সহকারী শিক্ষক
০১ নভেম্বর, ২০২১ ১০:২৫ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
কালো পিঁপড়ার গাভী পালন
মোঃ হুমায়ূন কবীর
বি.এস.সি, বি.এড । এম.এস.এস ( রাষ্ট্রবিজ্ঞান), এম.এড।
সহকারি শিক্ষক ,
সোনাবাড়িয়া সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।
( ভিডিও টি গভীর মনোযোগ দিয়ে অনুগ্রহ করে দেখবেন)
আমার বসত বাড়ীর আঙ্গিনায়, শখের সবজী ক্ষেতের মধ্যে ঠাঁই পেয়েছিল, কয়েকটি বরবটির বীজ। যথারীতি বীজগুলো গজিয়েছিল। চারার বাড়-বাড়তি খুবই চমৎকার। হঠাৎ একদিন দেখতে পেলাম বরবটি গাছের কান্ডে প্রচুর জাব পোকা (Aphid) –এর উপস্হিতি । এই পোকা বরবটি গাছের জন্য বেশ ক্ষতিকর । যে গাছে এই পোকা আক্রমণ করে সেই গাছে সাধারণত ভাইরাসের সংক্রমণ হয়। অর্থাৎ জাব পোকা ভাইরাসের পোশক( Host)। আমি আরো দেখলাম , যে স্থানে জাব পোকা বেস্টন করে বসে আছে, স্থানটি সাদা বর্ন ধারন করেছে। অর্থাৎ ক্লোরোফিলহীন হয়ে পড়েছে। জাব পোকা ক্লোরোফিল নষ্ট করে এবং কান্ড থেকে প্রচুর রস চুষে খায়।
সবচেয়ে মজার ঘটনা হলো কালো পিঁপড়ার গাভি পালন। বিষয়টি সত্যই লক্ষণীয় , যেখানে জাব পোকা আছে, সেখানে প্রচুর কালো পিঁপড়ার উপস্হিতি । আমার প্রথম ধারনা ছিল, কালো পিঁপড়া জাব পোকা খায় । কিন্তু না ব্যাপারটি অন্যরকম। এই পিঁপড়ারা জাব পোকা লালন পালন করে। মাঝে-মাঝে তারা জাব পোকাকে তার আহার গ্রহনে সহায়তা করে থাকে। শিম , বরবটি জাতীয় গাছের কান্ডের বৃন্তের (বোটার) গোড়ায় যে স্ফীতঅংশ, উপবৃন্ত থাকে তা কালো পিঁপড়া তার মুখের ধারালো অংশ দিয়ে কাটে বা ক্ষত সৃষ্টি করে দেয় । অতঃপর সেখান থেকে প্রচুর রস নির্গত হতে থাকে। এই নির্গত রস জাব পোকা খায়। জাব পোকাকে গাছের ক্ষত স্হানে নেওয়ার জন্য কালো পিঁপড়া তাদের গায়ে সুড়-সুড়ি দিয়ে থাকে। খাদ্য রস শোষন করে জাব পোকার পেট যখন গাভীর মত মোটা হয়ে পড়ে, তখন কালো পিপড়া আবারো তাদের শরীরে সুড়সুড়ি দেয়। এর ফলে জাব পোকারা স্থান ত্যাগ না করে, পেছন দিক থেকে পানির মত পদার্থ নিঃসরন করে দেয়, তখন কালো পিঁপড়া এ পদার্থটি খায় অর্থাৎ জাব পোকা পালনের মধ্য দিয়ে কালো পিপড়া তাদের খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে । এটাই কালো পিপড়ার গাভীপালন রহস্য ।
যেহেতু জাব পোকা আমার বরবটি গাছে ক্ষতি সাধন করেছিল ,তাই তার আক্রমন বন্ধের জন্য ছাই
ব্যবহার করেছিলাম । এক সপ্তাহ পরে উক্ত গাছে আর কোনো জাব পোকার উপস্থিতি দেখা যায়নি।
ব্যবহার বিধি, একদিন পর-পর সকালে, শিশির শিক্ত অবস্থায়, জাব পোকা আক্রান্ত স্থানে, জাব পোকার উপর পরিমিত পরিমান মিহি (চিকন) গুড়া করা ছাই প্রয়োগ করে উক্ত ফলাফল পরিলক্ষিত হয়।
[ বিঃদ্রঃ জাব পোকা দমনের দুটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে।
প্রথমটি জৈব পদ্ধতি
১. নিম তৈল স্প্রে করা।
২.হাতে পিশে বা রগড়ে দমন।
৩. গুড়া করা ছাই প্রয়োগ করে।
দ্বিতীয়টি রাসায়নিক পদ্ধতি
১. পরিমিত মাত্রায় অনুমোদিত কীট নাশক ব্যবহার করা।