প্রভাষক
২৭ জুলাই, ২০২৩ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ প্রথম অধ্যায়
ক্রায়োসার্জারি:
গ্রিক শব্দ ক্রাউস(kruos) থেকে ক্রায়ো (Cryo) শব্দটি এসেছে যার অর্থ বরফের মতো ঠাণ্ডা এবং ‘সার্জারি’ অর্থ শৈল্য চিকিৎসা। অর্থাৎ ক্রায়োসার্জারি হলো এক ধরণের চিকিৎসা পদ্ধতি যাতে অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগ করে শরীরের অস্বাভাবিক বা রোগাক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংস করা হয়। ক্রায়োসার্জারিকে অনেক সময় ক্রায়োথেরাপি বা ক্রায়োবায়োলেশনও বলা হয়।
ক্রায়োজনিক এজেন্ট:
এই পদ্ধতিতে রোগাক্রান্ত অংশ হিমায়িত করার জন্য নিমোক্ত ক্রায়োজনিক এজেন্ট বা গ্যাসগুলো ব্যবহার করা হয়-
তরল নাইট্রোজেন
তরল আর্গন গ্যাস
তরল কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস
ডাই মিথাইল ইথাইল প্রোপ্রেন ইত্যাদি।
ব্যবহার পদ্ধতিঃ
তরল নাইট্রোজেনকে স্প্রে করার জন্য ক্রয়োগান ব্যবহার করা হয়।
বহিরাগত টিউমারের ক্যানসার কোষে একটি সুচ, তুলা বা স্প্রেয়ার দিয়ে সরাসরি তরল নাইট্রোজেন প্রয়োগ করা হয়।
অভ্যন্তরীণ টিউমারের ক্ষেত্রে, ক্রয়োপ্রোব (Cryoprobe) নামক একটি ফাঁপা উপকরণ দিয়ে তরল নাইট্রোজেন বা ক্রায়োজনিক এজেন্ট টিউমারের সংস্পর্শে সঞ্চালন করা হয়। এ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা আলট্রাসাউন্ড বা এমআরআই (MRI) ব্যবহার করেন।
ক্রায়োপ্রোব টিউমারকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং জমাটবদ্ধ কোষ নিরীক্ষণ করতে যাতে চারপাশের সূক্ষ্ম টিস্যুগুলোর ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হয়।
ক্রায়োসার্জারি যেভাবে কাজ করে
এই পদ্ধতিতে প্রথমে আলট্রা সাউন্ড বা এমআরআই(MRI) যন্ত্র ব্যবহার করে রোগাক্রান্ত কোষ বা টিস্যু চিহ্নিত করা হয়। তারপর ক্রায়োপ্রোব বা ইমেজিং যন্ত্রের সাহায্যে রোগাক্রান্ত কোষে বিভিন্ন ক্রায়োজনিক এজেন্ট যেমন- তরল আর্গন গ্যাস প্রয়োগ করা হয়। ফলে কোষের তাপমাত্রা ১০-১২ সেকেন্ডের মধ্যে -১২০ থেকে -১৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। তাপমাত্রা অত্যাধিক হ্রাসের কারণে কোষের পানি জমাটবদ্ধ হয়ে ঐ টিস্যুটি বরফপিণ্ডে পরিণত হয়। বরফপিণ্ডে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধের কারণে টিস্যুটির ক্ষয় সাধিত হয়। পূনরায় ইমেজিং যন্ত্রের সাহায্যে কোষের ভিতরে হিলিয়াম গ্যাস নিঃসরণের মাধ্যমে তাপমাত্রা ২০oc থেকে ৪০oc এ উঠানো হয়। তখন জমাটবদ্ধ কোষ বা টিস্যুটির বরফ গলে যায় এবং কোষ বা টিস্যুটি ধ্বংস হয়ে যায়।
ক্রায়োসার্জারি ব্যবহার
ত্বকের ছোট টিউমার , তিল , আচিল , মেছতা , ত্বকের ক্যান্সার চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারি ব্যবহার করা হয় ৷
ক্রায়োসার্জারি দ্বারা অভ্যন্তরীণ কিছু রোগ যেমন – যকৃত ক্যান্সার , প্রস্টেট ক্যান্সার , ফুসফুস ক্যান্সার , মুখের ক্যান্সার , গ্রীবাদেশীয় গোলযোগ , পাইলস ক্যান্সার , স্তন ক্যান্সার ইত্যাদির চিকিৎসাও করা হয় ৷
মানবদেহের কোষকলার কোমল অবস্থা Planter Fasciitis এবং Fibroma ক্রায়োসার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয় ৷
ক্রায়োসার্জারির সুবিধা ও অসুবিধা
ক্রায়োসার্জারির সুবিধা
ক্রায়োসার্জারির সুবিধা হলো এটি বারবার করা সম্ভব।
এটি সাধারণ সার্জারির চেয়ে কম বেদনাদায়ক।
ক্রায়োসার্জারি অন্যান্য চিকিৎসার চেয়ে কম ব্যয়বহুল।
এই পদ্ধতিতে তাপমাত্রা যখন হিমাঙ্কের নিচে নামানো হয় তখন সংশ্লিষ্ট স্থান হতে রক্ত সরে যায় এবং রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয় ফলে রক্তপাত হয় না বললেই চলে, হলেও খুব কম।
বহুল প্রচলিত কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি এবং বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের চেয়ে এই পদ্ধতির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কম।
ক্রায়োসার্জারির অসুবিধা
এই পদ্ধতিতে রোগাক্রান্ত কোষ বা টিস্যু শনাক্ত করার সময় যদি সঠিকভাবে অবস্থান শনাক্ত করা না যায় এবং ক্রায়োসার্জারি ব্যবহার করা হয় তাহলে সুস্থ কোষের ক্ষতি হতে পারে।
এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, তবে আশার কথা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ক্ষণস্থায়ী।
ত্বকের ক্যান্সারের চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারির ফলে ত্বক ফুলে যায়, স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্থ হয়, সংবেদনশীলতা হ্রাস পায়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তাদের ক্ষেত্রেই হয় যাদের প্রস্টেট গ্রন্থিগত সমস্যা রয়েছে।