Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০৭:৩০ অপরাহ্ণ

উদ্ভাবনী গল্প পর্ব ০২ (মহিলা ক্রিকেট দল)

পৃথিবীতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য শিক্ষা অর্জন করা যেমন একান্ত দরকার ঠিক তেমনি ভাবে কোন জাতিকে শিক্ষিত হতে হলে সে জাতির নারীকে ও শিক্ষিত হতে হবে। কেননা নারীদেরকে ছাড়া একটি জাতীয় অসম্পূর্ণ। অথচ আমাদের দেশে সেই নারীকেই এখনো নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। যার ফলে আমাদের দেশের নারীরা খেলাধুলা থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। সুপ্রাচীন কাল থেকে আমাদের সমাজব্যবস্থা পুরুষতান্ত্রিক। তারা নারীদের খেলাধুলার পথের সৃষ্টি করছে অসংখ্য বাধার প্রাচীর এর মূল কারণ কুসংস্কার। এই কুসংস্কারের মূলোৎপাটন করতে না পারলে নারী শিক্ষা ও খেলাধুলার প্রসার ঘটানো সম্ভব নয়। আর এই কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসার অভিপ্রায়ে আমার  এই উদ্ভাবনী গল্প।

✳️ আমি যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি তার সম্পর্কে আমার ছেলে শিক্ষার্থীদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকলেও মেয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা অতোটা স্পষ্ট ছিল না। কারণ যেখানে মেয়েদের বিদ্যালয় শিক্ষার গণ্ডি পেরোনোর আগেই "বিয়ে" নামক শব্দটার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় সেখানে খেলাধূলা তাও আবার মহিলা ক্রিকেট এটা কখনোই কল্পনা করা যেত না।মেয়ে শিক্ষার্থীরা শুধু দুই পাশে দাঁড়িয়ে বল আর ব্যাট করতে পারত।

✳️ আমি ইন্টার ভেনশন হিসেবে যে কাজ গুলো করেছি, ক্রিকেট খেলার প্রতি মেয়েদের ছিল প্রবল আগ্রহ, কিন্তু ছেলেরা কিছুতেই যেন মেয়েদের ব্যাট-বল দিতে চাইত না এমনও দেখা গেছে ছেলেরা  ব্যাট ভেঙ্গে দিয়েছে কিংবা বল লুকিয়ে রেখেছে 

  এদের এই আচরণ ও মেয়েদের ক্রিকেট খেলার প্রতি আগ্রহ দেখে ছেলেদের সহযোগিতায় আমি নিজেই ব্যাট বল নিয়ে তাদের সাথে খেলায় নেমে পড়ি। তবে তার আগে ছেলে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় কিছু কাজ করেছি, যেমন ঃ১।ক্রিকেট খেলার পিচ ২।কত সেট উইকেট ৩।ক্রিকেট বলের ওজন ৪।ক্রিকেট ব্যাট ৫।কতজন খেলোয়াড় থাকে ৬।আম্পায়ার'' এর কাজ কি? ৭।নো বল ৮।ফিল্ডিং সম্পর্কে ধারণা 

 সর্বোপরি ক্রিকেট খেলার একজন আম্পায়ার ,  একজন লেগ আম্পায়ার  একজন থার্ড আম্পায়ার  এবং স্কোয়ার একজন এসিস্টেন্ট স্কোয়ার একজন ম্যাচ রেফারি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা।

✳️ এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে পরিবর্তনগুলো এসেছে 

১।আত্মসচেতনতা।

২।শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সাথে সাথে আচরণের পরিবর্তন।

৩।সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

৪।খেলার বিষয়ে আরো বেশি আগ্রহ ও কৌতুহলী হওয়া।

৫।সঠিক নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করা।

৬।একে অন্যের  সাথে বন্ধুত্ব সুলভ সম্পর্ক স্থাপন করা।

৭।ভুল পথে যাওয়ার সুযোগ না পাওয়া।

এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ক্রিকেট সম্পর্কে ভাল ফলাফল করবে বলে আমি আশা করছি।

✳️ ক্রিকেট খেলতে না পেরে  বিশেষ করে মেয়েদের যে অসুবিধাগুলো হত ঃ

আত্মবিশ্বাস কম ছিল 

নিজেকে আড়াল করে রাখতো

কথা বলতে চাইতো না 

সবসময় নিজেকে আলাদা ভাবতো, মেয়েরাও  যে ক্রিকেট খেলতে পারে এটা কখনো ভাবতো না। 

✳️ বলা হয় "ক্রীড়াই শক্তি , ক্রীড়াই বল"

খেলাধুলার মধ্যে থাকলে এই বয়সের। শিক্ষার্থীরা যে কোন ভুল পথে যাওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। কেননা খেলাধুলার  মাধ্যমেই শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে,আর একারণেই স্টক হোল্ডার গন আমার উদ্ভাবনকে যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন। এবং আমাকে উৎসাহ উদ্দীপনা দিয়ে সহযোগিতা প্রদান করছেন।

✳️ আর্থিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে,প্লান ইন্টারন্যাশনাল  বিভিন্ন খেলার সামগ্রী দিয়ে  সহযোগিতা প্রদান করছেন।

✳️ আমি না থাকলেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে কারন,শিক্ষক হচ্ছে ছাত্র তৈরীর কারিগর আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে কারখানা,তাই এই কারখানা যতদিন খোলা থাকবে কার্যক্রম  ততদিন অব্যাহত থাকবে।আর এটা সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীর এ একটা অংশ। 

    বাতায়ন এডমিন,  শিক্ষক মহোদয়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।আশা করছি আমার এই উদ্ভাবন গল্পটি বাতায়ন কে সমৃদ্ধ করবে। 


মন্তব্য করুন