সহকারী শিক্ষক
২৭ আগস্ট, ২০২১ ০৮:৪৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধারণার বিবরণঃ
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতা নতুন নয়। করোনা মহামারির কারণে অনেক গরিব পরিবার আরও বেশি গরিব, অসহায় ও কর্মহীন হয়ে পড়েছে, সেক্ষেত্রে তাদের সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে কাজে পাঠাতে চাইবে। এমনকি মহামারি-উত্তর পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই প্রধান শিক্ষা উপকরণ কলম ও খাতা ক্রয় করা সম্ভব হবে না। এতে শিক্ষার্থীরা লেখা পড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।
সরকারের বিনামূল্যে পাঠ্য বই বিতরণ, শিক্ষা বৃত্তি ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধাগুলো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। এক্ষেত্রে যদি বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসার জন্য গরিব শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুসারে হাতে হাতে কলম ও খাতা প্রদান করা হয় তবে ঝড়ে পড়া রোধে এটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
বাস্তবায়ন পদ্ধতিঃ
শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া শিশুদের একটা বড় অংশই অভিভাবকহীন, পথশিশু এবং দারিদ্র্যতার শিকার। সরকারের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলে শিক্ষায় যে গতি আসছে তা ধরে রাখতে হলে এসব শিশুদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
করোনা পরবর্তী বিদ্যালয় খুলে দিলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, বিদ্যালয়মুখী করা ও করোনা ভীতি দূর করতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ আকর্ষণীয় ও আনন্দময় করতে হবে, খেলাধুলার ব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করতে হবে।
প্রতি মাসে শিক্ষার্থীর হাজিরা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এবং গরিব শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুসারে কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর হাতে হাতে কলম ও খাতা প্রদান করতে হবে।
আমাদের দেশের জন্য ঝরে পড়া এমনিতেই শিক্ষার অন্যতম সমস্যা। এখনও প্রাথমিকে প্রায় আঠারো ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। করোনার প্রভাবে এ হার যেন আর না বাড়ে সে জন্য এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।