Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

০৩ অক্টোবর, ২০২২ ০১:২২ অপরাহ্ণ

উদ্ভাবনীর গল্প 'সৎ হই সৎ গুনে ,আলো ছড়াবো আপন মনে'

ঘুমিয়ে আছি লক্ষ জাতি সব শিশুদের অন্তরে। আসসালামু আলাইকুম। আমি সাহিদা আক্তার, সহকারী শিক্ষক, বাসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিবালয়, মানিকগঞ্জ। আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য একটি উদ্ভাবন মূলক আইডিয়া তৈরি করেছি। আমার আইডিয়াটার নাম সৎ হই সৎ গুণে, আলো ছড়াবো আপনমনে। আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। আমি মনে করি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক যতটা না শিক্ষক তার চেয়ে বেশি একজন মা।এখানে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা দেওয়া হয়।শিশুদের সকল প্রকার বিকাশ সাধন করাই আমাদের প্রধান কাজ।এ বিকাশ সাধন করা হয় যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে।তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ও পরিবর্তন করার মাধ্যমে জীবনমুখী শিক্ষা দেওয়া হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।দায়িত্ববোধ, কর্মস্পৃহা ও সৎ গুণাবলির দীক্ষা দিয়ে থাকি। প্রতিটি শিশুর ভালো ছাত্র হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়া জরুরি। আমার চাকুরী জীবনের প্রথম স্কুল এটি।তাই এই স্কুলের সংগে এক অন্যরকম অনুভূতি জড়িয়ে আছে।এখানকার শিশুদের সঙ্গে আমার গভীর সখ্যতা। বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিশু আমার সন্তানসম।শিশুরা শুধু বইয়ের পড়ার মধ্য দিয়েই শিক্ষিত হয়না। তারা শিক্ষিত হয় নৈতিক ও চারিত্রিক মূল্যবোধ গঠনের মাধ্যমে। কিন্তু আমার বিদ্যালয়টি নিতান্তই গ্রামে। যেখানকার প্রায় ৯৭%লোকই অশিক্ষিত। না আছে তাদের জ্ঞানের আলো না আছে সুরুচির পরিচয়। শিশুরা হলো নরম কাদা মাটির মতো তাদের যেভাবে গড়ে তোলা যায় সেভাবেই গড়ে উঠে। তাদের এই নিষ্পাপ কচি মনের মধ্যে যে বীজ প্রোথিত হবে তা নিয়ে তারা বেড়ে উঠবে এবং তেমন প্রতিদান দেবে পরিবার ও সমাজকে। আমি বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলাম তাদের কিছু আচরণ দেখে। তারা অন্যের জিনিস না বলে নেয়া, একে অন্যকে খারাপ গালি দেয়া, অপরিষ্কার কাপড় পরিধান করা, শ্রেণিকক্ষ নোংরা করা, পানির অপচয় করা, মিথ্যা বলা ইত্যাদি খারাপ কাজগুলো অবলীলায় করছে।মনে মনে চিন্তা শুরু করলাম এদেরকে এভাবে চলতে দেয়া যায়না। শিশুদের মনে ভালো ও সততার ও সুন্দর কাজের আলো ছড়াতে হবে। তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে ভালোর জোয়ারে আলোর দুয়ারে। তাই আমার সব সহকর্মীদের সহায়তায় তৈরি করলাম একটি ভালো কাজের বোর্ড। "সৎ হই সৎ গুণে, আলো ছড়াবো আপনমনে"।প্রতিটি কক্ষে এটি প্রতিস্থাপিত হলো। এবার শুরু হলো শিশুদের অনুপ্রাণিত করার পালা বিভিন্ন দৃষ্টান্ত, বিভিন্ন ভালো কাজের ছবি ও গল্প শুনিয়ে তাদের বুঝাতে শুরু করলাম। এ কার্যক্রম চললো অনেক ধরে। কিছুদিন পরে দেখলাম শিশুদের মনে সাড়া ফেলেছে তারা একটু একটু করে পরিবর্তন হচ্ছে। তারা এখন আর কারো জিনিস না বলে নেয়না, বরং পেলে ফিরিয়ে দেয়,পরিষ্কার কাপড় পরিধান করে আসে, একে অন্যের খাবার ভাগ করে খাচ্ছে, শ্রেনিকক্ষ গুছিয়ে রাখছে, পানির অপচয় বন্ধ করছে ইত্যাদি।আমি তাদের ভালো কাজের পুরষ্কার হিসেবে দৈনিক অভ্যর্থনা ও পুরষ্কার দেবার পাশাপাশি তাদের নামের তালিকা তৈরি করি। সপ্তাহ এবং মাসের বেশি ভালোকাজের শিশুকে পুরষ্কৃত করি।তারাও অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করে এখন তারা সৎ ও সৎ গুণে আলোকিত। শিক্ষক অভিভাবকেরাও খুব খুশি এতে।

মন্তব্য করুন