সহকারী শিক্ষক
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
ভর আর ওজনের পার্থক্য
ভর আর ওজনের পার্থক্যটা এক বন্ধুর মহাকাশ ভ্রমণের মজার গল্পের মতো করে বোঝা যাক:
মনে করো, তোমার প্রিয় বন্ধু রফিক বেশ স্বাস্থ্যবান একজন মানুষ। পৃথিবীতে দাঁড়ালে দাঁড়িপাল্লায় তার ভর দেখায় ৬০ কেজি। এই ৬০ কেজি মানে কী? তার শরীরে রক্ত, মাংস, হাড় মিলিয়ে ঠিক কতটুকু পদার্থ আছে—সেটাই তার ভর।
এখন রফিককে যদি একটা রকেটে করে চাঁদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তার শরীর থেকে কিন্তু কোনো হাত-পা বা মাংস কমে যাবে না! অর্থাৎ, চাঁদে গেলেও তার ভেতরে পদার্থের পরিমাণ বা ভর ৬০ কেজিই থাকবে। এমনকি সে যদি মহাকাশের একদম ফাঁকা জায়গায় ভেসে বেড়ায়, তখনও তার ভর একই থাকবে। ভর কখনো বদলায় না, ভর কখনো শূন্যও হয় না।
কিন্তু গোলমালটা বাধে ওজন নিয়ে!
ওজন আসলে কোনো পদার্থের নিজস্ব পরিমাণ নয়; ওজন হলো একটি টান বা আকর্ষণ বল। পৃথিবী তার বুক থেকে কাউকে সহজে ছেড়ে দিতে চায় না, সবাইকে নিজের কেন্দ্রের দিকে এক অদৃশ্য মায়ায় (মহাকর্ষ বল দিয়ে) টেনে ধরে রাখে। পৃথিবী রফিককে যে জোরে নিচের দিকে টেনে ধরেছে, সেটাই পৃথিবীতে রফিকের ওজন।
এবার রফিক চাঁদে নামল। চাঁদ তো পৃথিবীর চেয়ে অনেক ছোট, তাই চাঁদের টানার শক্তিও বেশ দুর্বল! চাঁদ পৃথিবীকে বলে, "তুমি যত জোরে টানো, আমি তত জোরে টানতে পারি না; আমি টানব তোমার ৬ ভাগের মাত্র ১ ভাগ শক্তিতে!"
ফলে কী হলো?
পৃথিবীতে রফিকের ওজন যদি হয় প্রায় ৬০০ নিউটন,
চাঁদে গিয়ে স্প্রিং নিক্তিতে দাঁড়ালে তার ওজন দেখাবে মাত্র ১০০ নিউটন!
অর্থাৎ, চাঁদের চেয়ে পৃথিবীতে আমাদের ওজন প্রায় ৬ গুণ বেশি, আর চাঁদে গেলে আমরা নিজেদের ৬ গুণ হালকা অনুভব করব।
চাঁদে রফিক পা ফেললেই দেখবে সে পাখির মতো হালকা চালে লাফিয়ে অনেক উঁচুতে উঠে যাচ্ছে!
মজার ব্যাপার হলো, রফিক যদি এমন এক মহাকাশে চলে যায় যেখানে কোনো গ্রহ বা উপগ্রহের কোনো টানই নেই, তখন স্প্রিং নিক্তি তার ওজন দেখাবে শূন্য (০)! কিন্তু এত কিছুর পরেও রফিকের নিজের শরীরের ভেতরের কণাগুলো অর্থাৎ তার ভর কিন্তু সেই ৬০ কেজিই রয়ে গেছে।
গল্পের মূল কথা: ভর হলো তুমি আসলে ভেতরে ভেতরে ঠিক কতটা, যা কোনোদিন বদলায় না। আর ওজন হলো আশেপাশের পরিবেশ তোমাকে কতটা শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে!
১৮
২৯ মন্তব্য