Loading..

নেতৃত্বের গল্প

রিসেট

০২ জুন, ২০২৩ ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা

 

খুব মোটা দাগে যদি বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র চিন্তা দেখতে যাই তাহলে দেখা যায় বঙ্গবন্ধু একটি জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টি করলেও তিনি  উগ্র জাতীয়তাবাদী নন বরং বিশ্বের তাবৎ উদার আদর্শের সঙ্গে তাঁর রাষ্ট্রকে মেলাচ্ছেন। তাই প্রথমত বলা যায়, একটি ভাষাভিত্তিক জাতীয় চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ সৃষ্টির যাত্রা শেখ মুজিবুর রহমানের মত কিছু তরুণের হাত ধরে শুরু হলেও পরিণত শেখ মুজিব যখন বঙ্গবন্ধুতে পরিণত হয়ে জাতি রাষ্ট্র সৃষ্টি করলেন তখন তিনি অনেক পথ পরিক্রমা শেষ করেছেন।

বঙ্গবন্ধু- একটি রাষ্ট্রের ও জাতির স্রষ্টা হিসেবে নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন সেইখানে- যেখানে জাতীয়তাবাদ কোনও ভাষা, ধর্ম, নৃগোষ্ঠি, সম্প্রদায়, বর্ণ কোনও কিছুতে আবদ্ধ থাকে না। যেখানে জাতীয়তাবাদ একটি কনসেপ্ট, যার ধারণ ক্ষমতা অনেক বেশি। সে ভাষা, ধর্ম, বর্ণ, নৃগোষ্ঠি সকলকে ধারণ করতে পারে তার আওতার ভেতর। একটি সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাই যেখানে জাতীয়তাবাদের অন্তরের মূল স্রোতে।

কোন জাতীয়তাবাদী নেতা যখন তাঁর রাষ্ট্রচিন্তায় জাতীয়তাবাদকে ভাষা, নৃগোষ্ঠি, ধর্ম বা বর্ণ থেকে বের করে আনতে পারেন, তিনি তখন তাঁর জাতীয়তাবাদের অনেকগুলো 'কেমিক্যাল যোজনী' তৈরি করতে পারেন। যার  মাধ্যমে পৃথিবীর অনান্য আদর্শকে ধারণ করা ওই জাতীয়তাবাদীর পক্ষে সম্ভব হয়। প্রথমেই যে ঘটনাটি ঘটে তা হলো- ওই জাতীয়তাবাদী যেমন উগ্র হতে পারেন না, তেমনি তাঁর দেশের জাতীয়তাবাদ কখনই কোন উগ্ররূপ নিতে পারে না।

কোন রাষ্ট্র নায়ক বা জাতি রাষ্ট্রের স্রষ্টা যদি তার জাতীয়তাবাদকে এই অবস্থানে নিয়ে যান তখন তাঁর রাষ্ট্র প্রকৃত অর্থে উদার ও মানবিক রাষ্ট্রের পথে হাঁটা শুরু করতে পারে। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে যদি এভাবে উদারতান্ত্রিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে না মেলানো যায় তাহলে ওই ভাষাভিত্তিক জাতীয়তা এক ধরনের উগ্রতা থেকে কখনই বের হতে পারে না।

আমার ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের দৃঢ় বন্ধনে নিজেদেরকে শুরুতে আবদ্ধ করলেও রাষ্ট্র সৃষ্টির পথ পরিক্রমায় বঙ্গববন্ধু ধীরে ধীরে আমাদেরকে কনসেপ্টভিত্তিক জাতীয়তাবাদে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো আমাদের রাষ্ট্রভাষা সংখ্যাগরিষ্ঠের সচল এবং সাহিত্য ভাণ্ডারে ভরপুর 

বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তার একটি লিখিত ফসল বাহাত্তরের সংবিধান। এই সংবিধানে কোথাও বিন্দুমাত্র উদারতার ঘাটতি নেই। বর্তমান পৃথিবীর বাস্তবতায় কখনও কখনও মনে হয় উদারতা এখানে অনেক বেশি। সকল মানুষ যখন মিলিত হয় অর্থাৎ জনগণে রূপান্তরিত হয় তখন তাঁদের নিজস্ব ধর্ম হয় মানবতার ধর্ম – যার কোনও আলদা আলাদা গণ্ডি নেই। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্র সৃষ্টির আগে তাঁর যে রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র সৃষ্টি করেন সেটাকে মানবতাবাদী বা সকলের জন্যে উদার একটি দলে পরিবর্তন করেন।

অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যে রক্ত ও জীবন দিয়ে তৈরি করি নিজেদের একটি ভূখণ্ড আর পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বিধৌত এ ভূখণ্ডের সকলে চিহ্নিত হই বাঙালি বলে। অর্থাৎ এখানে দেখতে পাচ্ছি, বঙ্গবন্ধু তাঁর জাতি রাষ্ট্রের মানুষকে একত্রিত করে যে বাঙালি তৈরি করছেন তা কোন ভাষাভিত্তিক বাঙালি শুধু নয়, একটি আকাঙ্ক্ষা থেকে উদ্ভূত একটি জাতি গোষ্ঠি- যার নাম বাঙালি। তাঁর এই আকাঙ্ক্ষা বাইরের বাংলাভাষী হাজার বছরের বাঙালি বংশোদ্ভুত হলেও তাঁরা এ ভূখণ্ডের জাতীয়তাবাদের সঙ্গে একাত্ম নয়, তারা কেবল ঐতিহাসিকভাবে একই বংশোদ্ভূত।

তাই বঙ্গবন্ধু যখন রাষ্ট্র সৃষ্টির কাজটি সম্পন্ন করলেন, ততক্ষণে তাঁর মানুষ ও রাষ্ট্র উদার ও মানবতাবাদী। যার সঙ্গে গণতন্ত্রী বা সমাজতন্ত্রী কারো মিলতে বা মিশতে কোন অসুবিধা নেই। এর পরেই বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তার দ্বিতীয় ধাপ আসে অর্থনৈতিক মুক্তির কর্মসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রকে সাজানো।

 

মন্তব্য করুন