সহকারী শিক্ষক
সহকারী শিক্ষক
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শঃ
আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামাতের পরিচয় সম্পর্কে আল্লামা মায়দানী (رحمة الله) লিখেছেন-
أَهْلِ السُّنَّةِ السيرة والطريقة المحمدية و أَهْلِ الْجَمَاعَةِ من الصحابة والتابعين ومن بعدهم من المتبعين للنبي صلى الله عليه وسلم
-‘‘আহলুস সুন্নাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, রাসূল (ﷺ)‘র সীরাত এবং তাঁর তরিকার ওপর যারা প্রতিষ্ঠিত এবং আহলুল জামা‘আত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, যারা রাসূল (ﷺ)‘র অনুসারী সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন এবং তাবে-তাবেয়ীগণের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’’(শরহে আক্বিদাতুত তাহাবী, পৃ.৪৪)
সদরুশ শরিয়া আল্লামা উবায়দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (رضي الله عنه) লিখেন-
أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ هُمُ الذين والطريقهم طريقة الرسول وَأَصْحَابِهِ دون أَهْلِ الْبِدَعِ
-‘‘যাঁদের তরিকা হলো, রাসূল (ﷺ) এবং সাহাবাবিদের তরিকা, তারাই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত এবং তারা কোন বিদআতী সম্প্রদায় নয়।
➤ আল্লামা উবায়দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আত-তাওযীহ, ৩/৩৮পৃষ্ঠা
আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামাতের পরিচয় সম্পর্কে আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) বলেন-
أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ، وَهُمُ الَّذِينَ طَرِيقَتُهُمْ كَطَرِيقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ–وَأَصْحَابِهِ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ -، دُونَ أَهْلِ الْبِدَعِ
-‘‘ যাদের তরিকা হলো, রাসূল (ﷺ) এবং সাহাবাবিগণের তরিকা, তারাই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত এবং তারা কোন বিদআতী সম্প্রদায় নয়।’’
➤ ইমাম মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাত, ৯/৪০৪৪পৃষ্ঠা, দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রথম প্রকাশ- ১৪২২হি।
আহলে হাদিসদের ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন-
والبدعة مقرونة بالْجَمَاعَةِ فيقال: أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ كما يقال اهل البدعة والفرقة
-‘‘বিদআত শব্দটি ফিরকা’ (বিচ্ছিন্নতাবাদ)‘র সাথে সম্পর্কিত এবং সুন্নাত শব্দটি জামাত (বৃহত্তম) দলের সাথে সম্পর্কিত। যেমন বলা হয়ে থাকে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত এবং বলা হয়, আহলুল বিদআত ওয়াল ফিরকা।’’ (আল-ইস্তিমাতু, ১/৪২পৃ.)
ইমাম তিরমিযি (رحمة الله) এক সঠিক মতটিকে উল্লেখ করতে গিয়ে লিখেন-
وَهَكَذَا قَوْلُ أَهْلِ العِلْمِ مِنْ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالجَمَاعَةِ
-‘‘আর এটিই আহলে ইলম তথা আহলু সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আক্বিদা।’’
➤ তিরমিযি, আস্-সুনান, ৩/৪১পৃষ্ঠা, হাদিসঃ ৬৬২।
ইমাম জুরকানী (رحمة الله) একটি বিষয়কে হক প্রমাণে এবং বাতিলদের খন্ডনে বলতে গিয়ে লিখেন-
قَالَ أَهْلُ الْعِلْمِ مِنْ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ -
‘‘আর এটিই আহলে ইলম ( যারা ইলমে হাদিস ও ফিকহের অধিকারী) তথা আহলু সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আক্বিদা।’’
➤জুরকানী, শরহে মুয়াত্তা, ৪/৬৬৩পৃষ্ঠা, আযিমাবাদী, শরহে সুনানে আবি দাউদ, ১৩/১৩পৃষ্ঠা,দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ-১৪১৫ হিজরি।।
আহলে হাদিসদের ইমাম শাওকানী এক পর্যায়ে আহলু সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতকে হক এভাবে লিখেন-
لِأَنَّ الْمَسْحَ ثَبَتَ بِالتَّوَاتُرِ وَاتَّفَقَ عَلَيْهِ أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ
-‘‘নিশ্চয় (জুতার উপর মোজা) মাসেহ করা মুতাওয়াতির পর্যায়ের হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এবং আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।’’
➤ শাওকানী, নায়লুল আউতার, ১/২৩১পৃষ্ঠা, দারুল হাদিস, মিশর, প্রকাশ-১৪১৩হিজরি।
আহলে হাদিস মোবারকপুরী (ওফাত.১৩৫৩হি.) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত সম্পর্কে তার কিতাবের এক স্থানে লিখেন-
الشيخ الجيلاني في الغنية: وأما الفرقة الناجية فهي أهل السنة والجماعة.
-‘‘বড় পীর হযরত শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী (رحمة الله) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘গুনিয়াতুত-ত্বালেবীন’ এ লিখেন, আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতই হলো একমাত্র নাযাতপ্রাপ্ত দল।’’
➤ মোবারকপুরী, তুহফাতুল আহওয়াযি, ৭/৩৩২পৃষ্ঠা,ও মের‘আতুল মাফাতিহ, ১/২৭১পৃষ্ঠা,দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।
ইমাম খতিবে বাগদাদী (رحمة الله) একজন রাবির গ্রহণযোগ্যতা ও সে সঠিক আক্বিদায় বিশ্বাসী ছিল বলতে গিয়ে লিখেন-
وكان شيخا صالحا صدوقا من أهل السنة، معروفا بالخير،
-‘‘তিনি হাদিসের শায়খ ছিলেন, সৎ, সত্যবাদী, আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আক্বিদায় বিশ্বাসী ছিলেন, পরিচিত ভালো ব্যক্তি ছিলেন।’’
➤ খতিবে বাগদাদ, তারীখে বাগদাদ, ৪/২২পৃষ্ঠা, ক্রমিক:১২৩৩, দারুল গুরুবুল ইসলামি, বয়রুত, লেবানন।
আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকায়েদের ইমাম কে?
ইজতিহাদী ফিকহী শরিয়তের মাসআলার ক্ষেত্রে চার মাযহাবের যে কোনো ইমামের মতামতকে অনুসরণ করা অপরিহার্য। কিন্তু আক্বিদাগত ক্ষেত্রে সেটা ভিন্নতর। ১.ফাত্ওয়ায়ে শামীর মুকাদ্দামায় উল্লেখ আছে,
(عَنْ مُعْتَقَدِنَا) اَىْ عَمَّا نَعْتَقِدْهُ مِنْ غَيْرِ الْمَسَائِلِ الْفَرْعِيَّةِ مِمَّا يَجِبُ اِعْتَقَادْهُ عَلَه كُلِّ مُكَلَّفٍ بِلَا تَقْلِيْدٍ لِاَحْدٍ وَّهُوَ مَا عَلَيْهِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ وَهُمْ اْلاَشَاعِرَةُ وَالمَاتُرِيْدَّيَّةُ.
-‘‘শারয়ী আনুষঙ্গিক মাসাইল ব্যতীত যে সব বিষয়ে আমরা বিশ্বাস রাখি এবং কারো অনুসরণ ছাড়াই যে সমস্ত বিষয়ে বিশ্বাস রাখাটা প্রত্যেক মুকাল্লাফ (বালিগ ও বিবেক সম্পন্ন ব্যক্তি) এর জন্য ওয়াজিব, সেগুলো হলো, ‘আকায়িদের সহিত সম্পৃক্ত বিষয়, যার ধারক ও বাহক হচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত। তারা হলেন ইমাম আবুল হাসান আশ‘আরী (رحمة الله) এবং ইমাম মাতুরীদি (رحمة الله)।’’
➤ইবনে আবেদীন শামীঃ রুদ্দুল মুখতারঃ বহসে তাকলীদঃ ১/৩৬ পৃষ্ঠা।
২. এ বিষয়ে আরও কিছু ইমামদের মতামত নিম্নে দেয়া হলো- আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (رحمة الله) বলেন-
كَمَا حَكَاهُ أَبُو الْحسن الْأَشْعَرِيّ وَغَيره من أهل السّنة وَالْجَمَاعَة
-‘‘যেমন আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের ইমাম আবুল হাসান আশ‘আরী (رحمة الله) বলেন এবং তার সাথে অন্যান্যগণ।’’
➤ মোবারকপুরী, মের‘আতুল মাফাতিহ, ১/২৭৫পৃষ্ঠা,
৩. ইমাম তকী উদ্দিন সুবকী (رحمة الله) {ওফাত.৭৭১হি.} বলেন-
إِمَام أهل السّنة وَالْجَمَاعَة أبي الْحسن الْأَشْعَرِيّ - رَضِي الله عَنهُ
-‘‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জা‘আমাতের আকায়েদের ইমাম হলো ইমাম আবুল হাসান আশআরী (رحمة الله)।’’
➤ তকি উদ্দিন সুবকি, রফেউল হিজাব, ১/২৬৮পৃষ্ঠা, দারুল আলামুল কিতাব, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ- ১৯৯৯খৃ।
৪. ইমাম তাহতাবী (رحمة الله) বলেন-
والمراد بالعلماء هم أهل السنة والجماعة وهم أتباع أبي الحسن الأشعري وأبي منصور الماتريدي رضي الله عنهما
-‘‘ইমাম আবুল হাসান আশ‘আরী (رحمة الله) এবং তাঁর সহযোগী হযরত আবুল মনসুর (رحمة الله) এর আক্বিদার উপর যারা রয়েছেন।’’
➤ তাহতাবী, মারাকিল ফালাহ ১/৯পৃষ্ঠা, দারুল আলামুল কিতাব, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ-১৪১৮হিজরি।
৫. খাতেমাতুল মুহাক্কিকীন , ইমাম ইবনে আবেদীন শামী (رحمة الله) বলেন-
أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ وَهُمْ الْأَشَاعِرَةُ وَالْمَاتُرِيدِيَّةِ
-‘‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত বলতে আশ‘আরী এবং মাতুরীদী (মতবাদের অনুসরণ) কে বুঝায়।’’
➤ ইবনে আবেদীন শামী, রুদ্দুল মুখতার, ১/৪৯পৃষ্ঠা, দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।
৬. এ ব্যাপারে আল্লামা যুবাইদি (رحمة الله) বলেন-
اذا اطلق السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ فالمراد به الأشاعرة والماتريديه
-‘‘যখন সাধারণভাবে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত বলা হয়, তখন আশআরী এবং মাতুরীদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়।’’
➤ আল্লামা যুবাইদি, ইত্তিহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন, ২/৬পৃষ্ঠা,
৭. ইমাম ইবনে হাজার মক্কী হাইতমী (رحمة الله) বলেন-
إِمَام أهل السّنة وَالْجَمَاعَة الشَّيْخ أَبُو الْحسن الْأَشْعَرِيّ
-‘‘হযরত আবুল হাসান আশ‘আরী (رحمة الله) হলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ইমাম।’’
➤ইবনে হাজার মক্কী, ফাতওয়ায়ে হাদিসিয়্যাহ, ১/৫২পৃষ্ঠা।
৮. ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (رحمة الله) বলেন-
إِمَامُ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ الْأَشْعَرِيُّ
-‘‘হযরত আবুল হাসান আশ‘আরী (رحمة الله) হলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জাম‘আতের ইমাম।’’
➤ ইমাম সুয়ূতী, আল-হাভীলিল ফাতওয়া, ২/২৪১পৃষ্ঠা,
৯. তাফসিরে মাতুরীদির ভূমিকায় রয়েছে-
الأشاعرة هم أهل السنة والجماعة
-‘‘ইমাম আশআরী (رحمة الله)-এর আক্বিদা বা মতবাদে বিশ্বাসীরাই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অনুসারী।’’ ➤তাফসীরে মাতুরিদী, (ভূমিকা) ১/১৫৭পৃষ্ঠা, দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রথম প্রকাশ- ১৪২৬ হিজরি।।
মাযহাব অস্বীকারকারীরা কি আহলে সুন্নাহ
ওয়াল জামা‘আতের অনুসারী?
বর্তমানে নয় যুগযুগ ধরে অনেক বাতিল পন্থীরাও নিজেদেরকে আহলে সুন্নাহ বা হক পন্থী বলে দাবি করে আসছে। কিন্তু দেখতে হবে যে আহলে সুন্নাহের মূল নীতি অনুসারে সে আছে কিনা। এ কয়েক শতাব্দী ধরে একটি ফিতনা খুব প্রবল বেগে গজিয়ে উঠছে তাদের নাম আহলে হাদিস। তারাও সুযোগ বুঝে নিজেদেরকে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অনুসারী বলে দাবি করে। কিন্তু আক্বিদা ও মূল নীতির ক্ষেত্রে তারা আহলে সুন্নাহ এর ধারেকাছেও নেই। তারা চার মাযহাব মানাকে অস্বীকার করে, অথচ অতীতের অসংখ্য উলামায়ে কেরামগণ একমত পোষণ করেছেন যে, চার মাযহাবকে অস্বীকারকারী আহলে সুন্নাহ থেকে খারিজ বা বাতিল পথভ্রষ্ট। আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (رحمة الله) বলেন-
هُوَ مَذْهَب الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة وَغَيرهم من أهل السّنة وَالْجَمَاعَة
-‘‘চার মাযহাবের মুজতাহিদ ইমামগণ এবং অন্য মুজতাহিদ ফকিহ ইমামদের মাযহাব হলো আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত।’’
➤আইনী, উমদাতুল ক্বারী, ২/২৩৮পৃষ্ঠা।
এ প্রসঙ্গে আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) বলেন-
وَمَذْهَبِ الْحَنَفِيَّةِ مِنْ جُمْلَةِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ،
-‘‘হানাফী মাযহাব হলো আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অর্ন্তভুক্ত।’’
➤মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাতুল মাফাতিহ, ৮/৩৩৭৪৮পৃষ্ঠা, হা/৫৩৭৬ এর আলোচনা।
তাই বুঝা গেল যারা মাযহাব অস্বীকার করে তারা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অনুসারী নয়; বরং সে পথভ্রষ্ট। এ প্রসঙ্গে ইমাম সাভী সূরা কাহাফ আয়াত ২৪ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন-
وَلَا يَجُوْزُ تَقْلِيْدُ مَا عَدَا الْمَذَهِبِ الْاَرْبَعَةِ وَلَوْ وَافَقَ قَوْلَ الصَحَّابَةِ وَالْحَدِيْثِ الصَّحِيْحِ وَالْاَيَةِ فَالْخَارِجُ عَنِ الْمَذَاهِبِ الْاَرْبَعَةِ ضَالٌّ مُضِلٌّ وَرُبَمَا اَدَّاهُ ذَالِكَ اِلَي الْكُفْرِ لِاَنَّ الْاَخْذَ بِظَوَاهِرِ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ مِنْ اُصُوْلِ الْكُفْرِ
-‘‘চার মাযহাব ছাড়া অন্য কোন মাযহাবের তাকলীদ বা অনুসরন জায়েয নয়। যদিও সে মাযহাব সাহাবিদের উক্তি, সহীহ হাদীস ও কুরআনের আয়াতের সহিত সাঙ্গতি পূর্ণ হয়। যে এ চার মাযহাবের কোন একটির অনুসারী নয়, সে পথভ্রষ্ট এবং পথ ভ্রষ্টকারী। কেননা হাদিস ও কুরআনের কেবল বাহ্যিক অর্থ গ্রহণই হলো কুফরীর মূল।’’
➤ইমাম সাভী : তাফসীরে সাভী : ৪/১৫পৃষ্ঠা,
তাই মাযহাবের প্রত্যেক ইমামকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতে হবে এটাই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আক্বিদা। আজ পর্যন্ত কোন মুজতাহিদই বলেননি যে তারা ভুল করেছেন। তবে ডা. জাকির নায়েক বলে,‘‘আমি জানি সব মানুষই ভুল করতে পারেন। ইমাম আবু হানিফা ভুল করেছেন, ইমাম শাফেয়ী (رحمة الله) ভুল করেছেন, ইমাম মালেক ও ইমাম হাম্বলী (র)-ও ভুল করেছেন।’’
➤ জাকির নায়েক লেকচার সমগ্র, ৫/৯২পৃষ্ঠা, পিস পাবলিকেন্স, কম্পিউটার মার্কেট, বাংলাবাজার, ঢাকা।
ইমাম তাহাবী (رحمة الله) {৩২১হি.}আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আক্বিদা বর্ণনা করেন-
وَعُلَمَاءُ السَّلَفِ مِنَ السَّابِقِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ التَّابِعِينَ أَهْلِ الْخَيْرِ وَالْأَثَرِ وَأَهْلِ الْفِقْهِ وَالنَّظَرِ لَا يُذْكَرُونَ إِلَّا بِالْجَمِيلِ وَمَنْ ذَكَرَهُمْ بِسُوءٍ فهو على غير السبيل
-‘‘পূর্ববর্তী যুগের ‘সালাফে সালিহীন’ (নেককার পূর্ববর্তীগণ) ও তাঁদের অনুসারী পরবর্তীকালের কল্যাণময় আলেমগণ, মুহাদ্দিস ও হাদিস অনুসারীগণ এবং ফকীহ-মুজতাহিদ ও ফিকহ-অনুসারীগণ, তাদের সকলকেই যথাযোগ্য সম্মান ও প্রশংসার সাথে স্মরণ ও উল্লেখ করতে হবে। আর যে ব্যক্তি তাঁদের সম্পর্কে কূটুক্তি বা বিরূপ মন্তব্য করে সে ভ্রান্ত পথের অনুসারী।’’
➤ইমাম তাহাবী, আকিদাতুত তাহাবী, (শুধু মতন), ১/৮২পৃষ্ঠা, ক্রমিক:৯৭।
তাই ডা. জাকির নায়েকও সেই ভ্রান্ত পথের অনুসারী হয়েছেন চার মাযহাবের ইমামসহ অন্যান্য বুযর্গদের সমালোচনা করে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
তৃতীয় অধ্যায়ঃ
আল্লাহ সম্পর্কে কিছু গূরুত্বপূর্ণ আহলে সুন্নাহ
ওয়াল জামাতের আক্বিদা
আল্লাহ তা‘য়ালার কী সৃষ্টির মত আকৃতি রয়েছে ?
আল্লাহ আকার আকৃতি হতে মুক্ত-এটাই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আক্বিদা, কেননা আকার আকৃতি থাকলে কেমন তার অবকাশ রাখে। মানুষ বা সৃষ্টি শুনতে কান, দেখতে চোখের প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু স্রষ্টার জন্য মানুষের বা সৃষ্টির মত কোন কিছুই প্রয়োজন পড়ে না। স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা দেয়া কুফুরী। ইমাম তাহাভী (رحمة الله) বলেন-
وَمَنْ وَصَفَ اللَّهَ بِمَعْنًى مِنْ مَعَانِي الْبَشَرِ فَقَدْ كُفر
-‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘য়ালাকে মানবীয় গুণাবলী হতে কোন গুণের দ্বারা গুণান্বিত করবে সে কাফির।’’
➤ তাহাবী, আকিদাতুত তাহাভী, ৪১ পৃষ্ঠা, আক্বিদা নং ৩৪, মাকতুবাতুল ইসলামী, বয়রুত, লেবানন, প্রকাশ- ১৪১৪হিজরি।
ইমাম আবু হানিফা (رحمة الله) বলেন-
لَا يشبه شَيْئا من الْأَشْيَاء من خلقه وَلَا يُشبههُ شَيْء مِنْ خلقه-
-‘‘আল্লাহ তা‘য়ালা তাঁর সৃষ্টির কোন বস্তুর মত নন, এমনকি তিনি কোনো সৃষ্টির মত নন।’’
➤ ইমাম আবু হানিফা, আল-ফিকহুল আকবার, ১৪ পৃষ্ঠা।
ইমাম কুরতুবী (رحمة الله) বলেন-
لَا يُشْبِهُ شَيْئًا مِنْ مَخْلُوقَاتِهِ وَلَا يُشْبَّهُ بِهِ
-‘‘সৃষ্টির কিছুই আল্লাহর সাথে সাদৃশ্য নেই, এবং তিনিও কারও সদৃশ নন।’’
➤ ইমাম কুরতুবী, তাফসীরে কুরতুবী, ১৬/৮পৃষ্ঠা, মাকতুবাতুল মিসরিয়্যাহ, কাহেরা, মিশর, প্রকাশ- ১৩৮৪হিজরি।
মি‘রাজে আল্লাহ্কে নবিজি দেখেছেন-তা সত্য; কিন্তু তিনি কোন আকৃতির কথা বর্ণনা করেননি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) বলেন, রাসূলে আকরাম (رحمة الله) ইরশাদ করেন-
رَأَيْت رَبِّي عَزَّوَجَلَّ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ
-‘‘আমি আমার রব আল্লাহ তা‘য়ালাকে দেখেছি, তবে তার সাথে (সৃষ্টির) কোন সদৃশ্য বা তুলনা নেই।’’
➤ দায়লামী, আল-ফিরদাউস, ২/২৫৪পৃষ্ঠা, হাদিসঃ ৩১৮৩।
মহান রব তা‘য়ালা ইরশাদ করেন-
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ-
‘‘তাঁর কোন দৃষ্টান্ত তথা উপমা নেই।’’
➤ সুরা আশ-শুরা, আয়াত ১১
ইমাম বায়হাক্বী (رحمة الله) বলেন-
فَإِنَّ الَّذِي يَجِبُ عَلَيْنَا وَعَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ أَنْ يَعْلَمَهُ: أَنَّ رَبَّنَا لَيْسَ بِذِي صُورَةٍ وَلَا هَيْئَةٍ، فَإِنَّ الصُّورَةَ تَقْتَضِي الْكَيْفِيَّةَ وَهِيَ عَنِ اللَّهِ وَعَنْ صِفَاتِهِ مَنْفِيَّةٌ
-‘‘নিশ্চয় আমাদের ও সকল মুসলমানের জানা অত্যাবশ্যক যে, আমাদের প্রভু আকৃতি ও অবয়ব বিশিষ্ট নহেন। কেননা, আকৃতি (الْكَيْفِيَّةَ) তথা ‘কেমন’ এর চাহিদা রাখে। অথচ কেমন প্রশ্নটি আল্লাহ ও তাঁর গুণবলীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।’’
➤ ইমাম বায়হাকী, কিতাবুল আসমা ওয়াল সিফাত, ২/৬৬পৃষ্ঠা, হাদিসঃ ৬৪১, মাকতুবাতুল সৌদিয়া, জেদ্দা, প্রথম প্রকাশ- ১৪১৩হিজরি।
ইমাম বায়হাকী (رحمة الله) আরও বলেন-
وَلَا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ الْبَارِي تَعَالَى مُصَوَّرًا وَلَا أَنْ يَكُونَ لَهُ صُورَةٌ، لِأَنَّ الصُّورَةَ مُخْتَلِفَةٌ
-‘‘আল্লাহ তা‘য়ালার জন্য আকৃতি আছে ধারণা করা বৈধ নয়, কেননা তার কোন আকৃতি নেই। আর তাঁর আকৃতি হলো স্বতন্ত্র।’’
➤ ইমাম বায়হাকী, কিতাবুল আসমা ওয়াল সিফাত, ২/৬০পৃষ্ঠা, মাকতুবাতুল সৌদিয়া, জেদ্দা, প্রথম প্রকাশ- ১৪১৩হিজরি।
ইমাম কামালুদ্দীন ইবনুল হুমাম (رحمة الله) বলেন-
فَلَيْسَ سبحانه بذى لون و لارائحة ولاصورة ولاشكل
-‘‘মহান আল্লাহ রং, গন্ধ, আকৃতি এবং অবয়ব বিশিষ্ট নন।’’
➤ ইমাম কামালুদ্দীন ইবনুল হুমাম, আল-মুসাইরাত, ২১৮পৃষ্ঠা।
ইমাম আবুল মানসুর মাতুরীদি (رحمة الله) বলেন-
وليس بجسم، ولا شبه، ولا جثة، ولا صورة، ولا لحم، ولا دم، ولا شخص ولا جوهر ولا عرض،.....
-‘‘মহান আল্লাহ দেহ, কোনো সৃষ্টির সাদৃশ্য, দেহ বা শরীর, আকৃতি, মাংসবহুল, রং, বড় দেহ বিশিষ্ট, বস্তু/পদার্থ, প্রার্শ্ব, এমনকি নেই কোন সাদৃশ, আকৃতি গোস্ত, .....এগুলো থেকে পবিত্র।’’
➤ইমাম মাতুরীদি, তাফসীরে মাতুরীদি, ১/১৩৫পৃষ্ঠা,
ইমাম মাতুরীদি (رحمة الله) আরও বলেন-
لا تشبه صفاته صفات المخلوقين، ولا اشتبهت صفات الخلق صفاته
-‘‘মহান আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলীর মধ্যে তাঁর কোন সৃষ্টির গুণাবলীর সাদৃশ্য নেই।’’
➤ইমাম মাতুরীদি, তাফসীরে মাতুরীদি, ৮/২৬৭পৃষ্ঠা,
তাই বুঝা গেল আল্লাহকে কোন আকৃতি দ্বারা ব্যাখ্যা করলে, প্রশ্নের অবকাশ রাখে যে তাহলে তার আকৃতি কীসের মত তাই বলা যাবে না। এ বিষয়ে ইমাম বুখারীর উস্তাদ ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ (رحمة الله) বলেন-
قَالَ الْأَئِمَّةُ -مِنْهُمْ نُعَيْم بْنُ حَمَّادٍ الْخُزَاعِيُّ شَيْخُ الْبُخَارِيِّ -: مَنْ شَبَّهَ اللَّهَ بِخَلْقِهِ فَقَدْ كَفَرَ
-‘‘তিনি বলেন, যে মহান আল্লাহকে তার সৃষ্টির সাথে তুলনা/সাদৃশ্য করবে সে কাফির।’’
➤ইবনে কাসির, তাফসীরে ইবনে কাসির, ৩/৪২৭।
পবিত্র কুরআনে কোন কোন স্থানে মহান রব তার যে অঙ্গ উল্লেখ করেছেন তা মূলত তার গুণবলীকে বুঝানো হয়েছে; তাই তার সরাসরি অর্থ এখানে গ্রহণ করা হবে না। এ প্রসঙ্গে হাদিসের এবং আক্বায়েদের অন্যতম ইমাম বায়হাকী (رحمة الله) বলেন-
أَنْ تَكُونَ الصُّورَةُ بِمَعْنَى الصِّفَةِ-‘‘কোনো ক্ষেত্রে যদি আকৃতি প্রকাশের কথা আসে তা হবে তাঁর সিফাত বা গুণবলী।’’ ➤ ইমাম বায়হাকী, কিতাবুল আসমা ওয়াল সিফাত, ২/৬৬পৃষ্ঠা, হাদিসঃ ৬৪১, মাকতুবাতুল সৌদিয়া, জেদ্দা, প্রথম প্রকাশ- ১৪১৩হিজরি।
ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (رحمة الله) উল্লেখ করেন-
أَنَّ الْمُرَادَ بِالصُّورَةِ الصِّفَةُ وَإِلَيْهِ مَيْلُ الْبَيْهَقِيّ
-‘‘(অনেকের মতে-উপর্যুক্ত হাদিসে) ‘আকার’ দ্বারা ‘সিফাত’ (গুণ)ই উদ্দেশ্য। এ মতের দিকেই ইমাম আবু বকর আল-বাইহাকী (رحمة الله)-এর ঝোঁক রয়েছে।’’
➤ ইমাম ইবনে হাজার, ফতহুল বারী, ১৩/৪২৭পৃষ্ঠা,
তিনি আরও উল্লেখ করেন-
قَالَ الْقُرْطُبِيُّ الْمُرَادُ بِالصُّورَةِ الصِّفَةُ
-‘‘ইমাম কুরতবী (رحمة الله) বলেন, এখানে আল্লাহর আকৃতি বলতে গুণই বুঝানো হবে।’’
➤ ইমাম ইবনে হাজার, ফতহুল বারী, ১১/৪১৩পৃষ্ঠা,
ইমাম নববী (رحمة الله) ইমাম কাযি আয়্যায (رحمة الله) এর বরাতে উল্লেখ করেন-
لَا يَجُوزُ عَلَيْهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى التَّجَسُّمُ
-‘‘আল্লাহ তা‘য়ালার জন্য দেহাবয়ব আছে ধারণা করা বৈধ নয়।’’
➤ ইমাম নববী, শরহে সহীহ মুসলিম, ১৫/২৫পৃষ্ঠা,
আল্লাহর আকৃতিতে আদম (عليه السلام) কে বানানো প্রসঙ্গ
আমাদের সমাজের কিছু বাউল ও সাধারণ মুসলমানের ধারণা এরূপ। প্রকৃতপক্ষে এরূপ ধারণা রাখা বৈধ নয়; বরং এটি বাতিল পন্থীদের আক্বিদা। ইমাম ত্বাহাভী (رحمة الله) তার আক্বিদাতুত ত্বাহাভীর ভূমিকায় বলেন-
المرجئة يقولون ان الله خلق ادم على صورته والعرش مكان لله-
-‘‘ফিরকায়ে মুর্জিয়া সম্প্রদায় বলে, নিশ্চয় আল্লাহ আদমকে তার আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। আরশ হল আল্লাহর স্থান।’’ আমাদের সমাজে এখন বহু লোক এ হাদিসটি অনেক সময় বলে থাকেন যে, خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ عَلَى صُورَتِهِ‘আল্লাহ আদম (عليه السلام) কে তাঁর স্বীয় ছুরতে (আকৃতিতে) সৃষ্টি করেছেন।’
➤মিশকাতুল মাসাবীহ, কিতাবুল আদাব, বুখারি ও মুসলিম শরিফের সূত্রে।
এই হাদিসের প্রকাশ্য অর্থে গ্রহণ করা মূলত গোমরাহী ছাড়া আর কিছু নয়। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (رحمة الله) বলেন-
وَقد يُقَال: هُوَ عَائِد إِلَى الله تَعَالَى، لَكِن الصُّورَة هِيَ الْهَيْئَة وَذَلِكَ لَا يَصح إلاَّ على الْأَجْسَام، فَمَعْنَى الصُّورَة الصّفة كَمَا يُقَال: عرفني صُورَة هَذَا الْأَمر أَي: صفته، يَعْنِي: خلق آدم على صفته أَي حَيا عَالما سميعاً بَصيرًا متكلماً
-‘‘এ ব্যাখ্যাও করা যায় যে, عَلَى صُورَتِهِ এর ه সর্বনামটি الله এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী কিন্তু ছুরত অর্থ আকৃতি। আর এমন অর্থ জিসিম বা শরীর ব্যতীত প্রয়োগ হয় না। তাই এখানে الصُّورَة শব্দটি الصّفة বা গুণ অর্থে ব্যবহৃত। যেমন আরবীতে বলা হয়- عرفني صُورَة هَذَا الْأَمر (এ বিষয়ে ছুরত আমাকে অবগত করুন) বক্তব্যটিতেالصُّورَة শব্দটি গুণ অর্থে ব্যবহৃত। অর্থাৎ আদমকে আল্লাহর গুণে সৃষ্টি করা হয়েছে। অর্থাৎ আদমকে আল্লাহর গুণ জীবিত, জ্ঞানী, শ্রবণকারী, দৃষ্টিসম্পন্ন এবং বক্তা হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে।’’
➤আইনী, উমদাতুল ক্বারী, ২২/২২৯পৃষ্ঠা, হাদিসঃ ৬২২৭
আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন-
)خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ عَلَى صُورَتِهِ ) أَيْ: عَلَى صُورَتِهِ الَّتِي اسْتَمَرَّ عَلَيْهَا إِلَى أَنْ أُهْبِطَ، وَإِلَى أَنْ مَاتَ دَفْعًا لِتَوَهُّمِ أَنَّ صُورَتَهُ كَانَتْ فِي الْجَنَّةِ عَلَى صِفَةٍ أُخْرَى-
-‘‘আল্লাহ তা‘য়ালা আদম (عليه السلام) কে ঐ আকৃতিতেই সৃষ্টি করেছেন যে আকৃতির উপর তাকে জান্নাত হতে জমিনে অবতরণ করা হয় এবং ইন্তিকাল পর্যন্ত ছিলেন। জান্নাতে তাঁর আকৃতি অন্য রকম ছিল, এমন সন্দেহকে দূর করার জন্য এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে।’’
➤মোল্লা আলী ক্বারী, মেরকাতুল মাফাতীহ, ৭/২৯৩৫পৃষ্ঠা, হাদিসঃ ৪৬২৮, দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন।
কিন্তু বিজ্ঞ আকায়েদবিদগণের মতে-‘‘আল্লাহ তা‘য়ালা দিক, কাল, গতি, স্থিতি, আকার-আকৃতির এবং যাবতীয় অঘটন থেকে পবিত্র। (মুসামের, ৩১পৃ. মাসায়েরা, ৩৯৩পৃ. বাহারে শরীয়ত, প্রথম খন্ড)