প্রধান শিক্ষক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
শরতের বিদায়, বিষণ্ন আমি
🍂শরতের বিদায়, বিষণ্ন আমি
বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছ কাশফুলের ক্ষুদ্র রেনু,
আকাশ ধীরে ধীরে পালটাচ্ছে তার রুপ,
দুর্গা বাবার বাড়ি এসে আবার ফিরেও গেলো,
প্রবারণা পূর্নিমায় চাঁদ দেখাল তার অপরুপ সৌন্দর্য।
সকালে ঘাসের ডগায় জমে বিন্দু বিন্দু শিশির,
তবু ও বুকের ভেতর কেমন এক শূন্যতা উদাসী!
শিশিরভেজা ঘাস আগলে রাখে বুকে ঝরা শিউলি,
সে যে মাতাল করে আমায় তীব্র ঘ্রাণে।
সকালে পথের পাশে ঝরা বকুল,
ফিসফিসিয়ে জানায় তুমি কেন ভালোবাসোনা আমায়?
আগে তো ব্যকুল ছিলে কবে আসবো,
তুমি মালা গেঁথে খোঁপায় পড়বে!
মুচকি হেসে বলি যার জন্য ছিলো আয়োজন,সে-ই তো আজ অপ্রয়োজন!
শান্ত নদীর জলে সোনালি আলোর খেলা,
তারই মাঝে বিদায়ের স্বপ্ন বোনা।
সবুজ ধানের খেত হাসতে শুরু করেছে,
পাতার ফাকে ফাকে পাখির মিষ্টি কূজন।
আমার জানালাতে বিষণ্ন বিকেল নামে,
কেন যে মন হারিয়ে যায় অচেনা অভিমানে!
যে আকাশে মুগ্ধ চোখে খুঁজেছি কত সুখ, সেই আকাশেই আজ দেখি বিরহেরই মুখ
শিউলি ঝরে— ঝরুক আরও, শিশির নামুক ঘাসে,
শেষ বিকেলের সোনার রোদ মিশুক দীর্ঘশ্বাসে।
তোমার যাবার পথের দিকে চেয়ে থাকি চুপ,
বুকের মাঝে জমে থাকে বিষণ্নতার ধূপ।
তুমি চলে যেয়ো— অভিমান রেখো না,
এ মনের গোপন ব্যথা কাউকে বলো না।
তোমার কাশের শুভ্রতায় মিশে থাকুক আমার হাহাকার, তোমার নীলের গভীরতায় হারাক অশ্রুধার।
আবার ফিরে আসবে যখন বছর পেরিয়ে,
দেখবে আছি দাঁড়িয়ে পথের ধারে।
হয়তো তখন বিষণ্নতা কিছুটা হবে ক্ষয়— তবু তোমার বিদায়বেলায় মন আমার ভারাক্রান্ত হয়।
“প্রকৃতি যখন বিদায়ের সাজে সবচেয়ে সুন্দর হয়ে ওঠে, তখনই কেন মানুষের মন সবচেয়ে বেশি শূন্যতা অনুভব করে?” 🍂
"বিদায় হে শরৎ"
৩
৪ মন্তব্য