সিনিয়র শিক্ষক
সিনিয়র শিক্ষক
ভবিষ্যতের ৪টি অসাধারণ এবং সম্ভাবনাময় স্মার্টফোন প্রযুক্তি
২১ শতকের স্মার্টফোনগুলি অবিশ্বাস্যভাবে অনেক উন্নত হয়েছে। ইতোমধ্যেই আমাদের জীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখছে স্মার্টফোন। কিন্তু ভবিষ্যতের স্মার্টফোনে আরো কী থাকতে পারে এবং আমরা আর কী কী উদ্ভাবন আশা করতে পারি?
এবার ৪টি সম্ভানয়াময় প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হলো, যেগুলি অদূর ভবিষ্যতে স্মার্টফোনে দেখা যেতে পারে।
.
#১ সিক্স-জি (6G)
সিক্স-জি বা ষষ্ঠ-প্রজন্মের ওয়্যারলেস হলো ফাইভ-জি-এর পরবর্তী ধাপ। এবং এটি অবশ্যই আরো ভালো ইন্টারনেট সুবিধা এবং গতি প্রদান করবে।
ধারণা করা হচ্ছে যে, সিক্স-জি তার পূর্বসূরিদের মতো এক ধরনের ব্রডব্যান্ড সেলুলার নেটওয়ার্ক হবে। আর এখনই নোকিয়া, অ্যাপল এবং স্যামসাং সহ অনেক বড় প্রতিষ্ঠান এই উন্নয়নশীল প্রযুক্তির প্রতি গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছে।
অনেক দ্রুত কাজ করা এবং অনেক বেশি হারে ডেটা প্রসেসিং করার জন্য গবেষক এবং ডেভলপাররা সিক্স-জি'র সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছেন। সিক্স-জি'র কার্যপদ্ধতিকে চলতে সহায়তা করা, এর বিন্যাস বা নকশা করা এবং অপ্টিমাইজ করার জন্য এআই ব্যবহার করা যেতে পারে।
ভবিষ্যতে সিক্স-জি ব্যাপকভাবে প্রচলিত হওয়ার সাথে সাথে গ্রাহকদের বর্ধিত নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও চিন্তা করা হচ্ছে।
.
#২. ওভার-দ্যা-এয়ার চার্জিং বা তার ছাড়া ফোনে চার্জ দেয়ার উপায়
ভবিষ্যতে ফোনে চার্জ দেয়ার জন্য ওভার-দ্যা-এয়ার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে। এই প্রযুক্তি স্মার্টফোন-এর চার্জিং ব্যবস্থা অনেক সহজ করে তুলবে। আপনি নিজের বাড়িতে হেঁটে হেঁটে ঢুকলেন, এবং কোনো ঝামেলা, এমনকি কোনো প্রকার চিন্তা করা ছাড়াই আপনার ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওভার-দ্যা-এয়ার চার্জারের সাথে যুক্ত হয়ে গেল।
এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য এক ধরনের চার্জিং স্টেশনের প্রয়োজন হবে। আর তাতে এমন ধরনের সেন্সর যুক্ত থাকবে, যা এর আশেপাশে ফোনের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারবে।
ধারণা করা হচ্ছে যে, প্রথমদিকে এই চার্জিং স্টেশনগুলি একটি মাঝারি বাক্সের আকারের হবে। অর্থাৎ এর আকার হবে প্রচলিত ক্যাবল চার্জারের তুলনায় বেশ অনেকটা বড়। তবে আকারের তুলনায় এতে সুবিধা থাকবে অনেক বেশি৷
.
#৩. ন্যানো ব্যাটারি
সহজ কথায় বললে, এখনকার ফোনের ব্যাটারিগুলি ঠিক দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে না। এখনকার ফোনের মধ্যে যখন সিগনাল আদান-প্রদান করা হয়, তখন ব্যাটারি থেকে শক্তি টেনে আনতে হয় এবং সিগনাল চলাচলের সময়ও শক্তি ব্যবহৃত হয়।
ন্যানোব্যাটারিগুলি কার্যকরভাবে শক্তির এই ব্যবহার এবং স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণ বা ডিসেন্ট্রালাইজ করবে। একইসাথে খুব দ্রুত চার্জ দেয়া যাবে ন্যানোব্যাটারির সাহায্যে। ফলে আরো ভালো ব্যাটারি লাইফ পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তবে বিজ্ঞানীরা ন্যানোব্যাটারিগুলিকে যথেষ্ট ছোট আকারে নিয়ে আসতে পারেননি এখনো। তাই প্রযুক্তিটি বাজারে আসতে আরো বেশ অনেক বছর সময় লাগবে।
.
#৪. সিম কার্ড বিহীন স্মার্টফোন
ই-সিম (eSIM) চালু হওয়ার সাথে সাথে প্লাস্টিকের সিম কার্ড আর বেশিদিন বাজারে থাকবে না।
ই-সিম হলো একটি ভার্চুয়াল সিম, যা ফোন নেটওয়ার্ক কোম্পানি থেকে গ্রাহককে দেয়া হবে। ই-সিম এর সুবিধা হলো, এগুলি সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টের মতো। ফলে সহজেই এই সিম আপডেট ও পরিবর্তন করা যাবে। এতে যেমন সহজেই এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্ক-এ সুইচ করা যাবে, তেমনি একই সময়ে একাধিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে।
ই-সিম থাকলে নতুন নেটওয়ার্কের সিমের জন্য গ্রাহককে দোকানে যেতে হবে না। আবার নতুন একটি সিম কার্ডের জন্য অপেক্ষাও করতে হবে না। কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই ফোনের নেটওয়ার্ক দ্রুত পাল্টানো যাবে এর সাহায্যে।
#প্রযুক্তি #স্মার্টফোন #ভবিষ্যৎ
প্রতিবেদন টি ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত