Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

৩০ জানুয়ারি, ২০২২ ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

উদ্ভাবনী গল্প পর্ব ০৪ (চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ)

মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি,

    মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি। 

যে মাটির চির মমতা আমার অঙ্গে মাখা,

যার নদী জল ফুলে ফুলে মোর স্বপ্ন আঁকা 

যে নদীর নীল অম্বরে মোর মেলছে পাখা 

সারাটি জনম যে মাটির ঘ্রাণে অস্ত্র ধরি।

মূলত প্রতিটি শিক্ষার্থীদের মাঝে অভিনয়ের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উজ্জীবিত করার অভিপ্রায়ে আমার এই উদ্ভাবনী গল্প। আমরা আজও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক চেতনা তরুণ সমাজের কাছে পৌঁছাতে পারিনি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। ৩০ লাখ বাঙালির রক্ত আর লক্ষ লক্ষ নারীর ইজ্জত এর বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতার সঠিক ব্যবহার আমরা আজও করতে পারিনি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় শুরু থেকেই বিভিন্ন শ্রেণীতে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনা করে সাজানো হয়েছে, এসব পড়ে শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পেরেছে ঠিকই কিন্তু তা শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট নয়।

শিক্ষার্থীরা যদি অভিনয়ের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চিত্র ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয় তাহলে এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ের স্পন্দন কে স্পর্শ করতে পারবে।

? আমি যে ইন্টার ভেনশন গুলো দিয়েছি ঃ

✳️দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া 

✳️নিজের আদর্শকে কিভাবে দেশের কল্যাণে নিয়োজিত করা যায় 

✳️ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উৎস সম্পর্কে জানা 

✳️বাংলাদেশের সাহিত্য সঙ্গীত শিল্পকলা স্থাপত্য ও ভাস্কর্য শিল্পে

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ইতিহাস সম্পর্কে জানা।

✳️বাঙ্গালীদের জাতীয় জীবন জীবন তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব অপরিসীম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একটি বলিষ্ঠ চেতনা এবং আত্মপ্রত্যয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার। প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী বলেছেন, আলোক ব্যতীত যেমন পৃথিবী জাগে না, স্রোত ব্যতীত যেমন নদী টিকে না, স্বাধীনতা ব্যতীত তেমনি জাতি কখনো বাঁচতে পারেনা। বাংলাদেশের মানুষ ও তেমনি নদীর স্রোতের মতো চিরন্তন সত্যের পথ ধরে ১৯৭১ সালের এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত সূর্যকে। শিক্ষার্থীরা যাতে এই স্বাধীনতার সূর্যের ইতিহাসকে মনের ভিতর লালন করে স্বাধীনতার সূর্য কে উজ্জীবিত করতে পারে তারই প্রচেষ্টা আমার উদ্ভাবনী গল্প। আর এ কারণে এটি পরবর্তীতে স্থায়ী হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

✳️মুক্তিযুদ্ধের চেতনা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূলমন্ত্র বিশেষ। এই চেতনা ধারণ করেই বাঙালি জাতি বর্বর  হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। যুদ্ধের চেতনার মূল ভিত্তি ছিল দেশপ্রেম, আর দেশপ্রেমকে ভিত্তি করেই বিকশিত হয়েছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা আকাঙ্ক্ষা। ১৯৭১ এ গোটা জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জন করেছিল মহান স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই বাঙালি জাতির আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির অন্যতম হাতিয়ার, শিক্ষার্থীরা যাতে ইতিহাসকে মনেপ্রাণে লালন করে বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে পারে আর এই কারণে স্ট্রোক হোল্ডারগণ আমার উদ্ভাবনকে যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন।

আমার এই উদ্ভাবনের গল্প থেকে।

✳️শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই মুক্তিযুদ্ধে ঘটে যাওয়া, ঘটনা বলি  উপলব্ধি করতে পারবে।

✳️পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার কাহিনী উপলব্ধি করতে পারবে।

✳️, নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারবে আর্থ -সামাজিক  সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে।

✳️মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের করুণ ইতিহাস আত্ম উপলব্ধি করতে পারবে। 

✳️বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ইতিহাস। 

✳️স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের তাৎপর্য।

✳️মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে  সমুজ্জ্বল রাখতে নানারকম ভাস্কর্যের ইতিহাস সম্পর্কে  বলতে পারবে।

সর্বোপরি বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীরা যাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের প্রতি, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, বীর শহীদদের প্রতি ভালোবাসায় ব্রতী হয়ে দেশের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে তার অভিপ্রায়ে আমার  এ উদ্ভাবনী গল্প।

বাতায়ন এডমিন, ও শিক্ষক মহোদয়গন আশা করি আমার এই উদ্ভাবনের গল্পটি বাতায়ন কে আরো বেশি সমৃদ্ধশালী করবে। 

মন্তব্য করুন