বাংলাদেশে মোবাইল ফোন প্রথম চালু হয় ১৯৯৩ সালের এপ্রিল মাসে। তখন ঢাকা শহর কেন্দ্রিক ছিল।উচ্চবিত্তদের হাতে হাতে শোভা পেতো মোবাইল ফোন।তখন কৌতুহলী হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখতাম। দামও ছিল মধ্যবিত্তের ক্রয় ক্ষমতার নাগালের বাইরে। ৫০/৬০ হাজার টাকা খরচ হতো একেকটা মোবাইল ফোন কিনতে।
তখন গ্রামে ৫শ টাকা প্রতি শতাংশ জমি ক্রয় করা যেতো। মফস্বল পর্যায়ে ২০০০ সাল নাগাদ গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে 'গ্রামীণ পল্লীফোন' তাদের গ্রাহক পর্যায়ে চালু করে মোবাইল ফোন।আমরা শহরের আত্মীয় কিংবা অফিসিয়াল প্রয়োজনে আমাদের বাড়ীর পাশের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের নম্বর দিতাম, ফোন আসলে তারা সংবাদ দিতো।আমরা কৌতুহলী হয়ে যেতাম এবং ফোন করতাম। ব্যবসায়ীরা আউটগোয়িং ও ইনকামিং কলের চার্জ ও আমাদের কাছ থেকে নিতেন। তখন এতো টাওয়ার স্থাপিত হয়নি।এন্টিনা ব্যবহার করে মোবাইল গুলো চালানো হতো।হাচিসন বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড (এইচবিটিএল) ঢাকা শহরে AMPS মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল ফোন সেবা শুরু করে ১৯৯৩ সালে। আর মফস্বল এলাকায় সীমিত পরিসরে চালু হয় ২০০০ সাল থেকে।
বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ৪টি মোবাইল ফোন কোম্পানী রয়েছে। এদের মধ্যে ৪টিই জিএসএম মোবাইল কোম্পানি ২০১৩ সাল থেকে তৃতীয় প্রজন্মের ৩জি সেবা দেওয়া শুরু করেছিলো। মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে একমাত্র টেলিটক দেশীয় কোম্পানি। বর্তমানে রবি ও এয়ারটেল একীভূত হয়ে রবি নামে কাজ করছে।
দেশে মোবাইল নম্বর গুলো ০১ দিয়ে শুরু। কান্ট্রি কোড সহ নম্বর হয় +৮৮০১........ ।
কান্ট্রি কোড ব্যতীত মোট ১১ ডিজিটের নম্বর ব্যবস্থা চালু এখন। মোবাইল কোম্পানীগুলো হল:
রবি কোড -০১৮(পূর্ব নাম একটেল)
এয়ারটেল (বাংলাদেশ) কোড - ০১৬(ওয়ারিদকে কিনে নেয় )- বর্তমানে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের পরিচালিত একটি স্বাধীন ব্যান্ড, যেটি রবি আজিয়াটা লিমিটেডের লাইসেন্সের অধীনে পরিচালিত।
গ্রামীণফোন কোড -০১৭, ০১৩
বাংলালিংক কোড -০১৯, ০১৪ (সেবাওয়ার্ল্ডকে কিনে নেয়)
টেলিটক কোড -০১৫
আজ থেকে প্রায় বছর ত্রিশ পূর্বে মোবাইল ফোনের ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৭% মোবাইল ফোন যোগাযোগের আওতায় এসেছে। ধনী ও শৌখিন পরিবারেই শুরুর দিকে মোবাইল ফোনের ব্যবহার দেখা যেতো। কিন্তু বর্তমানে শিল্পপতি থেকে রিক্সাচালক পর্যন্ত এটি ব্যবহার করে থাকে। ২০১২ সালের এক জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশে ১১ কোটিরও বেশি গ্রাহক মোবাইল ফোন যোগাযোগের আওতায় রয়েছে। বর্তমানে এটির জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বর্তমান বিজ্ঞানের অগ্রগতির যুগে দেশে বিদেশে যোগাযোগসহ শিক্ষা, সংস্কৃতি, আচার ব্যবহার ইত্যাদির সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যম্ভাবী। তথ্য ও প্রযুক্তি ছাড়া বর্তমান মানব জীবন কল্পনা করা যায় না। এসব উপাদানের উৎস হিসেবেও মোবাইল ফোনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এককথায় বর্তমানে বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে আজকের মোবাইল ফোন।
সুষ্ঠুভাবে জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য শর্ত হলো যোগাযোগ। দ্রুত যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হলো মোবাইল ফোন। এর মাধ্যমে আমরা দূরের স্থানে বা মানুষের খবর জানতে পারি। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাসময়ে নির্দিষ্ট স্থানে পাঠাতে পারি।
আমি প্রথম মোবাইল ক্রয় করি ২০০২ সালে। গ্রামীণ প্রিপেইড সিম ০১৭১.....সিরিয়াল । পরে একটা কিনলাম ০১৭৫ পোস্ট পেইড।কিছুদিন পর সাথে একটি ১ যোগ করে ডিজিট বাড়ানো হয়।যেমন ০১৭১১,০১৭১২,০১৭১৩,০১৭১৫।
তখন কোন পালস ছিলনা।প্রতি মিনিট কথা বললে ৬ টাকা ৯০ পয়সা খরচ হতো।১ সেকেন্ড কথা বললেও ৬ টাকা ৯০ পয়সা কেটে নেয়া হতো।রিচার্জ ব্যবস্থায় ছিল ৩০০/- টাকা মূল্যমানের রিচার্জ কার্ড,রিচার্জেরর দিন থেকে মেয়াদ ছিল ২১ দিন। My choice Number সেট করলে প্রতি মিনিট ৩ টাকা ৪৫ পয়সা কাটা হতো।
সম্ভবত ২০০৪ সালে একটা অফার আসলো 'My Time' নামের। এটা দুই ভাগে বিভক্ত ছিল।সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা,আবার দুপুর ১২ টা থেকে বেলা ৩ টা পর্যন্ত।একজন গ্রাহক ১ টা সময়ই নিতে পারতেন।
সাথে সাথে বাজারে ৫০ টাকার রিচার্জ কার্ড এসে গেল,যার মেয়াদ ৩ দিন।
আমি প্রথম গ্রামীণ ফোনের সিম ক্রয় করি।আমাদের গ্রামে যাদের শহরে বাস তাদের বাদে আমিই সম্ভবত একমাত্র ব্যক্তি যে কিনা ব্যক্তি পর্যায়ে প্রথম মোবাইল ক্রয়কারী।তখন থেকে মোবাইলে যাবতীয় ফাংশন আয়ত্ব করতে সক্ষম হয়েছিলাম। পরবর্তী সময়ে অনেকেই মোবাইলে ফাংশনগত সমস্যা হলে আমার কাছে ছুটে আসতো এবং আমি সমাধান করেও দিতাম। ডিজিটাল সেটের রিংটোন টাইপ করে সেটিং করতে পারতাম।এখন অবশ্য ঐ মোবাইল সেটগুলো আর এখন পাওয়া যাচ্ছেনা।
এরপর থেকে শুরু হলো বিভিন্ন প্যাকেজ এবং প্যাকেজের সিম। সিমের দামও কমতে শুরু করলো।মোবাইল সেট সাধারণ জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে আসলো।বাটন সেট থেকে ডিজিটাল, ডিজিটাল থেকে এনড্রয়েড এখন হাতে হাতে।
বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর গ্রামগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকায় তাদের টাওয়ার স্থাপন করে নেটওয়ার্কের ব্যাপক উন্নতি সাধন করলো।
সকল পেশা শ্রেণীর মানুষের হাতে হাতে মোবাইল পৌঁছে গেল।
বর্তমানে মোবাইল ছাড়া দৈনন্দিন জীবন যাপন অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হয়ে গেছে।
এখন সারাদেশ ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতায় এসে গেছে।