Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ

ওজন হলো মূলত একটি আকর্ষণ বল।

কোনো বস্তুর ওজন আসলে কোনো স্থায়ী বা স্বাধীন বৈশিষ্ট্য নয়; এটি মূলত একটি টান বা আকর্ষণ বল।

পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায়, পৃথিবী তার পৃষ্ঠে বা এর কাছাকাছি থাকা যেকোনো বস্তুকে তার কেন্দ্রের দিকে যে বল দ্বারা নিজের দিকে টানে, তাকেই ওই বস্তুর ওজন বলা হয়। অর্থাৎ:

$$\text{ওজন } (W) = \text{ভর } (m) \times \text{অভিকর্ষজ ত্বরণ } (g)$$

এখানে কয়েকটি সহজ উদাহরণের মাধ্যমে বোঝা যায় কেন ওজনকে আকর্ষণ বল বলা হয়:

  • আকর্ষণের পার্থক্যে ওজনের পরিবর্তন:

    একটি বস্তুর ভেতরের উপাদান (ভর) সব জায়গায় একই থাকে। কিন্তু পৃথিবী যেহেতু বড়, তাই এর টানার শক্তি বা আকর্ষণ বেশি। অন্যদিকে চাঁদ ছোট হওয়ায় তার মধ্যাকর্ষণ টান পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ ভাগের ১ ভাগ। একারণেই চাঁদে গেলে কোনো বস্তুর ওজন কমে যায়—কারণ চাঁদ তাকে পৃথিবীর মতো অত জোরে আকর্ষণ করতে পারছে না।

  • আকর্ষণ না থাকলে ওজন শূন্য:

    মহাশূন্যে যেখানে কোনো গ্রহ বা নক্ষত্রের আকর্ষণ কাজ করে না, সেখানে কোনো বস্তুকে রাখলে স্প্রিং নিক্তি তার ওজন শূন্য দেখায়। অথচ বস্তুটির ভেতরের উপাদান বা ভর কিন্তু একটুও কমে না। টান বা আকর্ষণ নেই বলেই বস্তুটির ওজনও আর থাকে না।

  • ওজনের দিক থাকে:

    সাধারণ পরিমাণের কোনো দিক থাকে না, কিন্তু ওজনের একটি সুনির্দিষ্ট দিক রয়েছে। পৃথিবী সব সময় বস্তুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে টানে, তাই ওজনের দিক সব সময়ই নিম্নমুখী বা আকর্ষণ কেন্দ্রের দিকে।

সহজ কথায়, কোনো বস্তুর ওজন কত হবে তা নির্ভর করে তাকে যে গ্রহ বা মহাজাগতিক বস্তু টানছে, তার আকর্ষণ ক্ষমতা ঠিক কতটুকু। এ কারণেই বলা হয়—ওজন হলো মূলত একটি আকর্ষণ বল।

মন্তব্য করুন