সিনিয়র শিক্ষক
১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ চারু ও কারুকলা
অধ্যায়ঃ সপ্তম অধ্যায়
প্রকৃতি আমাদের মননকে উদ্বেলিত করে। বিশেষ করে যারা শিল্পমানস। আর এই শিল্পমানসকে ঋতুর পালাবদল রাঙিয়ে দেয় তার অনন্য বর্ণে। এখন হেমন্তকাল। হালকা শীতে আমরা নবান্নের উৎসবে মেতে উঠেছি। প্রকৃতি সেজেছে নানা ঢঙে। কচুরি ফুলে নদীবুক সফেদ-নীলিম। রাতের বেলা শেফালি ফোটে। পদ্ম ও মল্লিকা পাওয়া যায় বিভিন্ন স্থানে। গাছের পত্র-পল্লব হলুদাভ বরণ ধারণ করে। নিচু কিসিমের জমিনে হলদে সরষের বীজ ছিটিয়ে দিয়েছে কৃষক। পিঠা-পুলির গন্ধে মোহিত চারপাশ। আমাদের এই ষড়ঋতুর দেশের একেবারেই স্বতন্ত্র ঋতু হেমন্ত। এই হেমন্ত নিয়ে প্রাচীন যুগ থেকে আজ অবধি কাব্যকোবিদ মানস হয়েছে সরব ও সরস। পৃথিবী ভৌগোলিক দিক থেকে বিভিন্ন অঞ্চলকে করেছে বিশেষায়িত। আমাদের এখানে যখন হাড়কাঁপানো শীত, তখন অন্যান্য দেশ বা অঞ্চলে ঘাম ঝরানো গরম। আবার সব অঞ্চলে ছয়টি ঋতু হয় না। হয় না আমাদের ষড়ঋতুর মতো বৈচিত্র্যময়। শিল্প-সাহিত্যের এক লীলাভূমি বলা চলে ইরান বা পারস্যকে। আর এই ইরান বা পারস্যে কিন্তু ঋতু হয় চারটি। তিন মাসে এক ঋতু। মধ্যপ্রাচ্যের পূর্বপাশ ঘেঁষা এই পাহাড়ি দেশটির অভ্যন্তরে তেমন নদী পরিলক্ষিত হয় না। বৃষ্টি হয় শীতে। বৃষ্টির ফলে শীতের প্রকোপ আরও বেড়ে যায়। বরফ এমনভাবে পতিত হয় যে, গাছপালা মরেও যায়। এই আবহাওয়ার দেশে বর্ষা বা শ্রাবণকাল অনুপস্থিত। সঙ্গে আরেকটি ঋতুও সরাসরি নামে অনুপস্থিত, যার নাম হেমন্ত। তবে হেমন্তকালের বৈশিষ্ট্যের কিয়দংশ পাওয়া যায় শরৎকালে। আর কিয়দংশ পাওয়া যায় শীতকালে। তবে অধিকাংশ হৈমন্তিক আবহ খুঁজে পাওয়া যায় শরৎকালে। এই কালে নবান্ন বা ফসলি উৎসব পালন করা হয়। গাছের পাতাগুলো হলুদ হয়ে ঝরে যেতে শুরু করে। হালকা শীত অনুভূত হয়। এই সময়কে ইরানিরা শস্য মৌসুম হিসেবেও উল্লেখ করে থাকে। আর এই মৌসুমকে ফারসি ভাষার কাব্যপ্রেমীরা নানা ব্যঞ্জনায় তুলে এনেছেন তাদের কাব্যে। কিন্তু বাংলার এ ভূমিতে হেমন্তের রূপ অনন্য অসাধারণ। কুয়াশার চাদরে হিমেল শিশির ভেজা প্রকৃতি, মানব মনে জাগায় ভিন্ন শিহরণ। হেমন্তে ফোটা ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য আমাদের মন জুড়ায়। ছাপিয়ে যায় ভিন দেশের সৌন্দর্যকে।