Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

২৪ জুন, ২০২১ ০৬:৫২ অপরাহ্ণ

পাঁচটি বিষয়ে সমন্বয় গঠিত স্টিম শিক্ষা,মোঃ মানিক মিয়া,সহকারী শিক্ষক(গণিত)

সায়েন্স বা বিজ্ঞান, টেকনোলজি বা প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশল, আর্ট বা চারুকলা এবং ম্যাথমেটিকস বা গণিত- এ পাঁচটি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে স্টিম শিক্ষা। ডিজিটাল বিপ্লব বা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব সূচিত হয়েছে অতি সাম্প্রতিককালে। মানুষ যখন ইন্টারনেটের ব্যবহার মোটামুটি ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পেরেছে, নেট দুনিয়ায় তারা দক্ষভাবে নেতৃত্ব দিতে শুরু করেছে এবং সবার হাতে হাতে স্মার্টফোনের ব্যবহার সহজলভ্য হয়েছে, তখনই এ বিপ্লব সারাবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ক্লাউস শোয়াব বলেন, 'স্মার্টফোনের মাধ্যমে সারাবিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরিবর্তন, ইন্টারনেট অব থিংস, যন্ত্রপাতি পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, রোবটিকস, জৈবপ্রযুক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো বিষয়গুলো চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সূচনা করেছে।'
শিক্ষার জগতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাব বহুমাত্রিক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে রূপান্তরিত করতে শিক্ষায় বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা-চেতনার ওপর জোর দিচ্ছেন আমাদের শিক্ষকগোষ্ঠী। যেহেতু বৈশ্বিক শিল্পগুলো এখন উল্লেখযোগ্যভাবে তৃতীয় থেকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে স্থানান্তরিত হচ্ছে, সেহেতু শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এখন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্টিম শিক্ষার প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে। এটি শিক্ষা ক্ষেত্রে উচ্চ প্রযুক্তিগত শিক্ষার সন্নিবেশ ঘটায়। এ বিষয়গুলো অসংখ্য ক্যারিয়ারের জন্য মূল ভিত্তি তৈরি করে, যাতে এরূপ ক্যারিয়ারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যার অস্তিত্ব এখনও আবিস্কৃত হয়নি। স্টিম শিক্ষা ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যেক বিষয়ের মুখ্য ধারণার বোধশক্তি উন্নত করে এবং প্রত্যেকটির মধ্যে অন্তর্নিহিত সম্পর্ক সৃষ্টি করে গবেষণা, প্রায়োগিক ও প্রজেক্টভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে সাহায্য করে। ফলে অতি প্রয়োজনীয় সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি তীক্ষষ্ট হয়।
একবিংশ শতাব্দীতে সাফল্যের জন্য স্টিম শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের বেশি উৎসাহিত করতে হবে। সাইবার-ফিজিক্যাল সিস্টেমগুলোতে অবিশ্বাস্য উদ্ভাবন, আইওটি, অটোমেশন, শৈল্পিক প্রচেষ্টাতে কম্পিউটারের ব্যবহার ইত্যাদি আমাদের মৌলিকভাবে শেখার, কাজ করার এবং জীবনযাত্রার মানে অনেক পরিবর্তন এনে চলেছে। আজকের স্টিম আগের স্টেমের পরিবর্তিত সংস্করণ। স্টেম বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত- এ চারটি বিষয়ের সমন্বিত রূপ। এ তত্ত্বটি আবিস্কৃত হয়েছিল ২০০১ সালে। এখন ২০২১ সাল। আগামী প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আরেকটি শিল্প বা আর্ট যুক্ত হয়ে স্টেম শিক্ষাটি স্টিম শিক্ষায় রূপান্তরিত হয়েছে।
স্টিম শিক্ষার প্রবক্তারা মনে করেন, চারুকলা বা আর্ট, স্টেম শিক্ষায় অনুপস্থিত একটি অংশের সংযোজন, যা শিক্ষার্থীদের কেবল বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত বুঝতেই প্রস্তুত করে না, বরং কীভাবে তা শিখতে হয় এবং সৃজনশীল পদ্ধতিতে কীভাবে সমস্যার সমাধান করতে হয়, তা জানতে সাহায্য করে। একটি সফল স্টিম প্রোগ্রাম তৈরি করার জন্য, আর্টসকে একটি প্রামাণিক উপায়ে স্টেমের অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। এটি স্টেমে শুধু সৃজনশীলতা যুক্ত করার জন্য নয়, বরং বিশ্বের বাস্তব পরিস্থিতিতে শিল্পকে প্রয়োগ করার জন্য। উদাহরণস্বরূপ, যদি শিক্ষার্থীদের স্টেম প্রকল্পের আওতায় কোনো অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়, তাহলে সেটিকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে আর্ট বা শিল্পকলাকে সংযুক্ত করা হয়। আর এটিই হলো স্টিম শিক্ষা। সুতরাং স্টিম শিক্ষা মূলত শিক্ষার্থীদের 'আউট সাইড দ্য বক্স' চিন্তা করার দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
এটি স্পষ্ট যে, সময় এখন স্টিম শিক্ষার। আগামী প্রজন্মকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি হিসেবে তৈরি করতে স্টিম শিক্ষার ওপরে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, কলা ও গণিত- এ পাঁচটি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত স্টিম শিক্ষা দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির ধারাকে বেগবান করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। আজকের শিক্ষার্থী, আগামী দিনের উজ্জ্বল কর্মশক্তি। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ যুগে এদের স্টিম শিক্ষার মাধ্যমে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বিদ্যা ও প্রায়োগিক জ্ঞান প্রদান করে ক্যারিয়ার জগতে যেন সফলতা অর্জন করতে পারে সে চেষ্টাই হোক আমাদের একমাত্র ব্রত।

মন্তব্য করুন