূল্যের বই।
ডাউনলোডের পর প্রচ্ছদে শিক্ষাবর্ষ "২০২৬" লেখা আছে কিনা মিলিয়ে দেখো। ২০২৫ বা তার আগের বছরের বই দিয়ে পড়লে ভুল হবে।
একসাথে সব বই ডাউনলোড করে একটা ফোল্ডারে রেখে দাও — সারা বছর কাজে লাগবে। ছাপা বই হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত এই PDF দিয়েই পড়া চালিয়ে যেতে পারো।
মনে রাখবে: মাদ্রাসা থেকে ছাপা বই পাওয়ার কথা জানুয়ারির শুরুতেই। ছাপা বই পেয়ে গেলে PDF রাখবে ব্যাকআপ হিসেবে — বই হারিয়ে গেলে, ছিঁড়ে গেলে বা কোথাও গেলে PDF-ই ভরসা।
২০২৬ সংস্করণে যা নতুন
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইগুলো ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর NCTB-এর ওয়েবসাইটে অনলাইন সংস্করণ হিসেবে প্রকাশ করা হয় — মোট ৬৪৭টি পাঠ্যপুস্তক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন মিলিয়ে, সব স্তর)। দাখিল সপ্তম শ্রেণির ক্ষেত্রে যেসব পরিবর্তন যাচাই করা গেছে:
এক বিষয়ে এক বই: ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের নতুন শিক্ষাক্রমে বিজ্ঞান ও ইতিহাস-সামাজিক বিজ্ঞানের দুই ভাগের বই ছিল (অনুসন্ধানী পাঠ + অনুশীলন বই)। ২০২৬-এর তালিকায় সেই দুই ভাগ নেই — বিজ্ঞান একটাই বই, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় একটাই বই।
পুরনো নাম ফিরে এসেছে: ডিজিটাল প্রযুক্তি আবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জীবন ও জীবিকা আবার কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আবার শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান আবার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়। পুরনো নামের বই খুঁজলে এগুলোই তোমার বই।
দাখিলের নিজস্ব বই অপরিবর্তিত: কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ, আকাইদ ও ফিকহ এবং দুটি আরবি বই আগের মতোই দাখিলের তালিকায় আছে।
আনন্দপাঠ নেই: সাধারণ ধারার সপ্তম শ্রেণিতে আনন্দপাঠ থাকলেও দাখিল সপ্তম শ্রেণির ২০২৬ তালিকায় আনন্দপাঠ নেই। যেসব তৃতীয় পক্ষের সাইট দাখিলের তালিকায় আনন্দপাঠ দেখাচ্ছে, সেগুলো পুরনো বা ভুল তালিকা দিচ্ছে।
সাধারণ ভুল ধারণা
ভুল ধারণা ১: তৃতীয় পক্ষের PDF সাইটগুলোই অফিসিয়াল।
না। অফিসিয়াল সাইট একটাই — nctb.gov.bd। বাকি সব তৃতীয় পক্ষের সাইট। সেগুলোতে পুরনো বছরের বই, ভুল বই, ভাঙা লিংক আর বিজ্ঞাপনের ফাঁদ থাকে। যেমন — এখনো অনেক সাইট দাখিল সপ্তম শ্রেণির তালিকায় আনন্দপাঠ দেখাচ্ছে, অথচ ২০২৬-এর অফিসিয়াল তালিকায় আনন্দপাঠ নেই। অনেক সাইট এনসিটিবির বই নিজেদের সার্ভারে কপি করে রাখে, যেখানে পরে ভুল সংশোধন হলে আপডেট হয় না। সবসময় অফিসিয়াল পাতা থেকেই ডাউনলোড করো।
ভুল ধারণা ২: স্কুলের (সাধারণ ধারার) বই দিয়েই দাখিল পড়া যায়।
না। দাখিলের তালিকা আলাদা। সাধারণ ধারায় আছে আনন্দপাঠ, চারু ও কারুকলা, চারটি আলাদা ধর্মের বই আর ঐচ্ছিক ভাষার বই — দাখিলে এগুলো নেই। আবার দাখিলে আছে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ, আকাইদ ও ফিকহ এবং দুটি আরবি বই — সাধারণ ধারায় এগুলো নেই। দুই ধারার বই মিশিয়ে ফেললে পরীক্ষায় সমস্যা হবে।
ভুল ধারণা ৩: ভারতের বই আর বাংলাদেশের বই এক।
একদমই না। ভারতের বইগুলো NCERT, WBBSE (পশ্চিমবঙ্গ) বা অন্য বোর্ডের — সিলেবাস, ভাষা, ইতিহাসের বর্ণনা সব আলাদা। ইংরেজিতে "class 7 book pdf" লিখে সার্চ দিলে ভারতীয় বোর্ডের বই চলে আসে। বাংলাদেশের বই চাইলে বাংলায় "দাখিল সপ্তম শ্রেণির বই PDF" লিখে সার্চ দাও, কিংবা সরাসরি nctb.gov.bd-তে যাও।
ভুল ধারণা ৪: পাঠ্যবই মানেই গাইড বা সলিউশন।
না। NCTB শুধু পাঠ্যবই প্রকাশ করে — গাইড বই, টেস্ট পেপার বা প্রশ্নের সমাধান (সলিউশন) NCTB প্রকাশ করে না। "Dakhil class 7 solution" বা "গাইড PDF" নামে যেসব অ্যাপ ও সাইট আছে, সেগুলো তৃতীয় পক্ষের — NCTB-এর নয়। সেগুলোতে বিজ্ঞাপন আর ভুল উত্তরের ঝুঁকি থাকে। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অফিসিয়াল পাঠ্যবই-ই যথেষ্ট।
ভুল ধারণা ৫: PDF বই ছাপা বই থেকে আলাদা।
না। অফিসিয়াল PDF আর ছাপা বই একই বই — একই লেখা, একই পৃষ্ঠা, একই প্রচ্ছদ। PDF শুধু ডিজিটাল কপি। তবে PDF ডাউনলোডের সময় অবশ্যই অফিসিয়াল পাতা থেকে নিতে হবে, যাতে ভুল সংস্করণ হাতে না আসে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন: দাখিল সপ্তম শ্রেণিতে মোট কয়টি বই?
উত্তর: NCTB-এর ২০২৬ তালিকায় মোট ১৬টি শিরোনাম আছে। তবে একজন শিক্ষার্থীর হাতে থাকে ১৫টি বই — কারণ কৃষিশিক্ষা ও গার্হস্থ্য বিজ্ঞানের মধ্যে মাদ্রাসা যেটি পড়ায়, সেটি পড়তে হয়।
প্রশ্ন: দাখিল সপ্তম শ্রেণির English Version বই আছে কিনা?
উত্তর: দাখিল স্তরে সাধারণ ধারার মতো আলাদা সম্পূর্ণ English Version বইয়ের সেট নেই। দাখিলের বই বাংলা মাধ্যমে পড়ানো হয়; আরবি বই দুটি আরবিতে, আর English For Today ও English Grammar and Composition ইংরেজিতেই পড়া হয়। অফিসিয়াল পাতায় প্রতিটি বইয়ের দুটি ডাউনলোড লিংক (লিংক-১ ও লিংক-২) আছে — দুটোই একই বইয়ের বিকল্প লিংক, আলাদা ভার্সন নয়।
প্রশ্ন: ২০২৫-এর বই দিয়ে ২০২৬-এ পড়া যাবে কিনা?
উত্তর: না, পড়া ঠিক হবে না। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বইয়ের কাঠামো বদলেছে — ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের দুই ভাগের বই (যেমন বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ + অনুশীলন বই) ২০২৬-এ নেই, বিষয়ের নামও বদলেছে (ডিজিটাল প্রযুক্তি হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি)। তাই অবশ্যই ২০২৬ সংস্করণের বই ব্যবহার করো — প্রচ্ছদে শিক্ষাবর্ষ "২০২৬" মিলিয়ে দেখো।
প্রশ্ন: PDF বই নাকি ছাপা বই — কোনটা ভালো?
উত্তর: দুটোই একই বই। ছাপা বই চোখের জন্য আরামদায়ক, দাগ দিয়ে পড়া যায়, পরীক্ষার সময় হাতের কাছে থাকে — তাই ছাপা বই-ই প্রধান। PDF-এর সুবিধা হলো সবসময় সাথে থাকে, হারায় না, আর ছাপা বই হাতে পাওয়ার আগেই পড়া শুরু করা যায়। সবচেয়ে ভালো উপায়: ছাপা বই দিয়ে পড়ো, PDF রাখো ব্যাকআপ হিসেবে।
প্রশ্ন: বইয়ে ভুল ছাপা বা ছেঁড়া পৃষ্ঠা পেলে কী করবে?
উত্তর: বইটি মাদ্রাসায় নিয়ে গিয়ে ক্লাস শিক্ষক বা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে দেখাও। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে বদলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। নিজে দোকান থেকে বই কিনতে যেয়ো না — NCTB-এর পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণের বই, বাজারে কেনার বই নয়। সাময়িকভাবে অফিসিয়াল PDF দিয়ে পড়া চালিয়ে যাও।
প্রশ্ন: মাদ্রাসা থেকে সব বই না পেলে কোথায় জানাবে?
উত্তর: প্রথমে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষকে জানাও। সেখান থেকে সমাধান না হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করো — তারাই বই বিতরণের হিসাব রাখে। আর বই হাতে না পাওয়া পর্যন্ত অফিসিয়াল PDF দিয়ে পড়া শুরু করে দাও, যাতে পড়া পিছিয়ে না যায়।
১৮
২৯ মন্তব্য