Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৮ আগস্ট, ২০২১ ০৬:৪৭ অপরাহ্ণ

নারী জাগরণে বেগম রোকেয়ার অবদান স্মরণীয়

‘নারী শিক্ষায় বেগম রোকেয়ার অবদান’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন এ দেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি তার জীবনের মধ্যেই অনুধাবন করেছিলেন তদানীন্তন সমাজে নারীর পশ্চাৎপদ অবস্থান; উপলব্ধি করেছিলেন শিক্ষাই হতে পারে নারীর আত্মমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রধান অবলম্বন। তার জীবন-কর্ম ও সংগ্রামের লক্ষ্যই ছিল নারী শিক্ষার বিস্তারের মধ্য দিয়ে নারীমুক্তি। তার এই পথচলা মোটেই সহজ ছিল না, বরং অনেক বন্ধুর পথ অতিক্রম করেই তাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। এই কিংবদন্তিতুল্য নারী তার ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে নারীর প্রতি সমাজের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণের মূলে কুঠারাঘাত করেছিলেন। পরিবার, সমাজ ও অর্থনীতি জীবনের এই তিন প্রধান অনুষঙ্গে নারীকে আত্মমর্যাদাশীল হতে তিনি নারী সমাজকে গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। বক্তারা বেগম রোকেয়ার কর্মময় জীবন ও আদর্শে নারী সমাজকে আরো উদ্যমী ও অনুপ্রাণিত হওয়ার আহ্বান জানান।

নারী অধিকার আন্দোলন গতকাল এ সভার আয়োজন করে। সংগঠনের সভানেত্রী অধ্যাপিকা চেমন আরার সভাপতিত্বে ও বায়তুল মাল সম্পাদিকা প্রফেসর আফিফা মুশতারীর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন নারী অধিকার আন্দোলনের সেক্রেটারি প্রফেসর ডা: হাবিবা চৌধুরী সুইট, প্রফেসর ডা: নাঈমা মোয়াজ্জেম, ডা: শাহনুর বেগম, মিসেস ফরিদা রহমান ও মিসেস নূরুন্নাহার নিরু প্রমুখ। কুরআন তেলাওয়াত করেন, প্রচার সম্পাদিকা ডা: তাহেরা বেগম।
বক্তারা বলেন, বেগম রোকেয়া নারী সমাজে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে যে ভূমিকা পালন করেছেন তা ইতিহাসে চিরদিনই স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি তার দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, প্রতিভা ও বিচক্ষণতায় উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, নারীর ভাগ্যোন্নয়নে শিক্ষা ও স্বাবলম্বী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। মূলত বেগম রোকেয়ার জীবন ও তার আদর্শ বাস্তবায়নেই এ দেশের নারী সমাজকে আলোকিত ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলা সম্ভব। তারা বেগম রোকেয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নারী সমাজকে নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
তারা আরো বলেন, মহলবিশেষ বেগম রোকেয়াকে নিয়ে নানাবিধ অপপ্রচারে লিপ্ত। তাদের ভাষায়, নারী জাগরণের এই মহান অগ্রদূত নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় তথা ইসলামী বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করেননি। কিন্তু এটি নিছক একটি অপপ্রচার ছাড়া কিছু নয়, বরং তিনি ইসলামী বিধিবিধানের আওতায় থেকেই তার ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে নারী শিক্ষার সম্প্রসারণে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। আর তা তার বিভিন্ন লেখনী ও জীবনাচরণ থেকে খুবই সুস্পষ্ট। তাই কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে বেগম রোকেয়ার কর্মময় জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে নারী সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তা হলেই নারী সমাজ শিক্ষা-দীক্ষায় উন্নত হয়ে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমর্থ হবে।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট