সহকারী শিক্ষক
০১ জুলাই, ২০২৩ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
উদ্ভাবনের গল্প " রিডিং হেল্পার "
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের ৬৫% শিক্ষার্থী বাংলাই পড়তে পারেনা। ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা তার চাইতেও বেশি। আমরা হয়তো বয়স দেখে একটা বাচ্চাকে ক্লাস থ্রি-তে ভর্তি করলাম, কিন্তু পরে দেখা যায় যে তারা বাংলা ইংরেজি রিডিং পড়তে পারেনা। কিছু শিক্ষার্থী অক্ষরই চিনেনা। এজন্য আমরাও তাদের পড়াতে পারিনা, কিছু বোঝোতে পারিনা। এটা আমাদের জন্যও দুর্ভোগ।
এই শিশুদের কখনোই বাড়িতে আলাদাভাবে যত্ন করা হয়না। একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে পরিমাণ শিক্ষার্থী রয়েছে, তাদের সবার প্রতি আলাদা আলাদাভাবে নজর দেয়া রীতিমত অসম্ভব। আমাদের একেকটা ক্লাসে ৪০ জন ৫০ জন ছাত্র ছাত্রী। এতোজন শিক্ষার্থীদের ধরে ধরে বোঝানো প্রায় অসম্ভব। একটি শিশুর বাসাতেও কিছু প্র্যাকটিস করতে হয়, পড়তে হয়, হোমওয়ার্ক করতে হয় সেই সাপোর্টটা তারা পায়না। কারণ অনেক শিক্ষার্থীর বাবা-মা পড়াশোনা জানেন না। বাড়িতে পড়াশোনার পরিবেশ নেই।
আমার বিদ্যালয়ের চিত্রও এর ব্যতিক্রম নয়। অজপাড়াগায়ের বিদ্যালয় হিসেবে অধিকাংশ অভিভাবকরাই অশিক্ষিত এবং অসচেতন। অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পারিবারিক বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে, বাড়িতে পড়ালেখার সুযোগ এবং পরিবেশ কোনোটাই নেই। এর ফলে শিক্ষার্থীদের রিডিং পড়ার জন্য বিদ্যালয় ছাড়া আর বিকল্প নেই।
এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু কছুতেই আশানুরুপ ফল পাচ্ছি না। অবশেষে ভাবলাম আমার এ কাজে আমার শ্রেণির পারগ শিক্ষার্থীদের কিভাবে কাজে লাগানো যায়, এ ভাবনা থেকেই আমার “রিডিং হেল্পার” টিম গঠন করা।
আমার আইডিয়াটিকে কাজে লাগানোর জন্য আমি প্রতিদিন নিয়মিত পাঠ শেষ করে ক্লাসের শেষ ১০ মিনিট এবং প্রতি পাঠ শেষের বিরতির ১০ মিনিট থেকে ৫ মিনিট নিয়ে মোট ১৫ মিনিট ব্যয় করি। আমার রিডিং হেল্পাররা আনন্দের সাথে এ কাজটিতে আমাকে সহায়তা করে থাকে। আমিও রিডিং হেল্পারদের উৎসাহিত করার জন্য সাপ্তাহিক সেরা হেল্পারকে পুরুষ্কৃত করি। এভাবেই চলছে আমার রিডিং দক্ষতা উন্নয়নের কাজ।
ফলে আমার শ্রণিতে এখন রিডিং পারা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০% এর উপরে, যেটা শুরুতে ছিলো ১০% এর মতো। আশা করছি শীঘ্রই শতভাগ শিক্ষার্থী দেখে দেখে পড়তে পারবে ইনশাআল্লাহ।