ট্রেড ইন্সট্রাক্টর
০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৮:২৯ পূর্বাহ্ণ
সডিজি-৪-এর মূল লক্ষ্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা ও জীবনব্যাপী শিক্ষার প্রসার।
এসডিজি-৪ এর মূল লক্ষ্যই হলো সমাজের সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, দীর্ঘস্থায়ী ও গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা। সারাবিশ্বে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এডুকেশন ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (ইএসডি) বাস্তবায়নে গ্লোবাল অ্যাকশন গ্রহণ করা হয়েছে যেখানে সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকদের, প্রাতিষ্ঠানিক কর্তাব্যক্তিদের, শিক্ষাবিদ, যুবসম্প্রদায় ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত
করতে এবং ভর্তির হার বৃদ্ধি করতে এক বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু
করেছে। শিশুদের শৈশবে মাতৃভাষায় শেখার অধিকারের বিষয়টি মাথায় রেখে
ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক বই প্রকাশ করেছে।
এরফলে ২০১৬ সালে প্রাথমিক পর্যায়ে ভর্তির হার ৯৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং ঝড়ে পড়ার হার ২০ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে,বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি
বলেন, বছরের প্রথম দিনেই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ
এই সাফল্যের পেছনে কাজ করেছে। ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক
পর্যায়ে আমরা ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন পাঠ্যবই বিনামূল্যে বিতরণ করেছি। এটা
বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ বই বিতরণ কার্যক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা সামাজিক অন্তর্ভুক্তি সমর্থন করে, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা হ্রাস এবং তাদের ক্ষমতায়নে সাহায্য করে।
তিনি
বলেন, আমাদের স্যানিটেশন, পানি, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অবকাঠামো
উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য
এবং শিখন ফলাফলের উপর এর একটা ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। বিদ্যালয়ে তথ্য
প্রযুক্তি বিষয়ে পঠন শিক্ষাকে সহজ করবে, শিক্ষার্থীদের দক্ষতার উন্নয়ন
ঘটাবে এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের খাপ খাওয়াতে সাহায্য করবে।
সন্ত্রাস
ও জঙ্গিবাদ প্রসংগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদ, সহিংস উগ্রবাদ এবং
সশস্ত্র সংঘাত আজকের বিশ্বে মানবাধিকার, শান্তি এবং স্থিতিশীলতার প্রতি
হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। উদ্ভাবন, সমঝোতা এবং দূরদর্শী নীতির দ্বারা এসব
সমস্যার সমাধান সম্ভব। এসব বিষয়কে সামনে রেখে আমরা আমাদের শিক্ষাক্রম ও
শিক্ষা উপকরণ সংস্কার করছি।
শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উপর
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষকতা পেশায় যোগ্য ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করা
খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পেশার জন্য একটি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ
বিবেচনায় নিয়ে নীতিগত উপায় উদ্ভাবন এবং বিশেষ প্রণোদনার বিষয়ে চিন্তাভাবনা
করা যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে শিক্ষা আমাদের
কাছে একটি জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
রহমান নতুন দেশের জন্য সর্বজনীন শিক্ষাসহ বেশকিছু বলিষ্ঠ এবং দূরদর্শী
উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ঐসব দূরদর্শী উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালের মধ্যে
বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমতাভিত্তিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ও জীবনব্যাপী
শিখনের লক্ষ্য অর্জনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।