Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

সিরাজ দৌলা

নবাব সিরাজউদ্দৌলা বা মির্জা মুহম্মদ সিরাজ-উদ-দৌলা (১৭৩২–১৭৫৭) ছিলেন বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব। বাংলা ইতিহাসের এক প্রতিমূর্তি। পলাশীর যুদ্ধে তাঁর পরাজয় ও মৃত্যুর পরই ভারতবর্ষে ১৯০ বছরের ইংরেজ শাসনের সূচনা হয়।[৫]


মির্জা মুহম্মদ সিরাজউদ্দৌলা

مرزا محمد سراج الدولہ‎

মনসুর-উল-মুলক (দেশের বিজয়)

সিরাজ উদ-দৌলা (রাষ্ট্রের আলো)

হাইবুট জ্যাং (যুদ্ধে ভয়ঙ্কর )

বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব নাজিম

Siraj ud-Daula.jpg

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা

সুবাহ বাংলার নবাব

রাজত্ব

১৭৫৬–১৭৫৭

পূর্বসূরি

আলীবর্দী খান

উত্তরসূরি

মীর জাফর

জন্ম

১৭৩৩

চেহেল সেতুন, মুর্শিদাবাদ, সুবাহ বাংলা

মৃত্যু

১৭৫৭ (বয়স ২৩ বছর)

মুর্শিদাবাদ, কোম্পানি রাজ

সমাধি

খোশবাগ, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

স্ত্রীগণ

বেগম লুৎফুন্নেসা

জেবু্ন্নেসা বেগম

উমদাতুন্নেসা বেগম

বংশধর

উম্মে জোহরা (কুদসিয়া বেগম)

পূর্ণ নাম

নবাব মনসুর-উল-মুলক সিরাজউদ্দৌলা শাহ কুলী খান মির্জা মোহাম্মদ হয়বত জঙ্গ বাহাদুর

পিতা

জৈনুদ্দিন আহমদ

মাতা

আমেনা বেগম

ধর্ম

শিয়া ইসলাম[১][২][৩]

সামরিক কর্মজীবন

আনুগত্য

Alam of the Mughal Empire.svg মুঘল সাম্রাজ্য[৪] (নামমাত্র)

 সুবাহ বাংলা

সার্ভিস/শাখা

বাংলার নবাব

পদমর্যাদা

নবাবজাদা, নবাব

যুদ্ধ/সংগ্রাম

বর্গির হাঙ্গামা

পলাশীর যুদ্ধ

সিরাজউদ্দৌলা তাঁর নানা নবাব আলীবর্দী খানের কাছ থেকে ২৩ বছর বয়সে ১৭৫৬ সালে বাংলার নবাবের ক্ষমতা অর্জন করেন। তাঁর সেনাপতি মীরজাফর, রায়দুর্লভ, বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হন। রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার শাসনভার গ্রহণ করে।


জন্ম ও বংশপরিচয় সম্পাদনা

সিরাজউদ্দৌলার জন্ম ১৭৩৩ সালে।[৬] নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ছিলেন বাংলার নবাব আলীবর্দী খান-এর নাতি। আলীবর্দী খানের কোন পুত্র ছিল না। তার ছিল তিন কন্যা। তিন কন্যাকেই তিনি নিজের বড়ভাই "হাজি আহমদ"-এর তিন পুত্র, নোয়াজেশ মোহাম্মদের সাথে বড় মেয়ে ঘসেটি বেগমের, সাইয়েদ আহম্মদের সাথে মেজ মেয়ে এবং জয়েনউদ্দিন আহম্মদের সাথে ছোট মেয়ে আমেনা বেগম-এর বিয়ে দেন। আমেনা বেগমের দুই পুত্র ও এক কন্যা ছিল। পুত্ররা হলেন মির্জা মোহাম্মদ (সিরাজ-উদ-দৌলা) এবং মির্জা মেহেদী। আলীবর্দী খাঁ যখন পাটনার শাসনভার লাভ করেন, তখন তার তৃতীয়া কন্যা আমেনা বেগমের গর্ভে মির্জা মোহাম্মদ (সিরাজ-উদ-দৌলা)-এর জন্ম হয়। এ কারণে তিনি সিরাজের জন্মকে সৌভাগ্যের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করে আনন্দের আতিশয্যে নবজাতককে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। সিরাজ তার নানার কাছে ছিল খুবই আদরের, যেহেতু তার কোনো পুত্র ছিলনা। তিনি মাতামহের স্নেহ-ভালোবাসায় বড় হতে থাকেন। সিরাজ-উদ-দৌলার জন্মতারিখ বা সাল নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে অধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো সিরাজ-উদ-দৌলা ১৭৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। মীরজাফর তার কোন আত্মীয়ের মাঝে পড়েন না। কাজী ইসা তার চাচা হন।


রাজ্যাভিষেক সম্পাদনা

১৭৪৬ সালে আলিবর্দী খান মারাঠাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গেলে কিশোর সিরাজ তার সাথী হন। আলিবর্দি সিরাজ-উদ-দৌলাকে বালক বয়সেই পাটনার শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছিলেন। তার বয়স অল্প ছিল বলে রাজা জানকীরামকে রাজপ্রতিনিধি নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু বিষয়টি সিরাজদ্দৌলাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তাই তিনি একদিন গোপনে কয়েকজন বিশ্বস্ত অনুচরকে নিয়ে ভ্রমণের নাম করে স্ত্রী লুৎফুন্নেসাকে সঙ্গে নিয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে বের হয়ে পড়েন। তিনি সোজা পাটনা গিয়ে উপস্থিত হন এবং জানকীরামকে তার শাসনভার ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেন। কিন্তু নবাবের বিনা অনুমতিতে জানকীরাম তার শাসনভার ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। দুর্গের দ্বার বন্ধ করে বৃদ্ধ নবাবের কাছে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে দূত পাঠান। অন্যদিকে জানকীরামের আচরণে ভীষণ ক্ষুদ্ধ হয়ে সিরাজদ্দৌলা দুর্গ আক্রমণ করেন। উভয়পক্ষে লড়াই শুরু হয়ে গেলে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে আলিবর্দি খাঁ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। সেদিনই আলিবর্দি খাঁ দুর্গের অভ্যন্তরস্থ দরবারে স্নেহভাজন দৌহিত্রকে পাশে বসিয়ে ঘোষণা দেন,


আমার পরে সিরাজ-উদ-দৌলাই বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করবে।

ইতিহাসে এই ঘটনাকে সিরাজ-উদ-দৌলার যৌবরাজ্যাভিষেক বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই সময়ে সিরাজ-উদ-দৌলার বয়স ছিল মাত্র সতেরো বছর। তবে তাকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনয়ন করার ঘটনা তার আত্মীয়বর্গের অনেকেই মেনে নিতে পারেনি। অনেকেই তার বিরোধিতা শুরু করেন। এদের মধ্যে ছিলেন আলিবর্দি খাঁর বড় মেয়ে ঘসেটি বেগম এবং তার স্বামী নোয়াজেশ মোহাম্মদ। এছাড়া আলিবর্দী খানের জীবদ্দশায় সিরাজ-উদ-দৌলা ঢাকার নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


সিংহাসনে আরোহণ সম্পাদনা


নবাব সিরাজের মুর্তি, পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্র, নদীয়া

মুর্শিদকুলী খানের জামাতা সুজাউদ্দিন মুহাম্মদ খা

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট