উপাধ্যক্ষ
২০ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৭:০৩ অপরাহ্ণ
উপাধ্যক্ষ
ধরনঃ মাদ্রাসা শিক্ষা
শ্রেণিঃ দশম
বিষয়ঃ আল লুগাতুল আরাইবিয়্যাহ ইত্তেসালিয়া
অধ্যায়ঃ দ্বিতীয় অধ্যায়
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অপেক্ষায় ব্যাকুল দিন কাটাচ্ছিলেন। তিনি অপেক্ষা করছিলেন নিজের মালিক স্রষ্টার পক্ষ থেকে নতুন কোনো পয়গাম শুনার জন্য। এমনি সময় হঠাৎ করে মহান স্রষ্টার বাণীবাহক দূত হজরত জিবরাঈল আমিন দেখা দিলেন। এভাবে জিবরাঈল আমিনকে নিজের সামনে উপস্থিত দেখে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা কি হয়েছিলো তা আন্দাজ করা যায় না। কারণ, তা উপলব্ধি করা কোনো মানুষের সাধ্যের বিষয় নয়। এটি ছিলো নবুওতের ব্যাপার; নবীর পক্ষেই তা উপলব্ধি করা সম্ভব।
হজরত জিবরাঈল (আ.) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লামকে বলেন: ‘ইকরা’(পড়ুন)
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘আমি পড়তে পারি না।’ কথা শুনে জিবরাঈল আমিন তাঁকে বুকে জড়িয়ে সজোরে চাপ দিলেন। তিনি অত্যন্ত কষ্ট অনুভব করলেন। জিবরাঈল আমিন তাঁকে ছেড়ে দিয়ে আবারো বললেন: اقْرَأْ (পড়ুন)। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্বর উত্তরই দিলেন যে, আমি পড়তে পারি না। এ অবস্থা তিন বার ঘটল। তাপর জিবরাঈল আমিন আল্লাহ তায়ালার পয়গাম পাঠ করলেন:
অর্থাৎ:
পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।
সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে।
পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু,
যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন,
শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।
সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম শব্দটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হয়, সেটি ছিলো ‘ইকরা’(পড়ুন)। বস্তুত: এ শব্দটিই প্রকৃতপক্ষে ইসলামের মৌল এবং তার ভবিষ্যতের নির্যাস।
কোরআনুল কারিমের ত্রিশতম পারায় সূরা কদরে ইঙ্গিত করা হয়েছে- ‘নিশ্চয়ই আমি এ (কোরআন)-কে শবে-কদরে অবতীর্ণ করেছি। আর তুমি জানো এ শবে-কদর কি? শবে-কদর (কদরের রাত) হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। (এ রাতেই বিশ্ব মানবতাকে এক অনন্ত স্থায়ী জীবন ব্যবস্থা দান করা হয়েছে যার ওপর আমল করে মানবতা তার উৎকর্ষের শীর্ষে আরোহন করতে পারে)। এ রাতে ফেরেশতাগণ এবং রুহ (জিবরাঈল আমিন) নিজেদের পালনকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী যাবতীয় কর্ম সম্পাদনকল্পে (আকাশ থেকে) নেমে আসেন। (এ রাতে) রয়েছে কল্যাণই কল্যাণ ভোরের আলো ফুঠে উঠার সময় পর্যন্ত।