Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ০৩:৫০ অপরাহ্ণ

শিক্ষাগুরুর মর্যাদা

শিক্ষাগুরুর মর্যাদা

____কাজী কাদের নেওয়াজ


বাদশাহ আলমগীর-

কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলবী দিল্লীর্

একদা প্রভাতে গিয়া

দেখেন বাদশা-শাহাজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া

ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে

পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,

শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধূলি

ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ সঞ্চারি অঙ্গুলি।


শিক্ষক মৌলবী

ভাবিলেন, আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝ তাঁর সবি।

দিল্লীপতির পুত্রের করে

লইয়াছে পানি চরণের পরে,

স্পর্ধার কাজ, হেন অপরাধ কে করেছে-কোন কালে।


ভবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তাঁর ভালে।

হঠাৎ কী ভাবি উঠি

কহিলেন, আমি ভয় করি নাক, যায় যাবে শির টুটি,

শিক্ষক অমি শ্রেষ্ঠ সবার

দিল্লীর পতি সে তো কোন ছার,

ভয় করি নাক, ধারি নাক ধার, মনে আছে মোর বল,

বাদশাহ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল

যায় যাবে প্রাণ তাহে,

প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব

শাহানশাহে।


তার পরদিন প্রাতে

বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল

কেল্লাতে।

শিক্ষকে ডাকি বাদশাহ কহেন,‘শুনুন জনাব তবে,

পুত্র আমার আপনার কাছে

সৌজন্যকি কি কিছু শিখিয়াছে?

বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা,

নাহিলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকাল বেলা।’


শিক্ষক কন-‘জাহাপনা , আমি বুঝিতে পারি নে,

হায়,

কী কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন

নিরালায়?’

বাদশাহ কহেন, ‘সেদিন প্রভাতে

দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে

নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন,

পুত্র আমার জল ঢালিশুধু ভিজাইছে ও চরণ।

নিজ হাত খানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে

ধুয়ে দিল নাক কেন সে চরণ, স্মরি ব্যাথা পাই

মনে।’


উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষক তবে দাঁড়ায়ে সগৌরবে,

কুর্ণিশ করি বাদশাহর তরে কহেন উচ্চরবে-

‘আজ হতে চিরউন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির

সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ আলমগীর।

মন্তব্য করুন