প্রধান শিক্ষক
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করেই ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী
সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করেই ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কেবল নিজের এলাকা নয়, সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বার্থেই পুরো ঢাকাকে জঞ্জালমুক্ত রাখতে হবে। কাউকে বাদ না দিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাজধানীবাসীকে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ উপহার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, কোনো অভিভাবকই চান না তার সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে উঠুক। সন্তান কেবল নিজের বাসার আশপাশেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং স্কুল, কলেজ ও খেলার মাঠসহ পুরো শহরেই তার বিচরণ থাকে। তাই কেবল নিজস্ব আঙিনা পরিষ্কার রাখলেই চলবে না, পুরো রাজধানীকেই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা ঢাকাকে গ্রাস করা অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই জটিল সংকটের রাতারাতি বা এক সপ্তাহে সমাধান সম্ভব নয়। তবে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি অবশ্যম্ভাবী। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কাজের সুফল পেতে কিছুটা সময় লাগলেও আত্মবিশ্বাস ও প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
লন্ডনের অতীত ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকেও লন্ডনের বহু এলাকা ময়লা-আবর্জনায় ভরা ছিল। দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা এবং নাগরিকদের সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমেই কেবল তারা সেই অবস্থার আমূল পরিবর্তন এনেছে। বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহর ঘুরে দেশে ফিরে কেবল আফসোস করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নাগরিক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে।
ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশে দীর্ঘকাল ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছে দক্ষিণ কোরিয়ার এমন একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।ঢাকার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করেন যে, শহরের পরিচ্ছন্নতা আগের তুলনায় কিছুটা হলেও ভালো হয়েছে। এই বাস্তবতার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি ওই বিনিয়োগকারী আকাশকুসুম পরিবর্তনের কথা না বললেও 'কিছুটা ভালো হয়েছে' বলে স্বীকার করেছেন। এর অর্থ হলো সঠিক পথে চেষ্টা চালালে আরও বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
মতবিনিময় সভার আগে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ উপাত্ত, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন আধুনিক ওয়েবসাইট ঘুরে দেখেন। জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে এসব তথ্য কাজে লাগানো হয়, সে বিষয়ে তিনি খুঁটিনাটি খোঁজখবর নেন। এ ছাড়া ফেসবুক লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ডিএসসিসির সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রস্তুতকৃত একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র উপভোগ করেন।
১
২ মন্তব্য