সহকারী শিক্ষক
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৭:৩১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
সার্ভারের দিক দিয়ে অনেকটাই নিরাপদ হলেও জিমেইল একাউন্টের আসল নিরাপত্তা ব্যবহারীর হাতেই। চলুন জেনে নেয়া যাক, জিমেইল একাউন্টের অর্থাৎ গুগল একাউন্টের নিরাপত্তার রক্ষার উপায়সমুহ।
জিমেইল একাউন্ট আর গুগল একাউন্ট আসলে একই বলা যায়। জিমেইল হচ্ছে গুগলের একটি সেবা। গুগলের বেশিরভাগ সেবা নিতে জিমেইল একাউন্ট ব্যবহৃত হয়। আপনার জিমেইল আইডি বা জিমেইল একাউন্টের নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারবেন নিম্নে বর্ণিত উপায়গুলো অনুসরণ করে। জিমেইল একাউন্টের নিরাপত্তা রক্ষার উল্লেখ্যযোগ্য ৯টি উপায় হলোঃ
আপনার জিমেইল একাউন্ট এর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা (Privacy & Security) বিষয়ক সকল তথ্য পেয়ে যাবেন গুগল একাউন্ট এর সিকিউরিটি চেক-আপ পেজে। আপনার জিমেইল একাউন্ট এর সিকিউরিটি চেক-আপ পেজ এ প্রবেশ করতে এখানে ক্লিক (https://myaccount.google.com/security-checkup) করুন।
সিকিউরিটি চেক-আপ পেজে আপনার গুগল একাউন্ট সম্পর্কে সিকিউরিটি সম্পর্কিত সকল তথ্য পেয়ে যাবেন। সিকিউরিটি চেক-আপ পেজে নিম্নোক্ত তথ্যগুলো পাওয়া যাবেঃ
জিমেইল আইডি অর্থাৎ গুগল একাউন্টের সাথে রিকভারি ইমেইল বা ফোন নাম্বার যোগ করা খুবই জরুরি। রিকভারি ফোন নাম্বার ও ইমেইল এড্রেস অনেক কাজে আসতে পারে। আপনার জিমেইল একাউন্টে রিকভারি ইমেইল বা ফোন নাম্বার যুক্ত করা থাকলেঃ
কেউ যদি আপনার জিমেইল একাউন্ট এর পাসওয়ার্ড চুরি করে, জেনে ফেলে কিংবা হ্যাক করে, এক্ষেত্রে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন ফিচারটি আপনার একাউন্ট হ্যাক হওয়া থেকে বাঁচাবে। এই পদ্ধতিতে মূলত জিমেইল একাউন্টে লগিন করার সময় ফোন নাম্বারে একটি ওটিপি (একবার ব্যবহারযোগ্য পিন কোড) পাঠানো হয়, যা দিয়ে লগিন করতে হয়।
টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন এর পাশাপাশি গুগল একাউন্টে আরো কিছু শক্তিশালী সেকেন্ড লেয়ার ভেরিফিকেশন মেথড রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে সিকিউরিটি কি এর মাধ্যমে ভেরিফাই করা। আরেকটি হচ্ছে গুগল প্রমট, যা গুগল একাউন্টে লগিন এর সময় ইতিমধ্যে লগিন থাকা একটি ফোনে এলার্ট পাঠায়। এই এলার্টের মাধ্যমে ব্যবহারকারী যদি লগিন এর বিষয়ে নিশ্চিত করে, তবেই লগিন করা যায়।
উক্তে বর্ণিত কোনো সিকিউরিটি প্রটোকলই যদি আপনার প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম না হয়, সেক্ষেত্রে গুগল এর এডভান্স প্রটেকশন প্রোগ্রাম আপনার কাজে আসতে পারে। এটি উচ্চতর লেভেল এর সিকিউরিটি প্রদান করার পাশাপাশি ফিশিং বা ক্ষতিকর অ্যাপ থেকে আপনার একাউন্টকে রক্ষা করে।
গুগল একাউন্ট এর সিকিউরিটি নিশ্চিতে গুগল নিজেই সবসময় আপডেটেড অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজার ও অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকে। কেননা নতুন ভার্সন এর সফটওয়্যার, অ্যাপ বা অপারেটিং সিস্টেমে লেটেস্ট সিকিউরিটি ফিচার যুক্ত থাকে, যা জিমেইল একাউন্ট সহ আপনার ডিভাইসে থাকা সকল ধরনের অ্যাপ এর নিরাপত্তায় সহায়ক ভূমিকা পালন রক্ষা করে।
আপনার জিমেইল একাউন্ট এর সিকিউরিটি যতো শক্তিশালী হোক না কেনো, আপনার পাসওয়ার্ড যদি অনুমান করা যায় এমন হয়, তবে একাউন্ট খোয়া গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। যেকোনো ধরনের একাউন্টে লগিন এর ক্ষেত্রে চাবি হিসাবে কাজ করে এই পাসওয়ার্ড।
সবসময় জিমেইল সহ আপনার যেকোনো একাউন্ট এর জন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এ থাকা উচিতঃ
আপনার নাম, জন্মতারিখ, প্রিয়জনের নাম, ফোন নম্বর ইত্যাদি পাসওয়ার্ড এ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। অধিকাংশ সময়ই হ্যাকাররা ভিক্টিমের ব্যক্তিগত তথ্যের সাথে মিল থাকা পাসওয়ার্ড অনুমান করেই বের করে ফেলে। আপনার পাসওয়ার্ড দেওয়ার সময় পাসওয়ার্ড বক্সের পাশেই পাসওয়ার্ড কতোটা শক্তিশালী তা দেখানো হয়।
এছাড়াও কোনো ডাটা লিক এ আপনার জিমেইল একাউন্ট এর পাসওয়ার্ড ও অন্যান্য তথ্য লিক হয়েছে কিনা, সেটি জানতে এই লিংকে ক্লিক করুন। লিংকে প্রবেশের পর আপনার ইমেইল বা ফোন নাম্বার প্রদান করলেই জানতে পারবেন প্রদত্ত ফোন নাম্বার বা ইমেইল ও এর সাথে সংযুক্ত একাউন্ট কোনো ডাটা ব্রিচ এ লিক হয়েছে কিনা।
আপনার জিমেইল একাউন্টে সিকিউরিটি জোরদার করে কোনো লাভ হবেনা, যদি না যে ডিভাইসে জিমেইল একাউন্ট ব্যবহার করছেন সেটির নিরাপত্তাই হুমকির মুখে থাকে। হাজারো রকম ম্যালওয়্যার এর ভিড়ে কম্প্রোমাইজ হতে পারে আপনার ডিভাইস ও একাউন্ট এর সিকিউরিটিও।
এছাড়াও জিমেইল এর ইনবক্সে সবাই কমবেশি কাজের অকাজের মিলিয়ে অনেক ইমেইল প্রতিদিন পায়। এতোসব মেইল এর ভিড়ে রয়েছে স্পাম বা ফিশিং মেইল যেগুলো আইডেন্টিফাই করতে পারলে রিপোর্ট করতে ভুলবেন না। এছাড়াও ইমেইল সেন্ডার এর নাম আর ইমেইল এড্রেস এর মধ্যে সামঞ্জস্যতা যাচাই করে ফেক বা স্পাম ইমেইল খুঁজে বের করা যায়।
ডিভাইস ও ম্যালওয়্যার থেকে ডিভাইসকে বাঁচাতে সন্দেহনক কোনো লিংক দেখলে তা এড়িয়ে চলুন। এছাড়াও যেকোনো সাইট থেকে অ্যাপ বা সফটওয়্যার বা অন্য যেকোনো ধরনের কনটেন্ট ডাউনলোড এর সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন। শুধুমাত্র ট্রাস্টেড সোর্স থেকে ফাইল ডাউনলোড করুন।
যেকোনো ধরনের কম্পিউটারেই অনলাইন সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে এন্টিভাইরাস সফটওয়ার থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এভাস্ট এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার বিনামূল্যেই ঝুঁকিপূর্ণ সাইটে প্রবেশ ব্লক করে অনলাইন সিকিউরিটি প্রদান করে।
আপনার জিমেইল একাউন্ট এর প্রত্যেকটি এক্টিভিটিই কিন্তু রেকর্ড হয়। ওই হিসাবে সম্প্রতি ঘটা সকল সিকিউরিটি এক্টিভিটি ও সেভ করা থাকে। রিসেন্ট সিকিউরিটি এক্টিভিটি মূলত একটি টাইমলাইন যেখানে সিকিউরিটি সংক্রান্ত কোনো ফিচার কখন ও কোন ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়েছে, যে সম্পর্কিত তথ্য সাজানো থাকে।
রিসেন্ট সিকিউরিটি এক্টিভিটি দেখতে এই লিংকে ক্লিক (https://myaccount.google.com/notifications) করুন। আপনার গুগল একাউন্টে হওয়া রিসেন্ট সিকিউরিটি এক্টিভিটি এর তথ্যগুলো যাচাই বাচাই করুন। কোনো সন্দেহজনক সিকিউরিটি এক্টিভিটি দেখলে See unfamiliar activity? লেখায় ক্লিক করে সেই মুহূর্তেই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলুন।
আপনার গুগল একাউন্টটি বর্তমানে কোন কোন ডিভাইসে লগিন করা আছে, সেটা জানা ও তা মনিটর করা কিন্ত একাউন্ট এর নিরাপত্তা নিশ্চিত এর অন্যতম প্রধান একটি মাধ্যম। আপনার গুগল একাউন্ট যেসব ডিভাইসে লগিন আছে, তার তথ্য দেখতে এই লিংকে ক্লিক (https://myaccount.google.com/device-activity) করুন।
উক্ত লিংকে প্রবেশের পর যে ডিভাইস দিয়ে লিংকে ভিজিট করেছেন, সেটি সহ লগিন থাকা অন্য ডিভাইসগুলোও প্রদর্শিত হবে। কোনো ডিভাইস থেকে একাউন্ট রিমুভ অর্থাৎ লগ-আউট করতে চাইলে, ওই ডিভাসের পাশে থাকা থ্রি-ডট মেন্যু থেকে Sign Out সিলেক্ট করুন।
রেজিস্ট্রেশনের ঝামেলা এড়ানোর জন্য বিভিন্ন থার্ড পার্টি সাইট ও অ্যাপে আমরা Sign in with Google ফিচার ব্যবহার করে লগিন করে ফেলি। তবে এই থার্ড পার্টি অ্যাপগুলো আমাদের জিমেইল একাউন্টে অনেকগুলো পারমিশন নিয়ে রাখে। থার্ড পার্টি অ্যাপসমুহের তালিকা দেখতে এই পেজ ভিজিট (https://myaccount.google.com/security) করুন।
কিছুটা নিচে স্ক্রল করে Third-party apps with account access শিরোনামের নিচে থাকা Manage Third-Party Access এ ক্লিক করুন। এরপর যেসব অ্যাপ আপনি ব্যবহার করেন না বা অযথাই অ্যাকসেস নিয়ে বসে আছে, সেটি বা সেগুলো সিলেক্ট করলেই Revoke Access নামে একটি অপশন পাবেন। এই অপশনটির মাধ্যমে থার্ড পার্টি অ্যাপ এর অ্যাকসেস রিমুভ করা যাবে।