Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

১৫ জুলাই, ২০২১ ০১:১৯ পূর্বাহ্ণ

এদের মধ্যেই হয়তো লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের বিশ্বসেরা পদার্থবিদ

দার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা হচ্ছে কণা। সম্প্রতি কণা নিয়ে গবেষণার একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশের কলেজপড়ুয়া ১০ শিক্ষার্থীর একটি দল।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত পরমাণুবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় গবেষণা সংস্থা ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ প্রতিবছর সার্ন স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বিমলাইন ফর স্কুলস (বিএলফরএস)’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। চলতি বছরের বিমলাইন ফর স্কুলস–২০২১ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের ‘আরসিটিআর ক্যারোলিয়াম’ দল। এই দলের সদস্যরা হলো ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নুসরাত জাহান, ঢাকার নটর ডেম কলেজের রাজিন শারাফি, তালহা ইবনে আনোয়ার, শরীফ বিন হক; সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাদমান মুনতাসির, ইশমাম সোহরোয়ার্দ্দী, সাহাফ কবির, জুনায়েদ ইকবাল; উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের নাহরিন ইসলাম ও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের দীপঞ্জন রায়। দলটির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ঢাকার সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক নিয়াজ ইসলাম।

প্রতিযোগিতার ওয়েবসাইটে গত ২৩ জুন ফলাফল ঘোষণা করা হয়। দেখা যায়, এ বছর ৫৭টি দেশের ২৮৯টি দল তাদের গবেষণা প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছে ২২ দেশের ২৬টি দল। এই ২৬ দলের মধ্যে দুটি দলকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হবে। বিজয়ী দল দুটি আগামী সেপ্টেম্বরে জার্মানির হামবুর্গে গবেষণাকেন্দ্র ডিইএসওয়াইতে দুই সপ্তাহের জন্য আমন্ত্রণ পাবে। বাকি ২৪টি দলকে পুরস্কার দেওয়া হবে। সংক্ষিপ্ত তালিকার বাইরে আটটি দল বিশেষ সম্মাননা পেয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের একটি দল বিশেষ সম্মাননা পেয়েছিল।

বাংলাদেশের আরসিটিআর ক্যারোলিয়াম দলের গবেষণার বিষয় ছিল ‘রিভার্স চেরেনকভ ট্রানজিশন রেডিয়েশন: পর্যবেক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য শনাক্তকরণ’। বিজয়ী দলের সদস্য রাজিন শারাফি বলল, ‘আমাদের গবেষণাটি তত্ত্বীয় পর্যায়ে রয়েছে। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে

কয়েকজন বন্ধু নিজেদের উদ্যোগে সার্নের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তারা বিজয়ীদের তালিকায় স্থান পেয়েছে, এটা সবাইকে উৎসাহিত করেছে বলে জানাল দলের আরেক সদস্য সাদমান মুনতাসির। তবে সাদমান এ–ও বলে, ‘আমাদের অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে।’

বিজয়ী তালিকায় থাকা এই দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পরমাণুবিজ্ঞানী অধ্যাপক এম শমসের আলী। তিনি বলেন, ‘খবরটি জেনে আমি খুবই অভিভূত। যে বিষয় নিয়ে স্কুল-কলেজে থাকতেই তারা কাজ করছে, সে বিষয়ে আমরা প্রথম ধারণা পেয়েছিলাম স্নাতকোত্তর পড়ার সময়।

পদার্থবিজ্ঞানে “রিভার্স চেরেনকোভ ট্রানজিশন রেডিয়েশন” নিয়ে গবেষণা খুব বিরল। ১০ জনের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে বিশ্বসেরা পদার্থবিদ। তবে এ জন্য অবশ্যই সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।’

বিশ্বব্যাপী স্কুল–কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০১৪ সালে শুরু হয় এ প্রতিযোগিতা। এখন পর্যন্ত ৯১টি দেশের ১২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছিল ২০টি দল।

সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকে দলগুলোর প্রত্যেক সদস্যকে সার্ন বিশেষ পুরস্কার, সনদপত্র ও এক সেট যন্ত্রাংশ (কিট) দেবে। এই কিট দিয়ে তারা বস্তুর কণা শণাক্ত করার যন্ত্র (পার্টিক্যাল ডিটেক্টর) তৈরি করতে পারবে।


মন্তব্য করুন