Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০৩ অপরাহ্ণ

আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ের (আকাশগঙ্গা)

কল্পনা করো, তুমি যদি একটি মহাকাশযানে চেপে আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ের ঠিক হৃদপিণ্ড বা একদম কেন্দ্রের দিকে যাত্রা শুরু করো, তবে সেখানে কী দেখতে পাবে?

যতই কেন্দ্রের কাছাকাছি যাবে, দেখতে পাবে চারপাশের অন্ধকার মহাকাশ যেন এক রূপকথার মতো ঝলমলে রূপ নিচ্ছে। আমাদের এখানে রাতের আকাশে আকাশে এক একটা তারা কত দূরে দূরে দেখা যায়! কিন্তু কেন্দ্রের কাছে গিয়ে দেখবে কোটি কোটি নক্ষত্র গায়ে গা ঘেঁষে মেলা বসিয়েছে। সেখানে রাতের কোনো অন্ধকার নেই, শুধুই তারাদের এক অদ্ভুত উজ্জ্বল রাজপ্রাসাদ!

কিন্তু সেই আলোর ঝলকানির ঠিক মাঝখানে তাকিয়ে দেখতে পাবে এক গা ছমছমে দৃশ্য। এত আলোর ভিড়েও একেবারে কেন্দ্রে বসে আছে নিকষ কালো এক মহাদানব—নাম তার স্যাজিটেরিয়াস এ-স্টার (Sagittarius A*)।

সে কোনো সাধারণ প্রাণী বা বস্তু নয়, সে হলো এক অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর (Supermassive Black Hole)। তার পেট এত বিশাল আর ক্ষুধা এত প্রবল যে, আমাদের সূর্যের মতো প্রায় ৪০ থেকে ৪৩ লক্ষ সূর্যকে যদি একসাথে পিষে একটি বল বানিয়ে ফেলা হয়, তবে তার ভরের সমান হবে এই দানব! তার টানার শক্তি বা মহাকর্ষ বল এত ভয়ংকর যে, তার কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় আলোর মতো ক্ষিপ্র জিনিসও আর ফিরে আসতে পারে না; অন্ধকারের ফাঁদে বন্দি হয়ে যায়।

সেই কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশটা আবার শান্ত নয়। দূর থেকে ছুটে আসা গ্যাস আর মহাজাগতিক ধূলিকণাগুলো তার পেটে ঢোকার আগে এক উন্মাদ ঘূর্ণিনাচ শুরু করে। সে এক অবিশ্বাস্য নৃত্য! লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার বেগে ঘুরতে ঘুরতে সেই গ্যাসের বলয় প্রচণ্ড ঘর্ষণে তপ্ত হয়ে ওঠে, যেন কালো দানবের গলায় জ্বলন্ত এক সোনার হার জড়িয়ে আছে! সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র এক্স-রে আর আলোর ঝলক।

আর এই ভয়ংকর শক্তিশালী দানবের টানেই কোটি কোটি তারা আর ধূলিমেঘ সুশৃঙ্খলভাবে চড়কির মতো চারদিকে বনবন করে ঘুরছে। এমনকি আমাদের শান্ত-শিষ্ট সূর্যও পুরো সৌরজগৎকে পিঠে নিয়ে এই কেন্দ্রের চারপাশেই অবিরাম নৃত্যরত!

মন্তব্য করুন