সহকারী শিক্ষক
০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৯:১১ পূর্বাহ্ণ
মশারির ফাক দিয়ে তোমায় খুজি!
মশারির ফাঁক দিয়ে তোমায় খুঁজি!
আমার বয়স তখন ঠিক কত, তা আজ আর মনে নেই। সেই ছোট্ট বয়সেই মায়ের চাকরি হয়। এনজিওর চাকরি, সেখানে সন্তানকে বুকে আগলে রেখে কাজ করা প্রায় অসম্ভব। তাই আমার দায়িত্ব পড়ে নানীর কাছে।
মায়ের সঙ্গে মাসে একবার দেখা হতো। মাকে দেখার জন্য মন কেমন করত, খুব কান্না করতাম। এভাবেই চলতে থাকে জীবন। নানীকে আমি ‘আপা’ বলে ডাকতাম। গালে তুলে খাওয়ানো, স্কুলে নিয়ে যাওয়া, গোসল করানো—সবকিছুই করতেন পরম মমতায়। মায়ের অভাবটা কখনো বুঝতে দেননি।
১৯৯৫ সালে খুলনায় পাড়ি জমাই। খুলনা তখন আমার কাছে একেবারেই অপরিচিত এক শহর। দেখতে দেখতে সেই ছোট্ট শিশুটি একসময় বড় হয়ে উঠল। কিন্তু নানীর মমতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
গভীর রাত পর্যন্ত নানী অপেক্ষা করতেন, কখন আমি বাড়ি ফিরব, কখন খাব। খাওয়া শেষ হলে নিজের হাতে মশারি টাঙিয়ে দিতেন। আমি নিষেধ করলেও শুনতেন না। যেন মশারির ভিতরে আমাকে নিরাপদে রাখায় ছিল তাঁর রাতের শেষ দায়িত্ব।
আজ থেকে ১৮ বছর আগে নানী চলে গেছেন না-ফেরার দেশে।
কত বছর পেরিয়ে গেল! কত কিছু বদলে গেল! সেই ছোট্ট শিশুটি আজ জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। অথচ আজও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় যখন মশারি টাঙাই, অজান্তেই চোখ চলে যায় মশারির ফাঁকে।
মনে হয়, এই বুঝি নানী দাঁড়িয়ে আছেন!
আজও মশারির ফাঁক দিয়ে তোমায় খুঁজি, নানী।
তুমি নেই, অথচ তোমার সেই মমতামাখা অপেক্ষা আজও আমার প্রতিটি রাতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের ভালোবাসা কখনো পুরোনো হয় না।
০
০ মন্তব্য