সিনিয়র শিক্ষক
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৪:৩৬ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ভবিষ্যতের চিত্র: অফিস যাত্রী ও গণপরিবহন
কোভিড-১৯ এর সময় বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষ ঘরে থাকতে বাধ্য হয়েছিল। তাই অন্যান্য কাজের পাশাপাশি অফিসে যাতায়াতের অভ্যাসেও পরিবর্তন এসেছে সবার মধ্যে। আর মহামারীর ফলে গতানুগতিক অফিশিয়াল দায়িত্ব আর কাজ নিয়েও সবাই নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়েছে।
মোটকথা, মহামারীর ফলে বেশ কিছু বিষয়ে নতুন করে গুরুত্ব দেয়া শুরু হয়েছে। এসব বিষয়ের মধ্যে অন্যতম একটা হলো আমাদের অফিস যাতায়াতের ধরন বা কমিউটিংয়ের প্রচলন নিয়ে।
অনেকের মতেই, অফিসে যাতায়াতের এই প্রচলনে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে অফিস যাতায়াতের ক্ষেত্রে যেসব প্রচলন আসতে পারে, তার মধ্যে ৫টি প্রচলনের ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক।
.
১. সংযুক্ত ও স্পর্শহীন ভ্রমণ
‘কানেক্টিভিটি’র সুবিধা থাকলে বেশিরভাগ সময় জার্নি বেশ আরামদায়ক হয়ে ওঠে। যেমন, গণপরিবহনের ভিড় এড়ানোর একটা উপায় হলো আগেই সিট বুক করে রাখা। পৃথিবীর ব্যস্ত অনেক শহরে ইতোমধ্যেই এমন ব্যবস্থা চালু আছে।
যেমন, সম্প্রতি ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি শহরের মানুষদের ব্যবহারের জন্য বাজারে এসেছে ‘হুইম’ (Whim) নামের একটি অ্যাপ।
ইউজাররা যখন যাতায়াত করে, এই অ্যাপের মাধ্যমে তখন তাদের জার্নি মনিটর বা তদারক করা যায়। হেলসিঙ্কি শহরে যানবাহন নিয়ে কাজ করে, এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের সাথে বেশ কিছু বিষয়ে ডেটা শেয়ার করে এই অ্যাপ। ফলে সাইকেল ভাড়া নেওয়া থেকে শুরু করে ইউজাররা বাস বা ট্রেনের মতো যানবাহন কখন কীভাবে ব্যবহার করতে পারবে, সেটা জানা যায়। এই অ্যাপের মাধ্যমে ইউজাররা সব ধরনের গণপরিবহন ব্যবহারের জন্য টিকিট বুক করতে পারে।
আবার ভবিষ্যতে মহামারী প্রতিরোধ করতে এআই প্রযুক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই প্রযুক্তি ‘ফেসিয়াল সেন্সর’ এর মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করবে। ফলে কারো গায়ে জ্বর থাকলে তাকে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাবধান করে দেয়া হবে এবং তার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এখনই সারাবিশ্বে সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে সরাসরি টিকেট কাটার ঝামেলায় না গিয়ে মানুষ প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। এই কাজে স্মার্টফোন অ্যাপস, ব্লু-টুথ অথবা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে।
.
২. সংক্ষিপ্ত জার্নি
মহামারীর কারণে ঘরে বসে কাজ করার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। আর ঠিক এই কারণেই বিশ্বজুড়ে ব্যবসা পরিচালনা করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের কাজ করার প্রচলন নিয়ে আবার ভেবে দেখতে পারে।
মহামারীর কারণে সৃষ্ট এই নতুন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন শহরের কেন্দ্রে থাকা হেডকোয়ার্টারের কাজ অন্যান্য শাখায় সরাতে চাচ্ছে। কেন্দ্রীয় অফিসের অনেক কাজই এখন আঞ্চলিক বিভিন্ন অফিসে করার প্রচলন শুরু হয়েছে। এতে কর্মীরা বাড়ি ও অফিসের মাঝে একটা ব্যালেন্স বা সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে পারবে।
.
৩. সপ্তাহের কাজের দিন কমে আসবে
এমনকি মহামারীর আগেও পিক-আওয়ারে অফিসে যাওয়ার প্রচলন ধীরে ধীরে কমে এসেছিল। আর এভাবেই প্রতিষ্ঠান মালিকেরা কর্মীদের কাজকে নানাভাবে সহজ করে তুলছিল। মহামারীর আগের সেই প্রচলনে এখন গতি এসেছে।
এছাড়া কর্মীদের মাঝে ঘরে বসে কাজ করার আগ্রহ সবসময়ই ছিল। আর এখন সেই আগ্রহ আরো বেড়েছে।
.
৪. রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কমে আসবে
মহামারীর সময়ে অনেক মানুষ গণপরিবহন ব্যবহারের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে অনেককেই নতুন করে সাইকেল চালাতে দেখা গেছে।
নির্মাতা ও বিক্রেতাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, মহামারীর সময়ে সাইকেল বিক্রি অনেক বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎচালিত ‘ই-বাইক’ এর বিক্রি অনেক বেড়ে গিয়েছিল সে সময়ে। যারা অফিসে যাওয়ার সময় সাইক্লিং এর কষ্টটুকু করতে চায় না, তাদের জন্য ‘ই-বাইক’ ভালো একটা সমাধান।
.
৫. পছন্দনীয় যাতায়াতের উপায় তৈরি হবে
কাজের নতুন প্রচলনের সাথে মিল রেখে যাতায়াতের খরচও ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। বাস বা ট্রেনের কামরায় গাদাগাদি করে অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না আর তখন। যুক্তরাজ্য সহ অন্য অনেক দেশই তাদের গণপরিবহনের যাত্রা আরামদায়ক করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে।
‘অটোমেটেড প্যাসেঞ্জার কাউন্টার’ এবং ‘ওয়েট সেন্সর’ এর মতো ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে এখন। পরিবহনের ধারণক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য জানিয়ে দিচ্ছে এসব ডিভাইস। আর এসব তথ্য দেখা যাচ্ছে বাস বা ট্রেন স্টেশনের ডিসপ্লে স্ক্রিন কিংবা স্মার্টফোনের অ্যাপসে। এতে যাত্রীরা সহজেই জানতে পারছে ট্রেনের কোন কামরাগুলিতে ভিড় বেশি। এমনকি এসব কামরা কোথায় খালি হবে, সে সম্পর্কেও জানতে পারছে।
মোবাইল অ্যাপস এর মাধ্যমে যাত্রা শুরুর আগেই যাত্রীরা ভিড় ও অন্যান্য সমস্যা সম্পর্কে জানতে পারে। এবং প্রয়োজনে বিকল্প রাস্তা সম্পর্কেও তথ্য পেয়ে যায়। নিউ ইয়র্কের মতো অনেক শহরে আজকাল ‘প্যাসেঞ্জার ফ্লো মনিটর’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
গণপরিবহন যারা নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন যানবাহনের সময়সূচী জেনে নেয়া হচ্ছে। আর যাত্রীদেরকে এসব তথ্য আগাম জানিয়ে দিয়ে তাদের জার্নিকে আরামদায়ক করে তোলা হচ্ছে।
সৌঃ সি বি