সহকারী শিক্ষক
০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ
মধ্যযুগের অন্যতম প্রভাবশালী চিকিৎসক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী ছিলেন পারস্যের আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আল-রাজি।
ঘটনাটি প্রায় ১১০০ বছর আগের। মধ্যযুগের অন্যতম প্রভাবশালী চিকিৎসক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী ছিলেন পারস্যের আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আল-রাজি।
চিকিৎসাক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অসাধারণ। রোগ নির্ণয়, চিকিৎসাপদ্ধতি, ওষুধের ব্যবহার এবং রোগীদের ওপর নিজের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। শুধু নিজের অভিজ্ঞতাই নয়, পূর্ববর্তী গ্রিক, পারস্য ও ভারতীয় চিকিৎসকদের জ্ঞানও তিনি গভীরভাবে অধ্যয়ন ও সংরক্ষণ করতেন।
৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর মৃ'ত্যুর পর এসব বিচ্ছিন্ন নোট ও পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। তখন বুইয়িদ সাম্রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী আবুল ফজল ইবনে আল আমিদ সেগুলো সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে আল রাজির শিক্ষার্থীরা সেগুলো সম্পাদনা ও সংকলন করে রূপ দেন এক কালজয়ী গ্রন্থে। বইটির নাম দেওয়া হয় 'কিতাব আল হাওয়ি ফি আল তিব্ব' যার অর্থ দাঁড়ায় 'চিকিৎসাবিজ্ঞানের পূর্ণাঙ্গ সংকলন'।
এনসাইক্লোপিডিয়া ইরানিকার তথ্য অনুযায়ী, গ্রন্থটি ২৫ খণ্ডে বিন্যস্ত ছিল। তবে এর প্রাচীন ২৫ খণ্ডের কোনো সম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি আজ পর্যন্ত টিকে নেই।
বইটি কেবল আরবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ১২৭৯ সালে সিসিলীয় ইহুদি চিকিৎসক ফারাজ ইবনে সালিম এটি ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করেন। ইউরোপে এটি লিবার কন্টিনেন্স নামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। ১৪৬৮ সালে ইতালির ব্রেশিয়ায় এর প্রথম মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
একজন মানুষের সারাজীবনের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা মৃত্যুর পরও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কীভাবে বিশ্বকে আলোকিত করতে পারে এটি তারই এক অনন্য উদাহরণ।
তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ইরানিকা,
ইউএস ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন, পিএমসি
১৮
২৯ মন্তব্য