Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

নীরব ঘাতক স্ট্রোক: সচেতনতাই হোক আমাদের প্রধান প্রতিরোধ


​প্রতি বছর ২৯ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। স্ট্রোক বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু এবং দীর্ঘমেয়াদী অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ। অথচ সামান্য সচেতনতা ও জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে এই মারাত্মক ঝুঁকি অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব। স্ট্রোক আসলে কোনো একক রোগ নয়, বরং এটি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহের এক আকস্মিক বিপত্তি, যার ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলো অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাবে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

​স্ট্রোক প্রধানত দুই ধরনের হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ইস্কেমিক স্ট্রোক, যা মস্তিষ্কের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ঘটে। অন্যটি হেমোরেজিক স্ট্রোক, যেখানে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো রক্তনালী ফেটে গিয়ে রক্তপাত ঘটে। উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল, ধূমপান, অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যালকোহল গ্রহণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

​স্ট্রোকের লক্ষণগুলো চেনার জন্য চিকিৎসকরা 'FAST' বা ফাস্ট সূত্রটি ব্যবহার করে থাকেন। 'F' দিয়ে ফেস বা মুখ একদিকে ঝুঁকে যাওয়া বা বাঁকা হয়ে যাওয়া বোঝায়। 'A' দিয়ে আর্ম বা বাহু বা হাতের দুর্বলতা বা অবশ হয়ে যাওয়া নির্দেশ করে। 'S' দিয়ে স্পিচ বা কথা বলতে সমস্যা হওয়া বা তোমালের জড়িয়ে যাওয়া বোঝায়। আর 'T' দিয়ে টাইম বা সময় অত্যন্ত মূল্যবান তা নির্দেশ করে, অর্থাৎ এই লক্ষণগুলো দেখা মাত্রই রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কারণ স্ট্রোকের শিকার রোগীর জন্য প্রথম কয়েক ঘণ্টা, যাকে 'গোল্ডেন আওয়ার' বলা হয়, চিকিৎসা শুরুর জন্য অত্যন্ত নির্ধারিত সময়।

​স্ট্রোক প্রতিরোধে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ত্রিশ মিনিট নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা, খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খাওয়া এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পুরোপুরি বর্জন করা উচিত। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত আবশ্যক।

​স্ট্রোক কেবল আক্রান্ত ব্যক্তির জন্যই নয়, বরং তার পুরো পরিবারের জন্য এক বিরাট মানসিক ও শারীরিক ধাক্কা। তাই এই প্রতিরোধযোগ্য রোগটি সম্পর্কে নিজে সচেতন হোন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সচেতন করুন। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ এবং সচেতনতাই পারে একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবন উপহার দিতে।

মন্তব্য করুন