Loading..

প্রকাশনা

‘এত হাসি আছে জগতে তোমার, বঞ্চিলে শুধু মোরে। বলিহারি বিধি, বলিহারি যাই তোরে।’----কিংবদন্তি অতুলপ্রসাদ সেন |
১০ নভেম্বর, ২০২২

তখন তিনি লখনউয়ের ডাকসাইটে ব্যারিস্টার | সারাদিন তাঁর কোর্টের কাজ থাকত। কোর্ট থেকে বাড়ি ফিরেও রেহাই ছিল না। সাক্ষাৎপ্রার্থী আসতেন অগুনতি। তাঁর বাড়ির দরজা সকলের জন্যে খোলা | প্রতি দিন কোর্ট থেকে বাড়ি ফেরার পর গানের মজলিশ বসতই বসত। এমনই এক মজলিশে এক মহিলা তাঁকে এক বার প্রশ্ন করে বসেছিলেন, ‘‘এত যে সুন্দর সুন্দর সব গান বাঁধেন, সময়ই বা পান কখন, কোথায়ই বা বাঁধেন? এ গান তো বাঁধতে কোনও নির্জন সাগরের ধার, নয় ফুলের বাগান চাই। আপনিও কি তেমনই কোথাও যান?’’ একটু ভেবে তিনি হেসে বললেন ‘‘সারাদিন বাড়িতে মক্কেলের ভিড়। আবার কোর্টে যাবার তাড়া। তার মধ্যেই স্নান করতে গিয়েছি। ঘটি নিয়ে বারবার জল ঢালছি গায়ে। ঘটির ওই কল কল শব্দে একটা কলি ভেসে উঠল মনে। কোর্টে যেতে যেতে, কোর্ট থেকে বাড়ি ফিরতে ফিরতে গানটি লিখে ফেললাম, ‘জল বলে চল মোর সাথে চল/ তোর আঁখি জল হবে না বিফল।’ …’’ | উপস্থিত সকলে হতবাক | 


একবার তিনি ভেনিসে নৌকাভ্রমণে বেড়িয়েছেন | চারিদিকে বাড়ির আলো, আকাশে তারা | হঠাৎ অন্য এক নৌকা থেকে বেহালার সুর ভেসে এল। সুরটা মনে লাগল তাঁর । ফিরে এসেই লিখে ফেললেন ওই গানটা – ‘ওঠো গো ভারত লক্ষ্মী’।’’

একবার গোমতী নদী ধরে যেতে যেতে চোখে পড়েছিল এক কুমারী মেয়ে নদীর পাড়ে উদাস হয়ে বসে রয়েছে। ঐ উদাসী মেয়েকে দেখেই কবি অতুলপ্রসাদ নৌকায় বসেই লিখেছিলেন – ‘কে তুমি বসি নদীকূলে একেলা’। 

একবার লখনউয়ের রাস্তায় এক ভিখারিণী করুণ সুরে ভৈরবী রাগে গান গেয়ে চলেছিলেন | ওই গান শুনে চমকে উঠেছিলেন তিনি । লোক দিয়ে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁকে দেখে ভিখারিণী লজ্জায় জড়সড় । আর তিনিও সেই ভিখারিণীকে চিনে ফেলেছিলেন | সেই ভিখারিণী এককালের লখনউ শহরের বিখ্যাত বাইজি ছিল। শুনেছিলেন একজনের প্রেমে পড়েছিল সে। ওই প্রেমিকের জন্য সর্বস্ব পণ করেছিল ওই বাইজি। বিনিময়ে প্রেমিকের মিথ্যা প্রতারণায় ভুলে শেষে হয়েছিল রাস্তার ভিখারিণী। ওই ভিখারিণীকে মোটা টাকা দিয়ে বিদায়ের পর ব্যথিত চিত্তে বেহাগ রাগে লিখেছিলেন – ‘এত হাসি আছে জগতে তোমার, বঞ্চিলে শুধু মোরে। বলিহারি বিধি, বলিহারি যাই তোরে।’


চিনতে পারলেন এই সঙ্গীত সাধককে ? তিনি কিংবদন্তি অতুলপ্রসাদ সেন | অতুলপ্রসাদ সেনের গানের বহুল প্রচারক দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের পুত্র ‘দিলীপকুমার রায়’‌ মনে করতেন, ‘‌‘‌তিনি ছিলেন বাংলার শ্রেষ্ঠ সুরকারত্রয়ীর কনিষ্ঠ, রবীন্দ্রনাথ–‌দ্বিজেন্দ্রলাল–‌অতুলপ্রসাদ।’‌’‌ অন্যদিকে স্বয়ং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তাঁর সম্পর্কে লিখেছিলেন, ‘‌‘দিল বঙ্গবীণাপাণি অতুলপ্রসাদ,/ তব জাগরণী গানে নিত্য আশীর্বাদ।’‌’‌

জন্মদিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা | 


তথ্যসূত্র:

অতুলপ্রসাদ সেন, বিশ্বজিৎ ঘোষ, বেঙ্গল পাবলিকেশন্‌স (২০১৯)

মন্তব্য করুন

অন্যান্য