ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের দুবলার চরের শুটকি পল্লী বাংলাদেশের অন্যতম ও প্রধান শিল্প অঞ্চল। ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার পর প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে এই শুঁটকি মৌসুম চলে ৩১ মার্চ পর্যন্ত (প্রায় পাঁচ মাস)।
দুবলার চরের অবস্থান ও শুটকি অঞ্চল
সুন্দরবনের দক্ষিণ উপকূলে ও বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে দুবলার চর অবস্থিত। মূলত আলোর কোল, মাঝের কেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া ও শেলার চর—এই চারটি প্রধান পয়েন্ট বা এলাকায় অস্থায়ী ঘর ও মাচা তৈরি করে জেলেরা শুঁটকি উৎপাদনের কাজ করেন। এ বছর বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দুবলার চরের অনুমতিপ্রাপ্ত ১১৬টি দোকানের মধ্যে আলোর কোলে ১১০টি, মাঝের কেল্লায় ২টি, নারিকেলবাড়িয়ায় ২টি এবং শেলার চরে ২টি স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সময়কাল: প্রতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৫ মাস ধরে চলে এই কর্মযজ্ঞ।
মাছ শুকানো: সাগরের তাজা মাছ ধরার পর জেলের দল দুই ভাগে বা মাচায় ও খোলা আকাশে ত্রিপল বা জালের ওপর শুকাতে দেন। মাছের ধরন ও আকার অনুযায়ী ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে মাছ শুকিয়ে শুটকিতে রূপ নেয়।
বাজারজাতকরণ: উৎপাদিত শুটকি পরে চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয়।
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা: বন বিভাগ ও সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর এ খাত থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আসে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই খাত থেকে প্রায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছিল এবং চলতি মৌসুমে প্রায় ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শ্রম ও জীবিকা: প্রতি মৌসুমে হাজার হাজার জেলে ও ব্যবসায়ী এই শিল্পের সাথে যুক্ত থাকেন। মহাজনদের কাছ থেকে দাদন বা ঋণ নিয়ে তারা জাল, নৌকা, খাদ্য ও জ্বালানি সামগ্রী নিয়ে চরে পাড়ি জমান।
বনের কাঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ: পরিবেশ রক্ষায় নির্দেশ রয়েছে যে, জেলেরা সুন্দরবনের কোনো গাছ বা ডালপালা কাটতে পারবেন না; তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও জ্বালানি বাইরে থেকে নিয়ে আসতে হয়।
ঝুঁকি ও সমস্যা: সাগরে জলদস্যুর আতঙ্ক, সুপেয় পানির অভাব এবং চিকিৎসাসেবার সংকট এই অঞ্চলের জেলেদের দীর্ঘদিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এছাড়া বন বিভাগ ও কোস্টগার্ড সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারিতে থাকে যাতে বন্যপ্রাণী শিকার বা বন ধ্বংস না।
০
০ মন্তব্য