আমি জানি , নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের জন্য ষ্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা অনেক।তাই আমি প্রথমে অভিভাবকদের সাথে সভা মা"দের নিয়ে মা সমাবেশ করি এবং এম এম সি সদস্য ও পিটিএ সদস্যগনের নিয়ে মিটিং করে নতুন কারিকুলাম সম্পর্কে অবহিত করি এবং তাদের কি কি করনীয় তা জানিয়ে দেই। সকল শিক্ষার্থীর ও অভিভাবকের সাথে যোগাযোগের জন্য ম্যাসেঞ্জার , ইমু , হোয়াইট এপ নম্বর সংগ্রহ করিয়া একটি গ্রূপ খুলি। অতঃপর শিক্ষকদের প্রতিদিন ৪.০০ থেকে ৫.০০ টা পর্যন্ত এবং প্রতি শুক্রবার ও শনিবার ইনহাউস প্রশিক্ষণ প্রদান করি। যার ফলশ্রুতিতে আমার মাদরাসার প্রতিটি বিষয়ের শিক্ষক শিখনকালীন মূল্যায়ন ,সামষ্টিক মূল্যায়ন, প্রজেক্ট ভিত্তিক কাজ, বন্ধু খাতার ব্যবহার, গ্রূপের কাজ ,প্রতিটি বিষয়ের যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন শীট ,ট্রান্সক্রিপ্ট তৈরির কাজ টিজি মোতাবেক সম্পন্ন করাসহ সুন্দর ও সাবলিলভাবে শ্রেনী কার্য্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আমার নেতৃত্বে উল্লেখিত পদক্ষেপের কারনে শিক্ষকগণ বর্তমানে নিম্ন লিখিত ভাবে ষাণ্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন উৎসব করছেন এবং প্রতিটি বিষয়ের নিম্ন বর্নিত কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন। আমি নিজে তাদের মূল্যায়নের বিষয়গুলি তদারকি করে যাচ্ছি।
কাজের ধারাবাহিকতা:
১। শিখনকালীন মূল্যায়ন: প্রত্যেকটি বিষয়ে প্রদত্ত যোগ্যতা আলাদা আলাদা শীটে মূল্যায়ন করতে হবে।
২। ষাণ্মাসিক মূল্যায়ন: ষাণ্মাসিক উৎসবের সময়ে উৎসবে প্রদত্ত PI মূল্যায়ন করতে হবে।
৩। PI ট্রান্সক্রিপ্ট তৈরি: শিখনকালীন মূল্যায়নের PI ও ষাণ্মাসিক মূল্যায়নের PI-এর সমন্বয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আলাদা আলাদা ট্রান্সক্রিপ্ট তৈরি করতে হবে।
৪। BI ট্রান্সক্রিপ্ট তৈরি: বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ক্লাস চলাকালীন সময় থেকে ষাণ্মাসিক মূল্যায়নের সময় পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীর BI (১০টি সূচক) মূল্যায়ন একটি শীট করবেন এবং শ্রেণি শিক্ষক ১০টি BI নিয়ে একটি ট্রান্সক্রিপ্ট তৈরি হবে।
প্রত্যেক বিষয়ের কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন কারিকুলামে । মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই যোগ্যতাকে একক যোগ্যতা হিসাবে ধরা হয়েছে। একটি একটি যোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য এক বা একাধিক পারদর্শিতার সূচক বা PI নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি PI-এর আবার তিনটি মাত্রা আছে এগুলো হলো চতুর্ভুজ(□) বৃত্ত(○) ও ত্রিভুজ(∆) । শিক্ষার্থীর এই PI গুলো দুইবার মূল্যায়িত হবে (১) শিখনকালীন মূল্যায়ন (২) ষাণ্মাসিক মূল্যায়ন। শিখনকালীন মূল্যায়নের সময় প্রতিটি যোগ্যতার জন্য এক একটি শীটে মূল্যায়ন করতে হবে । উল্লেখ্য শিখনকালীন মূল্যায়নের সময় একই PI বার বার করা যেতে পারে । কিন্তু ষাণ্মাসিক মূল্যায়নে একবারই করতে হয়। শিখনকালীন ও ষাণ্মাসিক মূল্যায়ন শেষে ট্রান্সক্রিপ্ট তৈরির সময় প্রতিটি PI-এর জন্য শিখনকালীন ও ষাণ্মাসিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত প্রতীকের মধ্যে একটিও ত্রিভুজ(∆) পেলে ট্রান্সক্রিপ্টে ত্রিভুজ(∆) দিতে হবে, যদি একটিও ত্রিভুজ(∆) না পায় এবং যদি একটিও বৃত্ত(○) পায় তবে ট্রান্সক্রিপ্টে বৃত্ত(○) চিহ্ন দিতে হবে আর যদি একটিও ত্রিভুজ(∆) বা বৃত্ত(○) না পায় তবে শুধুমাত্র চতুর্ভুজ(□) চিহ্ন দিতে হবে । এভাবে নির্দেশিকায় প্রদত্ত PI-এর মূল্যায়ন করে ষাণ্মাসিক ট্রান্সক্রিপ্ত তৈরি করতে হবে । এবং প্রত্যেক বিষয় শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি আচরণিক সূচক BI (দশটি সূচক) মূল্যায়ন করবেন। আর শ্রেণি শিক্ষক প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সবগুলো BI মূল্যায়ন শীট নিয়ে একটি BI-এর ট্রান্সক্রিপ্ট তৈরি করতে হবে। শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র সেই ট্রান্সক্রিপ্ট প্রদান করতে হবে। BI-এর ট্রান্সক্রিপ্ট তৈরির সময় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের দেওয়া মূল্যায়ন শীটের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত চিহ্নই ট্রান্সক্রিপ্টে উঠাতে হবে । তবে কখনো দুইটি চিহ্ন সমান সংখ্যকবার হলে তবে দুটির মধ্যে সর্বোচ্চ চিহ্নটাই ট্রান্সক্রিপ্টে উল্লেখ করতে হবে । এই ট্রান্সক্রিপ্টই শিক্ষার্থীতে প্রদান করতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী মোট ১১ টি ট্রান্সক্রিপ্ট হাতে পাবে।
উল্লেখ্য শিখন কালীন মূল্যায়ন ও ষান্মাসিক মূল্যায়ন নির্দেশিকা না পড়লে কোনো ভাবেই মূল্যায়ন করা সম্ভব না এই সত্যটা আমার শিক্ষকগণ উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন।